ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

ইজারাদারের ধোঁকাবাজি, কাদায় একাকার গরুর হাট!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
ইজারাদারের ধোঁকাবাজি, কাদায় একাকার গরুর হাট! রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের কাদায় ঘিনঘিনে অস্থায়ী গরুর হাট; ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয়েছে থিকথিকে কাদা। কোথাও দাঁড়াবার যো নেই। কাদাযুক্ত মাঠের মধ্যেই আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বেঁধে রাখা হয়েছে কয়েক হাজার গরু। বেঁধে রাখা গরুগুলো কাদাতে লুটোপুটি খাচ্ছে। তারপরও দেখার কেউ নেই।

হাট কর্তৃপক্ষের পক্ষে থেকে সামান্য একটি ত্রিপলও দেওয়া হয়নি কোরবানির পশুগুলোকে রোদ বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য। উল্টো জায়গা কমে যায় বলে ত্রিপল কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন হাসিলদাররা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারিরা অচেনা জায়গায় সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন বেহাল হাটের অসহনীয় পরিবেশকে কিছুটা পরিবর্তন করতে। কিন্তু এসব যাদের দেখভাল করার কথা তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সারা হাটজুড়ে যে এহেন অব্যবস্থাপনা, অস্বাস্থ্যকর অবস্থা তা একটুখানি সহনীয় করতে বা নিদেনপক্ষে একটুখানি খোঁজ খবর নিতেও দেখা যায়নি হাট কর্তৃপক্ষকে। হাসিল-ঘরে বসে তারা দিব্যি মাইকে হাঁক ডাক করছেন হাসিলের জন্য।

ট্রাক থেকে গরু নামানোর সুব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় গরু পড়ে গিয়ে খোঁড়া হয়ে যাচ্ছে; ছবি: জিএম মুজিবুরসোমবার (২৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর চকবাজারের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বসা অস্থায়ী গরুর হাট ঘুরে এসব অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যায়।

সরে জমিনে দেখা যায়, রাজধানীতে হওয়া গত দুই দিনের তুমুল বৃষ্টিপাতে গরুর হাটের মাঠজুড়ে জলাবদ্ধতা ও কাদায় একাকার অবস্থা। পানি নিষ্কাশন বা কাদা সরানোর জন্য নিদেনপক্ষে বালু ফেলারও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না হাট কর্তৃপক্ষ। তাদের আচরণে হতাশ হয়ে ব্যাপারিরা নিজেরাই বালু কিনে মাথায় করে বালু এনে কাদা ও পানির ওপর ফেলছেন। যাতে করে পশুগুলো একটু ভালোভাবে দাঁড়তে পারে। এছাড়া হাট কর্তৃপক্ষের পক্ষে থেকে দেওয়া হয়নি কাদা লেগে একাকার গরুগুলোর গা ধুয়ে পরিষ্কার করার জন্য পানি।

ট্রাক দিয়ে আনা গরু নামানোরও নেই কোনো ভালো ব্যবস্থা। ট্রাক থেকে নামাতে গিয়ে অনেক গরুর পা মচকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

গরুর ব্যাপারীরা অভিযোগ করে বলছেন, হাট আসার আগে হাট কর্তৃপক্ষ আমাদের সব রকমের সুযোগ সুবিধা দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন কয়েকটা বাঁশ ছাড়া আর কিছু দেয়নি। সেই বাঁশ আবার আমাদেরকেই মাটিতে পুঁততে হয়েছে। এক কথায় তারা খালি মাঠটি ছাড়া আর কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়নি। হাটে তারা আমাদের রান্না করে খেতে দেয় না। তাদের নিজেদের হোটেল আছে বলে ঐ হোটেল থেকে কিনে খেতে হবে তাই।

সাতক্ষীরা থেকে ১৪টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী মান্না মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এভাবে কাদা ও পানিতে দাঁড়িয়ে এবং বসে থেকে আমাদের গরুগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ দেখার নেই। আগে যদি জানতাম বছরের পর বছর কষ্ট করে লালনপালন করা পশুটিকে নিয়ে এমন দশায় পড়ব তাহলে এই হাটে কোনোদিনই আসতাম না।

রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের কাদায় ঘিনঘিনে অস্থায়ী গরুর হাট; ছবি: জিএম মুজিবুর কুষ্টিয়ায় মো.শাহিন ব্যাপারী ৭টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। হাট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাংলানিউজকে বলেন, হাট কর্তৃপক্ষ আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। তারা কোনো ব্যবস্থা করেনি আমাদের জন্য এবং গরু রাখার জন্য। কয়েকটা বাঁশ দিয়েছিলো সেই গুলো মাটিতে পুঁতে কোনো মতে ৭টি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

আজ রোববার সকালে ৭ দিনের জন্য ১ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ত্রিপল লাগিয়েছিলাম যেন রোদ বৃষ্টি থেকে পশুগুলোকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু তাও জায়গা কমে যাওয়ার কথা বলে তারা কেটে নিয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বসলেন রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের অস্থায়ী গরুর হাটের সদস্য সামছুদ্দিন। বাংলানিউজকে তিনি বললেন, বালু ত্রিপল, বাঁশ ও পানি সকল সুবিধা আমরা দিয়েছি। ব্যাপারীদের কোনো সুযোগ সুবিধার অভাব রাখেনি আমরা। বৃষ্টির জন্য কিছু কাদা  জমে আছে তা রোদ শুকিয়ে যাবে।

হাট কর্তৃপক্ষের এই সদস্য সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও সরেজমিনে ভুক্তভোগী ব্যাপারীদের অভিযোগের সত্যতাই পাওয়া গেছে শতভাগ।

বাংলাদেশ সময়:১৬০০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
এমএসি /জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa