ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

সহায় সম্বল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৪৩ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৭
সহায় সম্বল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি ছবি-বাংলানিউজটোয়েটিফোর.কম

কুষ্টিয়া: সহায় সম্বল সবটুকু নিয়ে যাচ্ছি ঢাকায়। তবে ঢাকার পশু হাটের যে অবস্থা শুনছি তাতে কি আছে কপালে কেউ জানে না। লাভ হবে কি লস।

ভারতীয় গরু এসেছে ঢাকার কোরবানির পশুর হাটে তাহলে আমাদের দেশের গরুগুলোর কি হবে? এত কষ্ট করে নিজে না খেয়ে গরুকে খাওয়ায়ে এখন যদি লস হয় তাহলে আর কী করার আছে।  

সোমবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলানিউজকে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষক আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অনেক সাধ করে একটা মাত্র গরু কিনে সেটাকে লালন-পালন করে বড় করেছি। গরু কেনার সময় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। তারপরে গো-খাদ্যের দামও বেশি। আবার কোরবানির ঈদের সামনে ভারতীয় গরু আসে। ফলে আমরা গরুর দাম পাই না।

তিনি আরো বলেন, সহায় সম্বল বলতে এই একটাই গরু। একে ঘিরেই যত স্বপ্ন। বাড়িতে ভালো দাম না পাওয়ায় সেটাকে নিয়েই যাচ্ছি ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, নগদ টাকার চেয়ে বাকীতে গরুর কেনার লোক বেশি। গরু ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রির পরে টাকা দেবে এই শর্তে গরু কিনছেন মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা।

ছবি-বাংলানিউজটোয়েটিফোর.কমমৌসুমী গরুর ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমার নিজের কোনো গরু নেই। নগদ টাকায় গরু কিনে ব্যবসা করার মতো অত টাকাও নেই। বাকীতে গরু কিনেছি ১০টা। সেগুলোকেই নিয়ে যাচ্ছি ঢাকার বকুলতলা পশুর হাটে। যদি দাম ভালো পাই তাহলে লাভ হবে আর না হলে সহায় সম্বল যা আছে সব যাবে।
 
তিনি আরো বলেন, ৩টি গরুর জন্য একজন করে রাখাল দরকার হয়। রাখাল প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। তার সঙ্গে থাকা এবং খাওয়া। তারপরেও রয়েছে গাড়ি ভাড়া। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ভাড়ার পরিমাণও বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ৬টি উপজেলায় ২০ হাজার ৫৮৬টি খামারির প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তত রয়েছে। এর মধ্য গরু প্রায় ৯৩ হাজার, ছাগল ৬৬ হাজার ও ভেড়া ৩ হাজারের মতো। এগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আসাদুল হক বাংলানিউজকে জানান, এবারে কৃষক ও খামারিরা আশঙ্কা করছেন, ভারত থেকে গরু এলে তারা দাম পাবেন না। তাই চরম দুঃশ্চিন্তায় আছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ গরু-ছাগল আছে, তা দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা মিটে যাবে।

তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে খামারি ও ব্যাপারিরা ট্রাক বোঝায় করে কোরবানির পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৬ ঘণ্টা, ২৮ আগস্ট, ২০১৭
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa