ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

প্রকাণ্ডদেহী মহিষে মজেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
প্রকাণ্ডদেহী মহিষে মজেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী প্রকাণ্ডদেহী মহিষে মজেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। ছবি: জিএম মুজিবুর- বাংলানিউজ

ঢাকা: গাবতলী পশুর হাটের পশ্চিম পাশের তুরাগ তীর ঘেঁষে এক সময় হাতেগোনা কয়েকটি প্যান্ডেলে স্বল্প পরিসরে মহিষ বেচা-কেনা হতো। আর এখন হাটের বড় একটি অংশ এই প্রকাণ্ডদেহী কালো প্রাণীটির দখলে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এবারও তীর থেকে শুরু করে হাটের মাঝখানের অনেক প্যান্ডেলে চলছে মহিষ বেচা-কেনার ধূম।  

মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষেরা মহিষ কোরবানি দেওয়ার এ প্রচলন বাড়িয়েছেন। অনেক আগে ওই জেলার একজনকে কোরবানি দিতে দেখে ধীরে ধীরে অসংখ্য কোরবানিদাতা সেদিকে ঝুঁকে পড়েন বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা।

 

তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের কাছে মহিষ এখন অনেক প্রিয়। হাটে ১০০টি মহিষ বিক্রি হলে ৮০টিই কেনেন তারা। গাবতলীর হাট থেকে কিছু ব্যাপারী মহিষ কিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্রি করেন। আবার ঢাকার বাসিন্দা জেলাটির মানুষেরা সরাসরি এসে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বেশ কয়েকজন মিলে এসে মহিষ কিনে বাড়িতে নিয়ে কোরবানি দেন। ঢাকার অন্য হাট ও চট্টগ্রামের ব্যাপারীরাও এখান থেকে মহিষ কিনে নিয়ে সেসব এলাকার ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে বিক্রি করেন।
 
মহিষের মাংস পরম গুণ বৃদ্ধিকারক। শরীরের বল, উৎসাহ ও দৃঢ়তা বাড়ায়। মহিষের মাংস মোটা আঁশযুক্ত (ফাইবার) হওয়ায় খেতে সুস্বাদু, অ্যালার্জি নেই বললেই চলে, গরুর মাংসের চেয়ে পুষ্টিগুণে বহুগুণে ভালো এবং কোলেস্টেরল ও ফ্যাটের পরিমাণ কম। নানা রোগে ভোগা মানুষেরা গরুর মাংস খেতে পারেন না, কিন্তু এ মাংসে অসুবিধা নেই। এসব কারণেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষেরা কোরবানির ঈদে মহিষ বেছে নিয়েছেন বলে মনে ব্যাপারীরা। প্রকাণ্ডদেহী মহিষে মজেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।  ছবি: জিএম মুজিবুর- বাংলানিউজকোরবানির ঈদের আর মাত্র দু’দিন বাকি। শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে কোরবানির বেচা-কেনাও। গরু-ছাগলের পাশাপাশি এবার প্রকাণ্ডদেহী মহিষের কদরও বেড়েছে।  

বুধবার (৩০ আগস্ট) গাবতলীর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রাক ভর্তি মহিষ নামছে, বিক্রিরও ধূম পড়েছে। গরুর চেয়ে মহিষের দামও কম। ৫ মণ মাংস পাওয়া যাবে- এমন মহিষ ৯৫ হাজার টাকায়ই মিলছে এ হাটে।
সবচেয়ে বড় মহিষ দেখা গেছে পাবনার মেহের ব্যাপারীর প্যান্ডেলে। ২৫ মণ মাংস পাওয়া যাবে- এমন মহিষের দাম হেঁকেছেন ৮ লাখ টাকা।  

কুষ্টিয়ার রুবেল প্রামাণিক গাবতলী হাট থেকে মহিষ কিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী মইষ ছাড়া কিছুই কুরমানি (কোরবানি) দেয় না। ১০০ জনের ৮০ জনই মহিষ কুরমানি দেয়। মহিষের গোসে কোনো রোগ বালা নাই’।

অন্য প্যান্ডেলগুলোতেও সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত মহিষ। কোনো মহিষের দেহে ইংরেজি ‘কে’ বর্ণ লেখা আর কোনোটায় আবার ছাতা মার্কার সংকেত।  

ব্যাপারীরা জানান, শংকর প্রজাতির এসব মহিষ ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হরিয়ানা রাজ্য থেকে আসা। বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে আনা হয়েছে সেগুলো। সীমান্ত এলাকা থেকেই মালিকানা চিহ্নিত করতে এসব সংকেত দেওয়া হয়েছে।  

নগরীর বাসাবো থেকে মহিষ কিনতে এসেছেন হাজী ফজলুল হক (৬৫)। ২০ বছর ধরে মহিষ কোরবানি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।  প্রকাণ্ডদেহী মহিষে মজেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।  ছবি: জিএম মুজিবুর- বাংলানিউজ
ফজলুল বলেন, ‘মহিষের মাংসে কোনো রোগ বালাই নেই। গরুর মাংস একবার খেলে আর রুচি হয় না। কিন্তু মহিষের মাংস বার বার খেলে সমস্যা নেই, শুধুই খেতে মন চায়। আমার এলার্জির সমস্যা। ডাক্তার গরুর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। সেজন্য সব সময় বাসায় মহিষের মাংস কেনা হয়, কোরবানিও দেওয়া হয়। পরিবারের সকলেও মহিষের মাংস পছন্দ করে’।
 
চাপাইনবাবগঞ্জের শহিদ ব্যাপারী  বলেন, ‘মইষের বেচা-কিনি সব সময় ভালো থাকে, টানও ভালো। বান্দা গাহাকরা (ক্রেতা) কেনে। হাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ কুরবানিতে মইষ ছাড়া কিছু লিচে নাকো’।
 
সাত মণ মাংস পাওয়া যাবে- এমন মহিষ এক লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন আলা হক মুন্সি। তিনি বলেন, ‘মহিষের মাংসে কোনো রোগ নাই। গোস দিয়ে ভাত খাওয়ার পর হাতে কোনো চর্বি লাগে না, প্লেটও ধোয়াও লাগে না। এলার্জি নেই, দেহের জন্য একদম ভালো। মহিষের মাংস যতোই খাই, কোনো উদ্বেগ (হাস ফাঁস করা) আসে না’।

এবার কোরবানির জন্য এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে মহিষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়াবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।
 
বাংলাদেশ সময়: ০০৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭ 
এমআইএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa