ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

সীমান্তঘেঁষা দিনাজপুর হাটে নেই ভারতীয় গরু!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫১ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
সীমান্তঘেঁষা দিনাজপুর হাটে নেই ভারতীয় গরু! শতভাগ দেশি গরু দিয়েই জমেছে সীমান্তবর্তী হাট। ছবি: বাংলানিউজ

দিনাজপুর থেকে: ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দিনাজপুরের ফসিলাডাঙ্গার কোরবানির পশুর হাট জমেছে শতভাগ দেশি গরু দিয়েই। সেখানে একটি ভারতীয় গরুও আসেনি বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাবে দিনাজপুর শহর (জিরো পয়েন্ট) থেকে ৮ কিলোমিটার ও সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরের হাটটিতে স্থানীয়দের মাঝে তেমন কোনো বেচা-বিক্রি নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনার পাইকারি ব্যবসায়ীরাই মূলত গরু কিনতে আসছেন।

বুধবার ও শনিবার গরু-ছাগলের এ হাটটি বসে। সামনের শনিবার (০২ সেপ্টেম্বর) ঈদ-উল আযহা, তাই বুধবার (৩০ আগস্ট) ছিল কোরবানির আগের শেষ হাট।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, এ এলাকার সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে তাঁরকাটা দিয়ে ঘেরা। তাই একটি গরুও আসতে পারে না ভারত থেকে। কোরবানিকে সামনে রেখে জেলার বেশ কিছু খামারে অসংখ্য গরুকে মোটা-তাজা করা হয়। ফলে দেশি গরুই এ হাটে উঠছে। কিন্তু কিছুদিন আগের বন্যায় স্থানীয় ক্রেতা কমে গেছে। গরুর দামও তেমন একটা পাচ্ছেন না খামারিরা।

বন্যার প্রভাবে স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝে বেচা-বিক্রি কম।  ছবি: বাংলানিউজবিরল উপজেলার খামারি হাশেম আলী বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবার গরুর দাম পড়তির দিকে। সবই লোকাল গরু। বন্যায় খাদ্যের অভাবে গরু মোটা-তাজা করা ব্যাহত হয়েছে। তাছাড়া ধনী কৃষকদের আবারও ধান রোপণ করতে হচ্ছে। তাই তারাও এককভাবে কোরবানি না দিয়ে যৌথভাবে দিচ্ছেন। এসব কারণে স্থানীয় ক্রেতা খুবই কম’।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার ছোট-বড় খামারি ও গৃহস্থ মিলিয়ে এবার সোয়া এক লাখ গরু ও প্রায় ৭৫ হাজার ছাগল লালন-পালন করেছেন। উন্নত হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির গরু মোটা-তাজা করা হয়েছে এসব খামারে।

সদরের খামারি মিজানুর রহমান জানান, এবার তেমন একটা গরু বিক্রি হয়নি তাদের। তাই লাভ না পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী রফিক ব্যাপারী বলেন, ‘আমার মতো দশজনের মতো বাইরের গরু ব্যবসায়ী এ হাটে এসেছেন। আমি কম-বেশি ৪০ হাজার টাকা দরে ২০টি গরু কিনেছি। প্রতিটি গরু ঢাকায় নিয়ে যেতে ট্রাক ভাড়াসহ সব মিলিয়ে খরচ পড়বে আরও ২ হাজার টাকা করে। এসব গরু অনায়াসে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। ৮০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকার গরুও বেশ কয়েকটি আছে। এগুলো ঢাকায় দেড়গুণ দামে বিক্রি হবে বলেও মনে করি’।

মূলত বাইরে থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে এ হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে যান।  ছবি: বাংলানিউজতবে এতো গরু নগদ টাকায় কিনে ঢাকায় নিয়ে যেতে স্থানীয় অনেক মানুষের সহযোগিতা লাগে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৬ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
কেজেড/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa