ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

শেষ মুহূর্তের আশায় ক্রেতা-বিক্রেতারা!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
শেষ মুহূর্তের আশায় ক্রেতা-বিক্রেতারা! ক্রেতাশূন্য হাটে অলস সময় কাটছে বিক্রেতাদের। ছবি: কাশেম হারুন

ঢাকা: রাজধানীর আফতাবনগর গরুর হাট এখন পর্যন্ত প্রায় ক্রেতাশূন্য। দুই একজন ক্রেতা এলেও কোরবানির পশুর দাম-দর যাচাই করে চলে যাচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে একটু কম দামের আশায় আছেন তারা।

আবার দাম কম দাবি করে এখনই গরু ছাড়ছেন না বিক্রেতারা। তাদেরও আশা, শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠলে দাম ন্যায্য ও বেশি পাবেন।

 

তবে ঈদ-উল আযহার দু’দিন আগে বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) থেকে এ হাট জমবে বলে আশা করছেন গরু বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।  

বুধবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আফতাবনগর হাট ঘুরে জানা গেছে, এখনো হাট না জমার পাশাপাশি পশুর মূল্যও তুলনামূলকভাবে কম। বিক্রেতারা দাম কম হওয়ায় গরু ছাড়ছেন না। আবার ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। শেষ মূহুর্তে কেনা-বেচার অপেক্ষা করছেন দু’পক্ষই।

নাটোরের গরু ব্যবসায়ী মো. উজ্জ্বল জানান, গত রোববার (২৭ আগস্ট) ১১টি গরু নিয়ে এ হাটে এসেছেন তিনি। চারদিনে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। আবার যে দাম বলছেন, সে দামে ছেড়ে দিলে লোকসান হয়।

সাদা রঙের একটি গরু দেখিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘এটির দাম ৩ লাখ টাকা চাচ্ছি। কিন্তু এখনও তেমন একটা দাম ওঠেনি। সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। আবার কেউ কেউ দাম শুনে কোনো কথা না বলেই চলে যাচ্ছেন’।  

কোরবানির পশু এলেও এখনো জমেনি হাট।  ছবি: কাশেম হারুনবেশ কিছুক্ষণ ধরে হাটে ঘুরছিলেন ক্রেতা আমানউল্লাহ। পছন্দমতো গরু দেখছেন, দাম শুনছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘গরু দেখছি, আজ কিনবো না। দাম মনে হচ্ছে খুব একটা বেশি নয়। গতবারের মতোই। তবে বিক্রেতারা বেশি চাচ্ছেন’।

কোনো কোনো ব্যবসায়ী জানান, হাটে গরুর কেনার পর হাসিল দেওয়ার সময় প্রকৃত দামের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বাজারে গরুর দাম কমের একটা আওয়াজ আছে। ক্রেতারা মনে করছেন, গরুর দাম কম। তাই তারাও কম বলছেন।

কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী তকিবুল বলেন, ‘গরু কেনার পর ক্রেতারা হাসিল কমাতে বিক্রেতাদেরকে দাম কম বলতে বলেন। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে হাসিল দিতে গিয়ে বলেন ৮০ হাজার টাকা। তারা আমাদের বলেন, আপনাদের সমস্যা কি? দাম কম বলবেন। এ কারণে বাজারে কম দামের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যরা কিনতে এসে সেভাবেই দাম বলেন’।

হাট এখনও জমজমাট না হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের অনেকেই মনে করছেন, দাম কমার আশায় ক্রেতারা বসে আছেন। আগে কিনলে গরু রাখার জায়গা ও খাওয়ানোরও সমস্যা আছে। এসব কারণে সবাই শেষ মহূর্তে কিনতে চায়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে এ হাট জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।

দাম শুনে চলে যাচ্ছেন ক্রেতারা।  ছবি: কাশেম হারুনচুয়াডাঙ্গার গরু ব্যবসায়ী আশরাফুল বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধরে এ হাটে আসি। আসলে মানুষ শেষ মুহূর্তে কেনার অপেক্ষায় থাকেন। অনেকেই মনে করেন- বেশি গরু এলে দাম কমবে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার হাট জমবে’।

ক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আসলে গরু কিনে রাখার জায়গার সমস্যা আছে, খাওয়ানোর সমস্যা আছে। আগে থেকে কিনলে দুর্বল হয়ে যায়। বৃহস্পতি-শুক্রবারের মধ্যে সবাই কিনে ফেলবেন’।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৬ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
এসকে/এএসআর

** ভারতের গরুর কারণে দাম কমার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa