ঢাকা, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গাবতলী হাট ছাড়ছেন ব্যাপারিরা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩১ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গাবতলী হাট ছাড়ছেন ব্যাপারিরা পশু নিয়ে হাট ছাড়ছেন ব্যাপারিরা- ছবি- ডি এইচ বাদল

ঢাকা: অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে গাবতলী পশুর হাট ছাড়ছেন অনেক ব্যাপারি। দু’দিন ধরে অবস্থানের পরও পশু নিয়ে হাট ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। বিশেষ করে ছাগলের ব্যাপারিরা গাবতলী হাট ছাড়ছেন।

রোববার (২৭ আগস্ট) গাবতলীর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের অস্থায়ী অংশের সামনে সুসজ্জ্বিত গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশের মুখেই ব্যাপক কাদা। হাটে ঢোকার পরই দেখা যায় এর অস্থায়ী অংশ বালি দিয়ে ভরাট।

এবং বেশিরভাগ জায়গায় বালি সরে গিয়ে কাদায় পরিপূর্ণ হয়েছে।  

আবার স্থায়ী হাটের অংশে গেলেও মনে হয় যেন মাটির রাস্তা। এছাড়া রাতে ও সকালে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও করুণ হয়েছে। এ কারণে কোরবানি ঈদের আগের এ সময়টায় হাটে ক্রেতাদের ভিড় যতটুকু থাকার কথা ততটুকু নেই বলে ধারণা করছেন পশু ব্যবসায়ীরা।  

সকালে হাটে ব্যাপারিদের নিজেদের লোক দিয়েই পরিষ্কারের কাজ করতে দেখা গেছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারি নিজাম বলেন, গরু তো নোংরা করবেই। আর পরিষ্কারের কাজ তো আমাদেরই করতে হয়। এইডা আর কে কইরা দিবো। জায়গা নোংরা থাকলে কাস্টমার কাছে আইসা গরু দেখবো ক্যামনে। কিন্তু এ রাস্তা পরিষ্কারের কাজটা কেডা করবো হেইডা বুঝতাছি না।

নাটোর থেকে ১৭টি ছাগল নিয়ে এসেছিলেন আমিনুল ইসলাম। গাবতলী হাট ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য হাটে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ঢাকার মানুষজন কোরবানির পশু পরে কিনলেও এখন কিছু কিছু ক্রেতা হাট দেখতে আসবেন। কিন্তু তারা আসছে না। গেটের সামনে থেকে রাস্তার অবস্থা খারাপ দেখে ভেতরে আসছেন না। আমাদের ছাগলও বিক্রি হচ্ছে না। তাই অন্য হাটে চলে যাচ্ছি।

বৃষ্টি থেকে পশুকে রক্ষায় ছাউনি দিচ্ছেন ব্যাপারিহাটের এ অংশগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ইজারাদারদের থাকলেও হাট ঘুরে সে রকম কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। যদিও ইজারাদাররা বলছেন, পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।  

গাবতলী পশুর হাটের ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সিটি করপোরেশনের ৪০ জন ও আমাদের আপাতত ১২ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন পুরো হাট পরিষ্কার রাখার জন্য। তারা সকাল থেকে কাজও করছেন। কিন্তু সকালে বৃষ্টির জন্য হাটের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। আর হাট তো অনেক বড়, সময় লাগে পুরোটা পরিষ্কার করতে।  

একই কারণে রাতে থাকার কোনো পরিস্থিতি না থাকায়ও হাট ছেড়ে যাচ্ছেন ব্যাপারিরা। আবার কম দামে পশু ছেড়ে দিতে হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।  

একটি উট ও দু’টি দুম্বা ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার ইচ্ছা থাকলেও ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে ফিরে যাচ্ছেন আজাহার হোসেন। তিনি বলেন, তিনদিন ধরে এখানে আছি। কাস্টমার পাই না। একজন পেয়েছি আর সঙ্গে সঙ্গেই ছেড়ে দিয়েছি। এইবার আবার আসলে সামনের দিকে দাঁড়াবো। নোংরা পরিবেশের কারণে ভেতরে কাস্টমাররা আসতে চান না।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭
এমএএম/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa