ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মাংস কাটতে খাটিয়ার কদর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭০৩ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
মাংস কাটতে খাটিয়ার কদর খাটিয়া। ছবি: আরিফ জাহান

বগুড়া: গাছের গোড়ার দিকের কাঠ। প্রত্যেকটা গোলাকার। চারপাশটায় গাছের তাজা ছালবাকল। নিচটা সমতল। মাংস কাটার কাজে ব্যবহার করা হয় এ কাঠ। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে খাটিয়া। এই খাটিয়া সারা বছর ব্যবহার করেন কসাইরা।

তবে প্রত্যেক বছর কোরবানি ঈদের সময়ে এসব কাঠের আলাদা কদর দেখা যায়। কোরবানির পশুর মাংস কাটার জন্য সাধারণ মানুষ এসব খাটিয়া ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

খাটিয়া তৈরিতে তেঁতুল গাছের কাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ অন্য কাঠের তুলনায় এ কাঠের দা-ছুরির আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি।

ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত খাটিয়া ব্যবসায়ীরা। শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন তারা। থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন এসব কাঠের খাটিয়া।

বুধবার (৩ আগস্ট) বগুড়া শহরের রাজাবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে পশুর মাংস কাটার খাটিয়া বিক্রির এমন দৃশ্য নজরে পড়ে।

খাটিয়াগুলো একটির ওপর আরেকটি রাখা। ক্রেতাকে দেখাতে অনেক সময় খাটিয়াগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। পর মুহূর্তেই সেগুলো আবার গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাটিয়া বিক্রেতারা। কাঠের তৈরি খাটিয়াগুলো থরে থরে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টি কাড়তে একটু পরপরই সেগুলো ঠিকঠাক করেন দোকানিরা।

খাটিয়া।  ছবি: আরিফ জাহান তবে আগের মত বেচাবিক্রি নেই। সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সবকিছু সহজে করতে চায় মানুষ। আগে সারা বছরই কমবেশি এসব খাটিয়া বিক্রি হতো। এখন শুধু কোরবানির ঈদ এলেই বিক্রিটা বেড়ে যায়। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

দয়াকর, দূর্গা, জীবনান্দসহ একাধিক খাটিয়া ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে জানান, বংশ পরম্পরায় এ ব্যবসা করে আসছেন তারা। কিন্তু আগের মত খাটিয়ার ব্যবসা নেই। তবে প্রত্যেক কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তারা এ ব্যবসায় নামেন। খাটিয়া বিক্রি করতে শহরে আসেন। এবারো অনেক খাটিয়া নিয়ে শহরে এসেছেন তারা।
 
তারা আরো জানান, কাঠের মধ্যে তেঁতুল গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত। প্রত্যেক বছর এ সময়ে বিভিন্ন ‘ছ’ মিল ও মহাজনের কাছ থেকে কাজে লাগে না -এমন সাইজের ছোট ছোট কাঠের গুড়ি ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো মাংস কাটার উপযোগী করে নির্দিষ্ট মাপে কেটে খাটিয়া তৈরি করেন।   খাটিয়ার ‍ওপরের ও নিচের অংশ সুন্দরভাবে কেটে সমতল করেন।

এসব ব্যবসায়ী জানান, অন্য গাছের খাটিয়া দা বা ছুরির আঘাত তেমন একটা সহ্য করতে পারে না।   এতে কাঠ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরো ওঠে মাংসে আটকে যায়। যা পরে মাংস থেকে ছাড়াতে বেশ বেগ পেতে হয়।

কিন্তু তেঁতুল গাছের কাঠ শক্ত ও মজবুত হওয়ায় সাধারণত এমনটি খুব কম হয়। প্রতি পিস কাঠের তৈরি এসব খাটিয়া ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় বলে যোগ করেন  ব্যবসায়ীরা।

আবু তালহা, মাজহারুল ইসলাম, রুম্মান বারীসহ একাধিক ক্রেতা বাংলানিউজকে জানান, ঈদের নামাজ পড়ে এসে পশু কোরবানি দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। তখন জিনিসপত্র খোঁজাখুঁজি করা বা অন্যের কাছ থেকে নেওয়া অনেকটা বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায়। তাই মাংস কাটার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস খাটিয়া ক্রয় করেন তারা।

বাংলাদেশ সময়:  ১৩০০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০১৭
এমবিএইচ/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa