ঢাকা, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

ওষুধ ছাড়াই গরু-ছাগল মোটা-তাজা করেছেন মিন্টু 

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৬ ঘণ্টা, আগস্ট ২৬, ২০১৭
ওষুধ ছাড়াই গরু-ছাগল মোটা-তাজা করেছেন মিন্টু  প্রাকৃতিকভাবেই খামারটিতে গরু-ছাগল মোটা-তাজা করা হচ্ছে

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঁশবাড়ির ‘মেসার্স ইউসুফ স্বাস্থ্যসম্মত গরু মোটা-তাজাকরণ খামার’। ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে কোনো ধরনের রাসায়নিক, অ্যান্টিবায়েটিক বা হরমোনের ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে খামারটিতে গরু-ছাগল মোটা-তাজা করার কাজ শেষ করেছেন মালিক জামিল আশরাফ মিন্টু (৪২)। 

এখন কোরবানির হাট ধরতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন তিনি ও তার কর্মী বাহিনী।  

কোনো ধরনের স্টোরয়েডের ব্যবহার না করা ছাড়াও খামারটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এখান থেকে কেনা গরু-ছাগল কোরবানির দিন পর্যন্ত যত্ন সহকারে রাখা হয়।

প্রয়োজনে কসাই ও কোরবানির ব্যবস্থাসহ হোম ডেলিভারিরও সুবিধা দেন মিন্টু। কসাইয়ের মজুরি ও পশুখাদ্যের দাম ছাড়া আর কোনো মজুরিও ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয় না। ফলে এ খামারটি সবার মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব খামারটিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কোরবানির গরু-ছাগল প্রস্তুত করে রেখেছেন তরুণ উদ্যোক্তা খামারি জামিল আশরাফ মিন্টু। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দেশি, শঙ্কর ও সাহেবান জাতের অর্ধশতাধিক গরু লালন-পালন করা হচ্ছে, যেগুলোর মূল্য ৩৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মিন্টু জানান, তার বাবা এস এম শাহাবউদ্দিন ও চাচা সাবেক কমিশনার মোস্তফা কামালের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার বাইরে এসে তিনি খামারটি গড়ে তুলেছেন। ৫ বছর আগে সাফল্য পাওয়ার মনোবল নিয়ে শুরু করেন প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটা-তাজা করার কর্মযজ্ঞ। আমবাড়ি, কাহারোল, রানীরবন্দর, কারেন্টের হাট ইত্যাদি পশুর হাট থেকে সংগ্রহ করেন দেশি, শংকর ও সাহেবান জাতের গরু। এরপর সন্তানের মতো লালন-পালন শুরু করেন।

এভাবে এগিয়েছে তার পথচলা, অর্জন করেছেন খামারের অভিজ্ঞতা। ইতোমধ্যে তিনি বিনিয়োগ করেছেন অর্ধ কোটি টাকা।  
স্টোরয়েড না করে প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবহার করা হচ্ছে
খামারি মিন্টু বলেন, তার খামারে স্টোরয়েড না করে প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবহার করা হয়। গরু-ছাগলকে খাওয়ানো হয় ভুট্টা, সয়াবিন, খেসারি ডাল, খুদি চালের ভাত, ভূষি, খৈল, ধানের গুড়া, চিটা গুড়, খড় ও স্যালাইন। রোগ-বালাই রোধে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত আছেন একজন পশু চিকিৎসক।  

ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার খামার পরিদর্শন করে পশু লালন-পালন দেখে স্বাস্থ্য সনদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত পাননি তিনি। ব্যাংক ঋণসহ অন্য সহায়তা পেলে এটিকে বৃহৎ খামারে পরিণত করার ইচ্ছা আছে বলেও জানান মিন্টু।

তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনবার পদকপ্রাপ্ত মিন্টু খামারিদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু আমদানি নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন তারা। খামার টিকিয়ে রাখতে এবং কোরবানির বাজার ধরতে সারা বছর অপেক্ষা করতে হয়। ভালো দামের আশায় অনেক পুঁজি বিনিয়োগ করে গরু-ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে এবার ব্যয়ও বেশি হয়েছে।  

তাই ভারত থেকে গরু আমদানি করা হলে অধিকাংশ খামারিকে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুদ্র পশু পালনকারীরাও ভয়ানক সংকটে পড়বেন। কারণ, তাদের অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ অথবা ধার-কর্জ করে গরু লালন-পালন করেছেন।  

তবে সরকার খামারি ও ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের স্বার্থে ভারতীয় গরু আসা নিয়ন্ত্রণ করলে ভালো দাম পাবেন। এজন্য ভারতীয় পশু আমদানিতে খামারবান্ধব সরকারি নীতি গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহজালাল খন্দকার বলেন, খামারটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু-ছাগল লালন-পালন সত্যিই প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।  

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক জানান, শহরের ভেতরে এ ধরনের প্রকল্প শুধু প্রশংসিতই নয়, অনেকের কাছে অনুকরণীয়ও। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে, খামারটিতে গরুর পাশাপাশি ছাগলও পালন করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করায় এসব গরু-ছাগলের প্রচুর চাহিদাও রয়েছে।  
খামারে গরুকে গোসল করানো হচ্ছে
কোরবানির ঈদে গরু কিনতে গিয়ে অনেকেই শঙ্কায় ভোগেন কৃত্রিমভাবে মোটা-তাজা করা গরু কিনবেন কি-না।  এটি গরুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগে হাটে বা কেনার পরে অনেকের গরু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিবেচনায় স্থানীয় বড় ব্যবসায়ী ও অবস্থাপন্নরা মেসার্স ইউসুফ স্বাস্থ্যসম্মত গরু হৃষ্ট-পুষ্টকরণ খামারের স্বাস্থ্যসম্মত গরু-ছাগল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ কোরবানির গরু পছন্দ করে আগাম বায়নাও করে গেছেন বলে জানান খামারি মিন্টু।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৭ 
আরএ/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa