ইসলামী ব্যাংকের টাকা রোববার ফেরত দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ইসলামী ব্যাংকের টাকা রোববার ফেরত দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। শুক্র ও শনিবার সরকারি বন্ধের কারণে এ টাকা ফেরত দিতে দেরি হলেও রোববার ফেরত দেওয়ার সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের টাকা রোববার ফেরত দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। শুক্র ও শনিবার সরকারি বন্ধের কারণে এ টাকা ফেরত দিতে দেরি হলেও রোববার ফেরত দেওয়ার সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

তিনি বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় গত দুই দিন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকের অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়া যায়নি।’

মফিদুল হক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা তাদের কাছেই ফেরত দেওয়া হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অপর ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে অন্য ৩৫ ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে স্থায়ী ভবন নির্মান তহবিলে ৫০ লাখ টাকার চেক দেয়। পরে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘুরে চেকটি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের হাতে পৌছায়।

উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি ব্যাংক থেকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরিতে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে।

ওই রিপোর্টের পর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য ইসলামী ব্যাংকের অর্থ গ্রহণ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

ওই দিনই জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মফিদুল হক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের অর্থে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংক অ্যাসোশিয়েশনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবন তৈরির জন্য মোট ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোশিয়েশনের সদস্য হিসেবে ইসলামী ব্যাংকও এ তালিকায় ঢুকে পড়েছে। তবে কোনো মতেই তাদের টাকা নেওয়া হবে না।’

ওই একই দিন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের আরেক সদস্য আক্কু চৌধুরী বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘রাজাকারের টাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি হতে পারে না। আমরা দুই এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান লিখিত আকারে প্রকাশ করব।’

এরপর ২০ আগস্ট জাদুঘর কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ জাহের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ৫০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকও উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্যই জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ সদস্য। তাদের অনেকের বিরোদ্ধেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকটির বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধীদের সহায়তা করা, জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকান্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে। এছাড়া এ ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মীই জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকেন।

সম্প্রতি দেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নানাভাবে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। মিডিয়ায় তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারও আগের চাইতে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া, দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা সর্বাধিক হলেও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি প্রকল্পে তাদের অনুদান সে তুলনায় খুবই সামান্য। কয়েকটি ছোট ব্যাংক এ তহবিলে অনুদান হিসেবে এক কোটির টাকারও বেশি দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ২১৪৯, ২১ আগস্ট ২০১০

বৃহস্পতিবার ঢাকাবাসীকে ইভিএমের ব্যবহার শেখাবে ইসি
বিএনপির ভোট করার অভ্যাস নেই: আইনমন্ত্রী 
পিকআপভ্যানের মুরগির খাঁচা থেকে গাঁজা জব্দ, আটক ৩
ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নেমে শাস্তি পেলেন ফিল্যান্ডার
‘নির্দেশ মানতে গিয়ে মার খেতে হয়েছে’


সিলেটে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত
ওয়ারীতে শ্রমিকদল নেতা গুলিবিদ্ধ
মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
‘করোনা ভাইরাস রোধে প্রবেশদ্বারে স্ক্যানার বসানো হয়েছে’
‘ধর্ম ব্যবহার করে কেউ যেনো সাম্প্রদায়িকতা না ছড়ায়’