ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

জমে উঠেছে ভোলায় কোরবানির পশুর হাট

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
জমে উঠেছে ভোলায় কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে ভোলায় কোরবানির পশুর হাট

ভোলা: জমে উঠেছে ভোলার কোরবানির পশুর হাট। ঈদের ৫দিন আগেই জেলার ৫৬টি স্থায়ী এবং ৪২টি অস্থায়ী হাট জমে ওঠায় সন্তুষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতারা। এসব হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে।

এবার পশুর হাটে দেশীয় গরুর আমদানি থাকায় ক্রেতারা ছুটছেন সে দিকেই। হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এছাড়াও মেডিকেল এবং মনিটরিং টিমও কাজ করছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে মুখরিত এসব হাট ২/১দিন পর আরো বেশি জমে উঠবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে এ বছর জেলায় চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গরু মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তাই গরুর সংকট থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, এ বছর কোরবানির জন্য গরু এবং ছাগল মিলিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এক লাখ ২ হাজার ৭৭০টি পশু। এর মধ্যে ৬০ হাজার ২২৫টি গরু এবং ৪২ হাজার ৫৫টি ছাগল রয়েছে। তবে জেলায় গরু এবং ছাগল মিলিয়ে চাহিদা ৯৭ হাজার ৯২৬টি।
 
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর  বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত গরুর মজুদ থাকায় ভারত থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন হবে না বরং এ জেলা থেকে থেকে চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু বিক্রি করা হয়। ভোলাতে ভারতীয় গরুর আমদানি নেই।

তিনি আরো জানান, হাটগুলোতে যাতে কোনো ধরনের রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি না হয় সেজন্য ৭টি মনিরটিং টিম এবং ১৯টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নিয়মিত গরুর হাটে নিয়োজিত থাকবে।

হাট ঘুরে জানা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ভোলার গরুর হাটে একদিকে যেমন দেশীয় গরুর আমাদানি বেশি অন্যদিকে দামও অনেক চড়া। শুরু থেকে কেনাবেচা জমে না উঠলেও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে হাটগুলো।  

জেলার পরানগঞ্জ, ইলিশা, বাংলাবাজার, ঘূইংগারহাট, চরনোয়াবাদ গরুরহাট, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরার বড় বড় গরুর হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে। তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রয়া থাকলেও কেউ ফিরছেন না খালি হাতে।
ঘুইংগাটর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা এমরান হোসেন বলেন, ২ লাখ টাকা দামের ২টি গরু হাটে এনেছি, একেকটির দাম উঠেছে ৭৫/৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত, গড়ে ৯০ করে হলে বিক্রি করবো।
 
ক্রেতা মোসলে উদ্দিন বলেন, গরুর দাম একটু বেশি। তবুও ক্রেতারা কিনছেন। বেচাকেনা বেড়ে গেছে।

ক্রেতা সিহাব উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় দাম নাগালের বাইরে। হাটগুলোতে গরুর আমদানি অনেক বেশি। হাটে শেষ দিন পর্যন্ত কেনাবেচা হবে।

এদিকে, হাটে চাঁজাবাজি বন্ধে মোতায়েন রয়েছে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ। বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও।

ক্রেতা এবং বিক্রেতরা যাতে নির্বিঘ্নে গরু কেনা-বেচা করতে পারেন সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভোলার পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন।

তিনি বলেন, গরুর হাটে তিন স্তুরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, ২৭ আগস্ট, ২০১৭
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa