ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

সুলতানের চেয়ে বাদশার দাম বেশি!

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪৩ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৭
সুলতানের চেয়ে বাদশার দাম বেশি! এ গরুটির নাম সুলতান। ছবি: বাংলানিউজ

ফেনী: সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল মোড় পশুর হাটে পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী সাগর মিয়া। তার সবকটি গরু দেখার মতো, রঙ এবং শরীরে গঠনের কারণে আকৃষ্ট হতে হয় সব ক্রেতাকেই।

সাগর আদর করে একটি গরুটির নাম দিয়েছেন বাদশা। হালকা-লাল গরুটির গায়ের রঙ।

 ব্যাপারী তাই বাদশার দাম হাঁকিয়েছেন তিন লাখ। জেলার বৃহত্তম এ গরুর হাটে আসা প্রত্যেক ক্রেতাই একবার হলেও দেখেছেন বাদশাকে। কেউ কেউ সাহস করে দামও করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নেওয়া হয় না। ব্যাপারীর এক কথা তিন লাখ টাকার কমে গরুটি বিক্রি করবো না।
 
অবশ্য এ নিয়ে তার যুক্তিও আছে- তিনি জানান, দীর্ঘদিন গরুটিকে লালন-পালন করতে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চাইতেও বেশি। তাই এ দামের কমে গরুটি বিক্রি করবে না তিনি।

ব্যাপারী সাগর বাংলানিউজকে বলেন, নিজস্ব খামারে গরুটিকে খাওয়ানো হতো ভূষি, কাঁচা এবং শুকনো খড়, খৈল, ভাত এবং ভাতের মাড়। এ গরুটির নাম বাদশা।  ছবি: বাংলানিউজপরম আদরে পালন করা গরুটির শরীরে কোনো রাসায়নিক প্রবেশ করাননি বলে জানান সাগর।
 
বাদশার ব্যাপারে অলোচনা শেষে কিছুদূর হাঁটার পর চোখে পড়লো কালো এবং খয়েরী রঙয়ের মিশ্রণে আরেকটি ষাঁড়ের।

ফেনী শহরের জেল রোড এলাকার ব্যবসায়ী আজগর আলীর পছন্দ হলে গেলো গরুটি।
 
এ গরুর ব্যাপারী ফেনী শহররে আলোকদিয়া গ্রামের টিটু মিয়া বাংলানিউজকে জানান,  ঘর-গৃহস্থে পালিত ষাঁড়টির নাম সুলতান। দাম হাঁকানো হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বেশ কিছুক্ষণ দামা-দামী করার পরও ব্যাপারী তার কথা থেকে নড়লেন না। ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন তিনি।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে পশুর খাবারে যে মূল্য তাতে তিনি পোশাতে পারবে না কমে বিক্রি করলে।  

ঈদুল আজহার বাকী আর মাত্র ৪দিন। সোমবার (২৮ আগস্ট) ফেনী সদর হাসপাতাল মোড় পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় চাহিদার তুলনায় গরু থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা অনেক। তবে হাটে আসা লোকজনের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো।  

তবে যারা আসছেন তারা গরু দর-দাম করেই সময় কাটাচ্ছেন। জেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের হাটেও একই অবস্থা।

হাটে গরু-ছাগল বিক্রির জন্য তোলা হলেও ক্রেতা ছিল একেবারেই নগন্য। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাটে ব্যবসায়ীরা গরু আনতে শুরু করেছেন। হাটে যে পরিমাণ গরু এসেছে তাতে বড় ধরনের কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা না হলে দাম সহনীয় থাকবে। এতে করে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ  লোকসানের আশঙ্কাও করছেন। বাজারে গরুর তুলনায় দাম সহনীয় থাকায় ক্রেতারাও সময় কাটাচ্ছেন।  

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) থেকে পুরোদমে হাটে বেচাকেনা শুরু হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।  

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় ৩৭টি, সোনাগাজী উপজেলায় ১৯টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১৬টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৬টি, পরশুরাম উপজেলায় ৮টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২০টি গবাদি পশুর হাট বসেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ ঘণ্টা ২৮ আগস্ট ২০১৭
এসএইচডি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa