ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

মৌলভীবাজারে পশুহাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭২৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৬, ২০১৭
মৌলভীবাজারে পশুহাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি মৌলভীবাজারে পশুর হাতে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি; ছবি: বাংলানিউজ

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের সর্বত্র কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর পশু উঠলেও সে তুলনায় ক্রেতা বড়ো কম। প্রতিটি হাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি। আসেনি বিদেশি। গরু তারপরও বাজারে গরুর কমতি নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে ভালো নেই বেচাবিক্রি।

মৌলভীবাজারে প্রায় সবক’টি গরুর হাট গরু, মহিষ ও ছাগলে সয়লাব হয়ে গেছে। কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় আর পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্রেতা না থাকায় বিক্রেতারা তা বিক্রি করতে পারছেন না।

অনেকে উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে পশু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

হাটে হাটে ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে, সেখানে পশুর ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যাই বেশি। হাটে প্রচুর সংখ্যক কোরবানির পশু উঠলেও বিক্রি তেমন নেই বললেই চলে। কাঁটাতারের বেড়ার কারণে মৌলভীবাজারের চাতলাপুর করিডোর দিয়ে কোনও ভারতীয় গরু আসছে না এবার। তাছাড়া অন্যান্য বছর দেশের অনেক জেলা থেকেই গরু আসতো। এখন তার সংখ্যাও কম।

অন্যান্য বছর জাল নোট সনাক্ত করার মেশিন বিভিন্ন বড় বড়হাটে লক্ষ্য করা গেলেও এবছর তা লক্ষ্য করা যায়নি।

গরু নিয়ে হাটে আসা পিকআপ ভ্যানচালক খালাছ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, তিনি প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিভিন্ন জায়গায় গরু পরিবহন করে থাকেন। এবছর খুবই মন্দা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের হাতে টাকা নেই।

মৌলভীবাজারে পশুহাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশিতিনি আরও বলেন, যে গরুগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন সেখান থেকে একটা বা দু’টো বিক্রি হয়। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ী সায়িদ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, অন্যসব বছরের তুলনায় এবছর গরুর দাম খুবই কম। যে গরু গ্রাম থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনে ৭০ হাজার বিক্রী করার কথা এখন সেটা ৫ হাজার টাকা ঘাটতি দিয়ে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।

গরু ক্রয় করতে আসা মো: তজমুল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, তিনি ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। এটা গত বছর হলে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হতো।

বিক্রেতা রুহেল মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, অন্য বছরগুলোতে আসতো। কিন্তু এবছর ভারতের গরু স্থানীয় বাজারে না এলেও গরুর দাম খুবই কম। দেশি গরুতেই বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।

মৌলভীবাজারে পশুহাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশিগৃহস্থ হাসিম উল্যা একটি গরু নিজেই লালন-পালন করে হাটে নিয়ে এসেছেন বিক্রি করতে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আশা ছিল গরুটা বিক্রি করে সে টাকা বাড়ির কাজে লাগাবো। কিন্তু তা হবে কিনা জানি না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৩ বছর ধরে যত্ন করে গরুটি বড় করেছি। ৮০ হাজার টাকা মূল্য চাচ্ছি।  ৫০-৫৫ হাজার টাকা দাম হচ্ছে। ৭০-৭২ হাজার টাকা পেলে বিক্রি করে দেব।

গরু ক্রয় করতে আসা হোছনা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, তিনি প্রতি বছর হাটে এসে গরু কিনে নিয়ে গিয়ে কোরবানি করেন। এবছর মনে হচ্ছে গুরর মূল্য অনেক কম। এবার ৫০হাজার টাকায় একটি ভাল গরু পাওয়া যাবে।

ছাগল কিনে নিয়ে যেতে দেখা গেল জহির মিয়া নামের একজনকে। তিনি বাংলানিউজকে জানালেন, দু’টি খাসি ৯ হাজার ২ শত টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। অন্য বছর হলে এ দু’টি কম করেও ১২-১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

মহিষ বিক্রেতা আইন উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, সীমান্তবর্তী আদমপুর ইউনিয়নের আদমপুর বাজারে প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে জেলার সবচেয়ে বড় পশুর বাজার বসে। এখানে একটি মহিষ সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে এবছর বাজার খুবই মন্দা। তারপরও এবছর এপর্যন্ত ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকায় একটি মহিষ বিক্রি করেছেন।

গরু নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছেন ইসলাম মিয়া কিন্তু ইজারাদারের লোকেরা তাকে বেরিয়ে যেতে দিচ্ছে না। বলছে এখন যাওয়া যাবে না। এগিয়ে গিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি বাংলানিউজকে জানান, উপযুক্ত দাম না হওয়াতে তিনি গরু নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, গরুর দাম না বাড়লে তিনি বিক্রি করবেন না।

কমলগঞ্জের বাজার ইজারাদার লাল মিয়া চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, এবছর কোরবানির পশুর মূল্য খুবই কম। বিক্রি নেই বললে চলে। প্রতি বাজারে ২ থেকে আড়াই হাজার পশু উঠলেও বিক্রি হয় মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি। এবছর অন্যান্য জেলার গরু ব্যবসায়ীরা বাজারে আসেনি। তবু গরুর মূল্য খুবই কম। বিক্রিও কম। ভারতীয় গরু আসেনি, তবু এবার দেশি গরুতে বাজার ভরে গেছে।

তিনি জানান, যে টাকা দিয়ে তিনি হাট লিজ এনেছেন সে টাকাও মনে হচ্ছে এবছর উঠবে না। অনেকে গরুর দাম কম হওয়ায় অনেকে যে বাজার থেকে গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা-ও স্বীকার করেন তিনি।

জেলার আরেক বৃহৎ গরুর হাট ব্রাক্ষণবাজার। এর ইজারাদার কুলাউড়া পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ বাংলানিউজকে বলেন, এবছর কোরবানির ঈদের বাজার খুবই মন্দা। ইজারার টাকাটাও উঠবে না। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতিবাজারে যেখানে ২ লক্ষ টাকা আদায় হবার কথা, সেখানে ১লক্ষ ৭০ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উঠছে।

রবিরবাজার গরুহাটের ইজারাদার আওয়ামী লীগনেতা আব্দুল মনাফ বাংলানিউজকে বলেন, এবছর গরুর দাম ও কাটতি দু’টোই কম। এতে করে তাদের লাভ তো দূরের কথা সরকারকে যে টাকা দিয়েছেন তাও উঠবে না।

মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো: রুকন উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, সদর পৌরসভার নিজস্ব একটি গরুর হাটসহ জেলায় মোট ১৫টি গরুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। অনেক ইজারাদারই তাকে লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়:১২২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ২৬, ২০১৭
এম এ এইচ/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa