ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মিলছে না মিরকাদিমের গরুর ক্রেতা!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৮-২৮ ০৫:১৫:৫৪ এএম
মিলছে না মিরকাদিমের গরুর ক্রেতা! বিক্রির অপেক্ষায় মিরকাদিমের গরু। ছবি: বাংলানিউজ

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর দেশি খামারগুলোতে ক্রেতা সমাগম নেই। দেশব্যাপি সুনাম অর্জনকারী মিরকাদিমের ঐতিহ্যবাহী ধবল গরুর খ্যাতিও এখন যেনো হারিয়ে যেতে বসেছে। ঈদের আর মাত্র ৪ দিন বাকি থাকলেও ক্রেতা না থাকায় খামারিরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন।  

এক সময় মিরকাদিমের গরু ছাড়া কোরবানির ঈদ যেনো শতভাগ সম্পন্ন হতো না পুরান ঢাকাবাসীর। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই ঐতিহ্য আর জনপ্রিয়তাও হ্রাস পেয়েছে।

দুঃশ্চিন্তায় থাকা খামারিরা এনজিও ঋণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, চারদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে এসব খামারির এখন মাথায় হাত।    

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে,  কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার ৬টি উপজেলায় ৩ হাজার ২শ’ ৩৮টি গরুর খামারে প্রায় ২০ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড়ের সংখ্যা ৯ হাজার ৪শ’ ৫৭টি। গাভী’র সংখ্যা ২ হাজার ৬শ ৩৮টি। আর বলদ ২ হাজার ৪৪টি।

এছাড়া খাটো জাতের বুট্টি গরু, নেপালি, সিন্ধি জাতের গরুসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গরু মোটাতাজা করে প্রস্তুত রেখেছেন খামারিরা।

অন্যদিকে ছাগল রয়েছে ১৩শ’ ২৯টি। ভেড়া রয়েছে ৩২৫টি।

বিক্রির অপেক্ষায় মিরকাদিমের গরু।  ছবি: বাংলানিউজজেলার খামার মালিকরা বাংলানিউজকে জানান, আগে যেখানে খামারেই ক্রেতাদের দর কষাকষিতে মুখরিত থাকত পরিবেশ, সেখানে বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় ক্রেতার অভাবে খামার মালিকদের বাড়তি আয়ের স্বপ্ন এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

সদরের মাঠপাড়া এলাকার খামারি জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন,  এক সময় মিরকাদিমে ছিলো তেলের ঘানি বা মিল, ধান-চালের মিল। তাই খুব সস্তায় খৈল, ভুষি, খুদ, কুড়া পাওয়া যেত। এখন চালের মিল থাকলেও খৈল, ভুষি, কুড়ার দাম বেশী। ৫০ কেজি চালের কুড়া ৮শ’ টাকা, ৫০ কেজি চালের খুদ ১৭শ’ ৫০ টাকা,  ৩৫ কেজি গমের ভূষি ১৩শ’ টাকা। আগে ঈদের ১০-১৫ দিন আগেই খামারে বসে গরু বিক্রি হয়ে যেতো। কিন্তু এবার দেশি পদ্ধতিতে তৈরি গরুর বাজার লোকসানের মুখে।
 
লৌহজং উপজেলা খামার মালিক রশীদ শিকদার বাংলানিউজকে জানান, তার খামারে ১৫০টি গরু আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব শিলমন্দি এলাকার খামার মালিক রায়হান হোসেন বাংলানিউজকে জানান,  কোরবানির গরু বিক্রিতে চলতি বছরের মতো এমন ক্রেতার অভাব বিগত বছরগুলোতে দেখা যায়নি। তার খামারে থাকা মোটাতাজা ২০টি গরু রয়েছে। ২০ লক্ষ টাকা চালান রয়েছে। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা। ঈদ আসতে আর মাত্র ৪ দিন বাকী থাকলেও এখনো তিনি একটি গরুও বিক্রি করতে পারেন নি।

সদরের এনায়েতনগর গ্রামের খামার মালিক জালাল বেপারী বাংলানিউজকে জানান, ঢাকায় মিরকাদিমের গরুর চাহিদা অনেক। তাই কোরবানি ঈদের ৭ থেকে ৮ মাস আগেই তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট ও বাছাই করা গরু কিনে আনেন। বিশেষ করে বাজা গাভী, খাটো জাতের বুট্টি গরু, নেপালি, সিন্ধি জাতের গরু আনা হয়। প্রতিটি গরু কিনতে মূল্য পড়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। মোটাতাজা করতে খরচ পড়ে আরও ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এতে সর্বমোট খরচ পড়ে এক লাখ টাকারও বেশী। তারওপর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু লালন পালন করেছেন। লাভ না এলে পথে বসতে হবে।

মিরকাদিমের শেপালী বেগম বাংলানিউজকে জানান,  কোরবানির ঈদে মিরকাদিমের গরু পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ হাটে বেশ সমাদর পেয়ে আসছিলো। এবারের ঈদে তিনি ৬টি ধবল গরু মোটাতাজা করেছেন। নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে লালন পালন করেছেন। মশা-মাছি যেন কামড়াতে না পারে, সে জন্য মশারির ভেতরে রেখেছেন। গরমে বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়েছেন, আর ঠাণ্ডায় গরম কাপড় শরীরে জড়িয়ে রেখেছেন। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় এখন মাথায় হাত।  

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. ফজলুল হক শেখ বাংলানিউজকে বলেন, খামারিদের সমস্যা দূরীকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বিক্রি হওয়া না হওয়াটা আমাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১১০০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১৭
জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa