ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

প্রতি ১৬ জনে একটি পশু কোরবানি!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩০৩ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭
প্রতি ১৬ জনে একটি পশু কোরবানি! প্রতি ১৬ জনে একটি পশু কোরবানি, ছবি: কাশেম হারুন

ঢাকা: এবারের কোরবানির ঈদে ১ কোটি কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছে হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তাদের হিসাবে চলতি বছর মোট কোরবানির পশুর পরিমাণ দাঁড়াবে এক কোটি ১৫ লাখেরও বেশি। দেশের জন্যসংখ্যা অনুপাতে পশু কোরবানির হার দাঁড়াতে পারে প্রতি ১৬ জনে একটি করে পশু।

২০১৬ সালের কোরবানির ঈদে হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ১ কোটি পশুর চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছিলো। তবে কোরবানির তিন দিনে চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল ৭৫ লাখের কিছু বেশি।

বাকি চামড়া স্থানীয় আড়তদাররা সংগ্রহ করে পরে তা সরাসরি ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করায় সেই হিসাব নেই অ্যাসোসিয়েশন কাছে।

গত কোরবানির ঈদে সারা দেশে এক কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হবে বলে ধারণা করা হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী কোরবানিতে পশু জবাই হয়েছিল ১ কোটি পাঁচ লাখ।

এবার ১০ ভাগ হারে পশু জবাই বাড়তে পারে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ বছর দেশে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার কোরবানির পশু দেশের খামারি ও গৃহস্থরা সারা দেশের বিভিন্ন হাটে তুলবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর বাইরে ভারত ও মায়ানমার থেকেও কোরবানি উপলক্ষে প্রচুর পশু আসছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সে হিসেবে এবার এক কোটি ১৫ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০১৬ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিলো ১৬ কোটি ২৯ লাখ। ১.২ ভাগ হার জনসংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা সমীক্ষা-২০১৫-এর প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ছিলো প্রায় ১৬ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার।

এদিকে চলতি বছরের ৩০ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বছরের প্রথম দিনে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে মোট পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১০ লাখ এবং মহিলার সংখ্যা ৮ কোটি সাড়ে ৭ লাখ জন।

প্রতিবেদনে ধর্মভিত্তিক বিভাজনে দেখানো হয়েছে ২০১৬ সালে মুসলমান জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮৮ দশমিক ৪ ভাগ, যা ২০১২ সালে ছিল ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে এটি ছিল ৮৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ।

চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরলে প্রতি ১৬ জনের একজন একটি করে পশু কোরবানি দেবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবিকেই সমর্থন করছে।

সরকারি হিসাবে গত বছর (২০১৫) কোরবানির বাজারে ৪০ লাখ ৬১ হাজার গরু, ২১ লাখ ৯০ হাজার ছাগল ও ১ লাখ ৫৮ হাজার অন্যান্য পশু বিক্রি হয়। ২০১৬ সালের কোরবানিতে দেশের হাটগুলোতে এক কোটি ১৪ লাখ পশু বিক্রির জন্য উঠলেও কোরবানি হয়েছিলো এক কোটি পাঁচ লাখ।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর দেশে গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগলের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এরমধ্যে আসছে কোরবানির জন্য ৫ লাখ খামারি ও গৃহস্থর বাড়িতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু। যা সম্ভাব্য মোট চাহিদার প্রায় ৯৬ শতাংশ। তবে ২০১৬ সালের কোরবানিতে জবাই হওয়া পশুর চেয়ে প্রায় ১২ লাখ বেশি বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে এবার কোরবানিতে পশু জবাইয়ের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়তে পারে ধারণা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের।

মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, সারাদেশে গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়ার মধ্যে গরু ও মহিষ ২ কোটি ৩৮ লাখ এবং ছাগল-ভেড়া ২ কোটি ৬০ লাখ। আর কোরবানির ঈদে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া আছে ৭১ লাখ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেবে, গত বছর কোরবানির ঈদে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ পশু জবাই হয়। এবার বন্যা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক না হলে আসছে ঈদে পশুর চাহিদা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক বাংলানিউজকে বলেন, দেশে যে পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আছে তা দিয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। সারা বছর প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। সে হিসাবে কোরবানির সময় ১ কোটি ১৫ লাখের মতো গবাদিপশু দরকার হবে। এ পরিমাণ গবাদিপশু দেশের খামারি ও গৃহস্থের ঘরে রয়েছে।

 

হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নওয়াব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এবার এক কোটি ১০ লাখের বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আমরা অন্ত এক কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহ করতে চাই। বাকিটা ট্যানারি মালিকরা সরাসরি সংগ্রহ করবেন। তবে হাওড় এলাকায় আগাম পাহাড়ি ঢল ও দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কোথাও কোথাও দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা হওয়ায় সে সংখ্যা কিছুটা কমতেও পারে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯০১ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
আরএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa