ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

খাটিয়া-খড় বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৮-৩০ ০৩:১৮:৫৯ পিএম
খাটিয়া-খড় বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন কোরবানি ঘিরে খাটিয়া বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন- ছবি- ইকরাম-উদ দৌলা

ঢাকা: ঈদুল আযহা একেবারে দোরগোঁড়ায়। কোরবানির পশুর হাটে তাই রমরমা অবস্থা। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই যার যার পছন্দের পশু কিনছেন। সেই সঙ্গে কিনতে হচ্ছে পশুর জন্য খাবারও। আর এসব খাবারের যোগান নিয়ে হাটগুলোতে এসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ থেকেই তারা করে নিচ্ছেন বাড়তি উপার্জন।

সরেজমিন মিরপুর ও গাবতলীসহ বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এক শ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে খড় বা কাঁচা ঘাস নিয়ে বসেছেন। কেউবা নিয়ে এসেছেন কাঁঠাল পাতা।


 
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো বেশিরভাগই অন্য পেশার সঙ্গে জড়িত। কোরবানি ঈদ এলেই তারা তিন-চারদিনের জন্য পশু খাদ্য বিক্রি করেন। এতে মুনাফাও ভালো হয়। তবে এবার বন্যার কারণে মুনাফা কিছুটা কম হচ্ছে। কেননা, ক্রয়মূল্য এবার বাড়তি। কিন্তু এ নিয়ে তাদের তেমন মাথা ব্যাথা নেই। বাড়তি আয় যা হয়, তাতেই খুশি।
 
তাদের পাশাপাশি আরেক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে, যারা পশু কাটার জন্য খাটিয়া বিক্রি করেন। তাদের আবার একটু পরিশ্রম বেশি। আবার লাভও বেশি। কেননা, এসব খাটিয়া তৈরি করতে হয় তেঁতুল গাছ কিনে। আর তেঁতুল গাছ এমনিতেই কম। তারওপর বন্যা হয়েছে। ফলে তেমন গাছ কাটা যায়নি।

বাড়তি আয়ের জন্য খড় নিয়ে বসেছেন এ বিক্রেতা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার প্রতি আঁটি খড় হাট পর্যন্ত আনতে তাদের পাঁচ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। আর বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ ‍টাকা করে। অর্থাৎ আঁটি প্রতি মুনাফা হচ্ছে ৫ টাকা। গত বছর আঁটি প্রতি তাদের খরচ হয়েছির দুই থেকে তিন টাকা। প্রায় সব ব্যবসায়ীই কমপক্ষে ১০ হাজার আঁটি নিয়ে বসেছেন। তাদের ধারণা ৫০ হাজার টাকার মতো মুনাফা হবে।
 
খড় ব্যবসায়ীরা ফুরফুরে মেজাজে হলেও কাঁঠাল পাতা আর কাঁচা ঘাস ব্যবসায়ীরা একটু বেজারই। কেননা, খড়ের মতো আঁটি প্রতি ক্রয়মূল্য এবং বিক্রয়মূল একই হলেও তুলনামূলক ক্রেতা কম এ দুই পশু খাদ্যের। ফলে খুব একটা লাভ হচ্ছে না তাদের।
 
খাটিয়া বিক্রেতারা একটু বেশিই ফুরফুরে রয়েছেন। কেননা, পশু কাটতে হলে এ উপকরণ লাগবেই। তাই বিক্রিও হচ্ছে বেশ। ছোট, মাঝারি এবং বড় খাটিয়া যথাক্রমে ২শ’, ৩শ’ এবং ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম শেষে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মুনাফা হবে বলে ধারণা করছেন একেক ব্যবসায়ী।

কেউ কেউ এনেছেন কাঁঠাল পাতা
গাবতলী পশুর হাটের মৌসুমি খড় ব্যবসায়ী মো. জালাল বগুড়া থেকে এসেছেন। সারাবছর স’ মিলে কাজ করেন। বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি আঁটি খড় হাট পর্যন্ত আনতে খরচ হয়েছে ৫ টাকা করে। বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। ১৩ হাজার আঁটি এনেছেন তিনি। এতে অন্তত ৫০ হাজার টাকা বাড়তি উপার্জন হবে তার।
 
দুই ব্যবসায়ী আরশেদ, তাদের নিজের এলাকা ঘাটাইল থেকে ১৮টি তেঁতুল গাছ কিনে হাট পর্যন্ত আনতে ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা। মোট খাটিয়া হয়েছে ৪শ’টি। গড়ে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে তাদের মোট আয় হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদে এ দুই বন্ধুর প্রতিজন ৪১ হাজার টাকা করে মুনাফা করবেন বলে আশা করছেন। এই দুই বন্ধুই অন্যের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।
 
পাটুরিয়ারঘাট এলাকার রিকশা চালক মো. আরিফ এনেছেন কাঁঠালপাতা আর কাঁচা ঘাস। বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি আটি পাঁচ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১০ টাকায়। প্রতিদিন এক হাজার আঁটি আনেন। আঁটি প্রতি পাঁচ টাকার মুনাফা হচ্ছে তার। ধারণা করছেন, ঈদের এ ক’দিনে ২০ হাজার টাকার মতো মুনাফা হবে।
 
বাংলাদেশ সময়: ২১১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
ইইউডি/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa