ঢাকা, বুধবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

পশু চিকিৎসক নেই গাবতলী হাটে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৫৯ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
পশু চিকিৎসক নেই গাবতলী হাটে গাবতলী পশুর হাট/ ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে গাবতলী পশুর হাটে আসছেন ব্যাপারিরা। অনেক পথ ভ্রমণ করে আসা ও পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে সাময়িকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে গৃহপালিত পশুগুলো। কিন্তু গাবতলী পশুর হাটে পশু চিকিৎসক না থাকায় দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যাপারিরা।

রোববার (২৭ আগস্ট) গাবতলী পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলে পশু চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টলটি খালি দেখা গেছে।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু সংখ্যক গবাদিপশু এসেছে হাটটিতে।

বহু দূর রাস্তা ভ্রমণ ও গরমের জন্য অনেক পশু কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাপারিরা। কিন্তু পশু চিকিৎসকের অভাবে তারা নিজেরাই চিকিৎসা করাচ্ছেন।  

কুষ্টিয়া থেকে আসা রাজীব ব্যাপারি জানান, গতকাল আমার একটা গরু ব্যাপক অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি নিজেই ওষুধ খাইয়ে সুস্থ করেছি। কিন্তু আমাদের চেয়ে পশু ডাক্তাররা তো ভালো বুঝবে। যদি গরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে আমাদের মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

হাটে একটি মহিষকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মহিষটির মালিক নিজেও জানেন না মহিষটির কী হয়েছে, তাই অসুস্থ অবস্থাতেই ফেলে রেখেছেন তিনি।
গরুকে বাতাস করছেন এক ব্যাপারি/ ছবি: ডিএইচ বাদলপাবনা থেকে বিশাল আকারের একটি গরু নিয়ে এসেছেন জমিরুদ্দিন ব্যাপারি। হাটে দাঁড়িয়ে বাতাস করছিলেন তার গরুটিকে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমার এ গরুর দাম ৫ লাখ টাকা। একটা গরুই নিয়ে আসছি। আমার এলাকায় এত দামে গরু কেউ কিনবে না তাই ঢাকায় আসছি। সকালে আসতে আসতেই আমার গরুটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এখানে এসে গরমে আরও খারাপ অবস্থা। এখন বাতাস করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।

এখনও গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির পশুর কেনা-বেচার চাপ বাড়েনি। কিন্তু আগে থেকে আসা পশুগুলো যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা না পায় তাহলে ব্যবসায় চরম ক্ষতির মুখ দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই শিগগিরই পশু চিকিৎসকদের উপস্থিতির আবেদন জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিফ ভেটেরিনারি অফিসার (সিভিও) ডা. মো. আবদুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের সাধারণত ঈদের আগের তিনদিন থাকার কথা। অর্থাৎ এবার ৩০, ৩১ আগস্ট ও পহেলা সেপ্টেম্বর থাকবো। কিন্তু পশু যদি গুরুতর অসুস্থ হয় আমাদের টিম ওখানে যায় চিকিৎসা সেবা দিতে।

সকালে কয়েকটি গরুর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলে ওই চিকিৎসক বলেন, সকালেও আমাদের একটি টিম ওখানে যাওয়ার কথা। আমি আবার পর্যবেক্ষণে নিচ্ছি বিষয়টা।  

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫২ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
এমএএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa