জিভে জল আনে ‘জলঢুপি’ আনারস

নাসির উদ্দিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জলঢুপি আনারস। ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে ফিরে: আকারে ছোট, গোলাকার। টকটকে হলদে বর্ণ। খেতে ভারী মিষ্টি। দেখে যে কারোরই জিভে জল আসবে! নাম তার ‘জলঢুপি’। বৃহত্তর সিলেটে নামকরা এই আনারস ছড়িয়ে চলেছে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি। 

প্রকৃতির টানে পর্যটন অঞ্চল শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিন বেড়াতে যাওয়া লোকজনের কাছে সমাদৃত জলঢুপি আনারস। সিলেটে বেড়াতে আসা লোকজনও বাস কিংবা ট্রেনে ফেরার পথে শ্রীমঙ্গল থেকে কিনে নেন এই আনারস। 

শ্রীমঙ্গলের আনারস বিক্রেতা চন্দন কুমার দাস বলছিলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে দুই ধরনের আনারস পাওয়া যায়। এরমধ্যে আকারে বড় ‘ক্যালেন্ডার’ ও আকারে ছোট গোলাকৃতির ‘জলঢুপি’। ক্যালেন্ডার ৫০ টাকা ও জলঢুপি প্রকারভেদে ৩০-৪০ টাকা হালি বিক্রি হয়।’

শ্রীমঙ্গলে চাষ হলেও মূলত জলঢুপি আনারসের উৎপত্তিস্থল সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামে। ওই গ্রামের নামেই আনারসের নামকরণ। সেখানে উঁচু-নিচু টিলাতে, বাড়ির আশপাশে আনারস চাষ হতো, এখনো হয়। সেই আনারস শ্রীমঙ্গলে বিস্তৃতি লাভ করে। 

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য টিলায় আনারস চাষ হয়। এমন তথ্য জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সর্বাধিক আনারস চাষের রেকর্ড মৌলভীবাজার তথা শ্রীমঙ্গলে। এখন এই আনারস ধরে রেখেছে শ্রীমঙ্গলের সুনাম। বাজারে তোলার জন্য আনারস বাছাই করছেন চাষি। ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমচাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত দুই ধরণের আনারস চাষ হয় শ্রীমঙ্গলে। এ দু’টি হলো ক্যালেন্ডার আর জলঢুপি। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দু’টির স্বাদ আলাদা। রসালো জলঢুপি খেতে মিষ্টি। ক্যালেন্ডারে মিষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম। 

তবে বানরের উৎপাতে আনারসের চাষ থেকে ক্রমশ মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা। চাষিদের অনেকে বলেন, আনারস চাষ করলে পারিপক্ক হওয়ার আগে বানরের দল এসে বাগানে ডুকে ফলগুলো নষ্ট করে দেয়। বানরগুলো পাকা আনারস নিয়ে খেয়ে ফেলে। কিন্তু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষের দায়বদ্ধতা থেকে বানরকে মারতে পারেন না।  ফলে অনেক চাষি লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ লেবু টক হওয়ায় বানররা খেতে পারে না। 

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৮শ’ ৯৭ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক আনারস চাষ হয় মৌলভীবাজারে ১ হাজার ১২৪ হেক্টর এবং সর্বনিম্ন সুনামগঞ্জে ২৭ হেক্টর এলাকায়। সিলেটে ১৯৪ হেক্টর ও হবিগঞ্জে ৫৫২ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়ে থাকে। 

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণত টিলা বা এমন এলাকায় আনারস চাষ হয়ে থাকে। যে কারণে মৌলভীবাজারে আনারসের ফলন বেশি হয়। 

বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০১৭
এনইউ/এইচএ/

করোনা: সিঙ্গাপুরে সেবা বন্ধ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন
সখ করে নয়, পেটের টানে কাজে আসছি 
দূষণ কমায় পাঞ্জাব থেকে দেখা গেলো হিমাচলের বরফপাহাড়
চট্টগ্রামে ৭৩ মামলায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা
অপ্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলে গ্রেফতার-আইনানুগ ব্যবস্থা 


করোনা: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে প্রায় অর্ধলক্ষ নিরাপত্তা কর্মী
উদ্বেগ প্রশমনে সহায় হতে পারে রাগ: হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া
দেশের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি বয়ে আনবে করোনা
সামাজিক দূরত্ব: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ
খুলনায় মসজিদ থেকে ঘরে নামাজ আদায়ের আহ্বান