ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তিতে উৎকণ্ঠায় ফেনীবাসী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত- এমনটিই মনে করছেন ফেনী ও উত্তর চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা।

মিরসরাই: বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত- এমনটিই মনে করছেন ফেনী ও উত্তর চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, বাংলাদেশের আমলীঘাট সীমান্তের ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন ফেনী নদীটি দু’দেশকে ভাগ করেছে। উভয় দেশের একাধিক ছোট-বড় খাল-ছড়া মিলিত হয়ে অবশেষে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে ফেনী নদী। সময় মতো ড্রেজিংয়ের অভাবে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে অতীতের যৌবন হারিয়ে বর্তমানে নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে প্রস্তাবিত চুক্তিগুলোর মধ্যে ফেনী নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি উঠে আসছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এ সম্পর্কে ফেনী জেলা প্রশাসক আব্দুল কুদ্দুস খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে জানান, ফেনী নদীর ভারত-বাংলাদেশ পানিবণ্টনের ব্যাপারটি পজেটিভ হবে বলে আমি মনে করি। এ চুক্তির খসড়া কপি না পাওয়ায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্য আমি বলতে পারবো না। তবে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহের অভাবে ফেনী ও মুহুরি নদীর নাব্যতা সঙ্কট দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি এসে ফেনী, পশুরাম, ছাগলনাইয়া ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশ তার চির যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। অতীতে এই নদীকে ঘিরে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ব্যাবসা বাণিজ্য ছাড়াও অর্থনৈতিক নানা বিষয় নিয়ন্ত্রিত হতো।

ফেনী নদী থেকে ভারতেকে পানি দেওয়া হলে চট্টগ্রাম ও ফেনীর বিশাল জলাভূমি মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

পানি প্রবাহ কম থাকায় ও শুষ্ক মৌসুমে চাহিদামতো পানির অভাবে চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার হাজার হাজার হেক্টর ইরি আবাদ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও স্থানীয়দের আশঙ্কা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ফেনী নদী থেকে উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকু-, মিরসরাই, মুহুরী প্রকল্প ও ফেনীর পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজীসহ বিভিন্ন এলাকার সেচ প্রকল্পগুলোতে পানির যোগান নিশ্চিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিবছর এসব উপজেলার মানুষের মধ্যে পানি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী নদী থেকে শুকনো মৌসুমে ভারতকে পানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হিসেবে উল্লেখ করেন এই অঞ্চলের মানুষ।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উপেন্দ্রনগর ও শাবরুম অঞ্চলের বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে প্রতিদিন ৭০ কিউসেক পানি ভারতকে দেওয়া হবে। তবে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য ফেনী নদী থেকে ভারকে কোনও পানি দেওয়া হবে না।

প্রতিদিন ৭০ কিউসেকের বেশি পানি ভারত নিচ্ছে কি-না পর্যবেক্ষণের জন্য জেআরসি বাংলাদেশ’র প্রতিনিধিদের বিশেষ দল পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন।

এজন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে দু’দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা। বিগত জোট সরকারের আমলে ঢাকায় জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তৎকালীন ভারতীয় পানিসম্পদমন্ত্রী ফেনী নদীর ওপারের (ত্রিপুরা রাজ্যের) মানুষের জন্য ৪০ কিউসেক পানি চেয়েছিলো বাংলাদেশের কাছে। কিন্তু তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারায় ফেনী নদী নিয়েও কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য সঙ্কট বাড়ার পাশাপাশি চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদন ও ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন প্রক্রিয়ায়।

শুধুমাত্র মুহুরী প্রকল্প এলাকার উৎপাদিত মৎস্য দিয়ে চট্টগ্রামের ৭০ ভাগ মৎস্য চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ফেনী নদীতে পানি সঙ্কট দেখা দিলে এই উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে একই কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ঘটে বঙ্গোপসাগরের সাহেরখালী-হাইতকান্দি ইলিশ অভয়াশ্রম পয়েন্টও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ফেনী নদীর বালু মহাল ইজারার মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। তবে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলে এ নদীতে পানি সঙ্কটের কারণে বালি উত্তোলন প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সূত্র জানায়, মিরসরাইয়ের আমলীঘাট সীমান্ত ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উপেন্দ্রনগর সীমান্ত দিয়ে পানিবণ্টন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য গত এক বছর ধরে ব্লক নির্মাণ করছে ভারত। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের ওই সীমান্ত এলাকায় নদীতে ব্লক স্থাপন করা হলে কিংবা পাইপের মাধ্যমে পানি আটকালে আমলীঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীতে চর জাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে বর্ষাকালে এই নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে প্লাবিত হবে উপকূলীয় এলাকা। হুমকির মুখে পড়বে ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

ফলে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বদলে যাবে মিরসরাই-ফেনীর ভূ-খ-ের সার্বিক চিত্র।

ফেনী নদীর পাড়ে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম, সবুজ কান্তি নাথ, উৎপল দে, মো. সুমন, মো. আবুল কাশেম, এনায়েত হোসেন নয়নসহ একাধিক ব্যক্তি বাংলানিউজকে জানান, ভারতকে ফেনী নদী থেকে পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে শুষ্ক মৌসুমে চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে।

তারা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে মিরসরাই ও ফেনীর পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দেয়। ফেনী নদী থেকে এই পানির চাহিদা কিছুটা মেটানো সম্ভব হলেও আগামীতে ভারতকে পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে হাজার হাজার একর আবাদী জমি অনুৎপাদিত খাতে চলে যাবে।

ভারতে পানি সরবরাহের জন্য বাঁধ তৈরি করতে ইতমধ্যে ৯০% ব্লক তৈরির কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তারা জানান, এসব ব্লক দিয়ে নদীতে বাঁধ দেওয়া হলে করেরহাট ইউনিয়নের ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নদী ভাঙন চরম আকার ধারণ করে বাংলাদেশের একটি বিশাল ভূ-ভাগ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১১

ঈদে তেঁতুলিয়ায় সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ, কড়া অবস্থানে পুলিশ
নগরবাসীকে মেয়র আরিফের ঈদ শুভেচ্ছা
করোনা আতঙ্ক নিয়েই ঘরে ফিরছে মানুষ
সড়কে দায়িত্ব পালনে গর্বিত, আফসোস নেই ট্রাফিক সদস্যদের
দেশবাসীকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা সাজেদা চৌধুরীর


‘চির উন্নত শির...’
আজ ১২১তম নজরুলজয়ন্তী

‘চির উন্নত শির...’

সাবেক এমপি মকবুলের মৃত্যুতে তাপসের শোক
হাসপাতাল কর্মচারীদের জন্য আতিকের ঈদ উপহার
সিলেট আওয়ামী পরিবারে করোনার হানা
হাজি মকবুলের মৃত্যুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর শোক