php glass

২০ বছরেও হয়নি ডিসিসির জনবল কাঠামো: অসহায় মেয়র, সিদ্ধান্ত ছাড়া বৈঠক শেষ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভারে আক্রান্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন। বিশ বছর ধরে একই পদে রয়েছেন অনেকেই। পদোন্নতি বা বদলির বালাই নেই। কর্মকর্তাদের শুন্য পদে প্রেষণে নিয়োগ পাচ্ছেন সামরিক ও বেসামরিক আমলারা।

ঢাকা: ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভারে আক্রান্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন। বিশ বছর ধরে একই পদে রয়েছেন অনেকেই। পদোন্নতি বা বদলির বালাই নেই। কর্মকর্তাদের শুন্য পদে প্রেষণে নিয়োগ পাচ্ছেন সামরিক ও বেসামরিক আমলারা।

‘২০ বছরেও ডিসিসির জনবল বিধির তফসিল হয়নি। তার ফলেই এ প্রশাসনিক জটিলতা’ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বললেন ডিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

নিয়মিত পন্থায় দুয়েকটি পদোন্নতির উদাহরণ থাকলেও তাতেও ভিন্নমাত্রার অনিয়ম হচ্ছে। এ নিয়ে অসংখ্য্যবার ডিসিসিতে ঘটেছে অপ্রিতীকর ঘটনা।

অভিযোগ রয়েছে,  ডিসিসি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন এসব আমলাদের কাছে। তিনি যেভাবে কাজ করতে চান সেভাবে কাজ হয় না।

সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে ঢাকার ২৩ লাখ নগরবাসীকে পরিপূর্ণ নগর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ডিসিসি’র জনবল কাঠামো তৈরি হয়। পরে ১৯৯০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ৬৮ লাখ ৪৪ হাজার ধরে করা হয় আর একটি জনবল কাঠামো।

এর ২০ বছর পর বর্তমানে রাজধানীর জনসংখ্যা দাড়িয়েছে দেড় কোটি। তবে এ দীর্ঘ সময়েও নতুন কোনো কাঠামো তফসীল আকারে পাশ হয়নি।

২০০৫ সালে একটি নতুন জনবল কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা গোড়াতেই থেমে যায়।

আর এ নিয়ে ডিসিসিতে দেখা দিয়েছে নানা প্রশাসনিক জটিলতা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেবলমাত্র ডিসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকতা এবং প্রধান হিসাব রক ছাড়া বাকি সব বিভাগের প্রধানরাই প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া। ১০ টি আঞ্চলিক অফিসের প্রধান নির্বাহীদেরও নিয়োগ একই প্রক্রিয়ায়।

এছাড়া অনেক কর্মকর্তাই ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত কর্মকর্তা হিসেবে একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিসিসির একজন বাস টার্মিনাল সুপারভাইজার একইসঙ্গে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। একজন বাজার সুপার ভাইজারের ওপর চাপানো হয়েছে সম্পত্তি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত উপকর কর্মকর্তা ও সহকারী আইন কর্মকর্তার তিনটি অতিরিক্ত দায়িত্ব।

১৯৮৭ সালে ডিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজে যোগদেন আব্দুর রহমান। এরপর ২৩ বছর পার হলেও পদোন্নতি পাননি। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তিন মেয়াদে ১৪ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ খালি থাকলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি তফসীল পাশ না হওয়ার অজুহাতে। অথচ উপপ্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন মিয়া ও পরিবহন ম্যানেজার খন্দকার মিল্লাতুল ইসলামকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে (তফসীল পাশ সাপেক্ষে)। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রয়োগ হয়নি।

জানা গেছে, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেনীর জন্য (মাস্টাররোল ছাড়া) বর্তমানে অনুমোদিত পদের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫২টি। অথচ ডিসিসিতে কর্মরত আছেন তিন হাজার ৯৬৯ জন। বাকি এক হাজার ৮৩টি পদই খালি রয়েছে।

এ অবস্থায় বেশির ভাগ কর্মকর্তার পদ পূরণ হচ্ছে সামরিক-বেসামরিক আমলাদের দিয়ে।

ডিসিসিতে নিয়োগ পেয়েই ইচ্ছামত কাজ শুরুর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি মেয়রের অজান্তেই ডিসিসির ১৫০ কোটি টাকার জমি এমআর ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান। এর কিছুদিন আগেই তিনি মেয়রকে না জানিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় ফুটপাত  হকারদের বরাদ্দ দেন।

এসব নিয়ে ডিসিসিতে তীব্র ােভও রয়েছে।

নাম  প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘চাকরি করি কিন্তু প্রমোশন পাই না। কারণ বাইরে থেকে এনে আমাদের ওপরে বসিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আমাদের কখনো প্রমোশন হবে না।’

অভিযোগ রয়েছে, বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারুখ আজীজ ২০০৯ সালে প্রেষণে নিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল কাদিরকে হত্যার হুমকি দিয়েই বরখাস্ত হয়েছেন।  

বুধবার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে এসব নিয়ে এক জরুরি বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে মেয়র বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘কোন পদোন্নতির সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনবল কাঠামো নিয়েও কথা হয়েছে। এতে সচিব এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয়ে দেন দরবারের মাধ্যমে তা এগিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

ডিসিসির কর্মকর্তাদের ােভের বিষয়ে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘হতে পারে। তবে আমি বিষয়টি ঠিক জানি না। আমাকে কেউ জানায়নি। জানালে ব্যবস্থা নেব।’
 
এ সম্পর্কে ডিসিসির প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তের কারণেই পদোন্নতি থেমে আছে। তফসীল না হওয়াতেই এটা হচ্ছে।’

তবে যে পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরনের কথা তা পূরন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে নিয়োগের প্রয়োজন হবে সেখানেই নিয়োগ দেওয়া হবে’।

বাংলাদেশ সময় ১৮০১, ১৮ আগস্ট ২০১০

সিগন্যাল না দেখার অজুহাত তূর্ণার সহকারী চালকের
কুবিতে ভর্তির সাক্ষাৎকার শুরু ২৪ নভেম্বর
গোল্ডেন ফুট অ্যাওয়ার্ড জিতলেন মদ্রিচ
শীত আসছে ড্রাই শ্যাম্পুর রেসিপিটা মনে আছে তো!
১০ বছরে ২ হাজার রেল দুর্ঘটনা, মৃত্যু ২৬৩ জনের   


নির্বাচনের আগে পরপর ২ বার সাইবার হামলায় লেবার পার্টি
১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা
সঙ্গীর জন্য ২ পেঙ্গুইনের মারামারি
মহানবী (সা.)-এর প্রিয় ফল জয়তুন
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে শিল্পকলার মঞ্চে ‘দেবী’