ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পশুর হাটে মহিষের চাহিদা

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
পশুর হাটে মহিষের চাহিদা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফেনী: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু ছাগলের পাশাপাশি মহিষের চাহিদাও কম নয়। এবার ফেনীতে কোরবানি দাতাদের চাহিদার তালিকায় গরুর চেয়ে মহিষের চাহিদেই বেশি। 

রোববার (২৭ আগস্ট) জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার অন্যতম পশুরহাট ছাগলনাইয়া পাইলট মডেল হাইস্কুল মাঠে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়।

বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় এ অঞ্চলের মানুষ গরু ও ছাগলেই কোরবানি দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

এমনকি কয়েক বছর আগেও স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল ছাড়া অন্য পশু দিয়ে কোরবানি করতেন না সেখানকার লোকজন। তবে এখন সময় পাল্টে গেছে, গরু-ছাগলের পরিবর্তে কোরবানিতে পশুর চাহিদায় মহিষও রযেছে।  

সরেজমিনে বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গরু-ছাগলের চেয়ে হাটে মহিষের সংখ্যাই বেশি। ঈদের এখনও পাঁচদিন দেরি থাকায় বিক্রি কম হলেও মহিষের দামাদামি নিয়ে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা।  

উপজেলার উত্তর মন্দ্রিয়া গ্রামের গরুর ব্যাপারি সিরাজ মিয়া বাংলানিউজকে জানান, ফেনীর অন্য হাটগুলোতেও গরুর চাইতে মহিষের চাহিদা বেশি। তাই হাটের বড় অংশ দখল করে আছে মহিষ। দামও নাগালে রয়েছে। তাই পছন্দ হলেই কিনে নেন ক্রেতারা।  

তিনি জানান, বড় সাইজের একটি মহিষ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মাঝারি সাইজের ৮০ থেকে ৯০ হাজার আর ছোট সাইজের মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে শুরু করে ৭০ হাজারের মধ্যে।  

ব্যাপারী সিরাজ মিয়া জানান, এ অঞ্চলে মহিষ আসে উত্তরবঙ্গ ও বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে। পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য দিক মাথায় রেখে গরুর চাইতে মহিষেই ব্যবসা বেশি। কোরবানির হাটে বিক্রি না হলেও ঈদের পরও মহিষের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

বাজারের হাসিল আদায়কারী কফিল উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, বিগত বছরগুলোতেও এ বাজারে মহিষের বিক্রি ছিল বেশি। এবারও প্রচুর মহিষ উঠেছে। বিক্রিও বেশ ভালো।

গরুর অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ার কারণে মহিষের চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।  

গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত মহিষ কোরবানি দেওয়া ছাগলনাইয়া পৌর এলাকার নুরুল আলম জানান, গরু কিনতে গিয়ে রং, শিংসহ সবদিক পছন্দ করতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। কিন্তু মহিষ কেনার বেলায় সে ধরনের সমস্যা নেই।  

এদিকে মহিষের মাংসও গরুর মাংসের চাইতে নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।  

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বাংলানিউজকে জানান, গরুর মাংসের চাইতে মহিষের মাংসে সব ধরনের ঝুঁকি কম। মহিষের মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ হয় না, মাথা ঘুরে না, শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতাও দেখা দেয় না।  

এমনকি ডায়াবেটিস  রোগীরাও মহিষের মাংস খেতে পারে বলে জানান তিনি।  

ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, মহিষকে গরুর মতো কোনো দানাদার বা কৃত্রিম খাবার খাওয়ানো হয় না। এটি পালিত হয় দুর্বল খাবারে। ফলে মহিষের শরীরে কোনো চর্বি জমে না বলে বয়স্করাও এটি  খেতে পারেন নির্বিঘ্নে।

বাংলাদেশ সময়: ২০০১ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
এসএইচডি/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa