ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

‘চারদিনে ২৬টি গরুতে মাছিও বসছে নানে’

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৭
‘চারদিনে ২৬টি গরুতে মাছিও বসছে নানে’ কোরবানির ঈদের চারদিন আগেও জমে ওঠেনি গাবতলী হাটের বেচা-কেনা। ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: কুষ্টিয়া সদরের সিদ্দিক (৪০) ব্যাপারী। চারদিন আগে ২৬টি  কোরবানির  গরু হাটে তুলেছেন তিনি। রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে এখনও কোনো ক্রেতা তেমনভাবে দাম বলেননি বলে দাবি সিদ্দিকের। 

অথচ ২৫ হাজার টাকা ট্রাকভাড়া দিয়ে গরুগুলো নিয়ে এসেছেন সিদ্দিক। এর ওপরে প্রতিদিন হাটে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা করে খরচ হচ্ছে।

ফলে গরুগুলো বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এই ব্যবসায়ী।
 
সিদ্দিক ব্যাপারী বলেন, ‘চারদিনে ২৬টা গরুতে ২৬টা মাছিও বসছে নানে। লচ হলিও ব্যাচপো, সেই খদ্দির কনে? গরুর দাম হাই (বেশি) না, তাও খদ্দির নেই। এর আগে পিট পিট (পর পর) তিনবার বসান খেয়েছি।   এবারও মনে হচ্চে খাইতে হবে’।

কোরবানির ঈদের আর বাকি মাত্র চারদিন। গাবতলী হাট ভরে গেছে কোরবানির পশুতে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিদেশি গরুর প্রভাব বেশি, ফলে দেশি গরুর চাহিদাও কম।
 
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাষি রুহুল কুদ্দুস (৪৫)। মাত্র একটি লাল গরু তিনদিন আগে হাটে তুলেছিলেন তিনি। দেড় বছর আগে এক লাখ টাকায় গরুটি অন্য এক চাষির কাছ থেকে কেনা। প্রায় ৫০ হাজার টাকা  লালন-পালনে খরচ হয়েছে। আশা ছিলো, দুই লাখ টাকার বেশি দামে  গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন রুহুল কুদ্দুস।
 
রুহুল কুদ্দুস বাংলানিউজকে বলেন, ‘গরু নিয়া আসি হাসতে হাসতে। যাতি হয় কাঁদতে কাঁদতে। গরুতে এবারও ৫০ হাজার টাকা  লচ খালাম। সরকার বডরি (ভারতের) গরু বন্ধ না করলি আর গরু পালবো নানি’।

কুষ্টিয়ারই রোকন ব্যাপারী এনেছেন ১৬টি গরু। আটদিন হয়ে গেলেও একটিও বিক্রি করতে পারেননি তিনি। গরুর ঠিক মাঝখানে কাঠের বেঞ্চে বসে ঘাড়ে গামছা দিয়ে পান খেতে খেতে হিসাব কষছিলেন।  
 
রোকন ব্যাপারী বলেন, ‘আটদিন হয়ে গ্যালো। গরু নিয়া আসছি ১৬টি। একখানও বিককিরি করতে পারিনি। একশ চল্লিশ (এক লাখ ৪০ হাজার টাকা)  দিয়া কিনা গরুর দাম বলছে একশ (এক লাখ টাকা)।
 
সোমবার (২৮ আগস্ট) সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, গরুর দাম এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। চার মণ মাংস পাওয়া যাবে- এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকা।  

বেচা-বিক্রি না জমায় অপেক্ষায় সময় কাটছে ব্যাপরীদের।  ছবি: জি এম মুজিবুর পরিবার-পরিজন নিয়ে তালতলা থেকে  কোরবানির গরু পছন্দ করতে হাটে এসেছেন শহিদুল ইসলাম মুন্সি।   তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাংসের দাম অনুসারে গরুর দাম ঠিকই আছে। আমরা গরু দেখতে এসেছি। কয়েকটি হাট দেখবো, দাম যাচাই করবো। হয়তো কোরবানির একদিন আগে গরু কিনবো। এখন গরু কেনা মানেই ঝামেলা, রাখবো কোথায়?’
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৭
এমআইএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa