ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার আগে গণভোটের দাবি বিশিষ্টজনদের

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার আগে আলোচনা এবং গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজন। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শত নাগরিক’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান।

ঢাকা: ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার আগে আলোচনা এবং গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজন।

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শত নাগরিক’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ দাবি জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে ‘ইউনাইটেড মুভমেন্ট ফর আওয়ার ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনার এ আয়োজন করে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক আতাউস সামাদ বলেন, ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার দরকার আছে কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।  এমনকি ট্রানজিট দেওয়ার আগে অবশ্যই আলোচনা দরকার। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গণভোটের দাবিও জানান তিনি।

আতাউস সামাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা যারা কিছু বোঝেন না, তাদের কথা মতো সরকার স্বেচ্ছাচারি ও এক কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ফলে দেশ গণতন্ত্রহীনতার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা গণতন্ত্র ফেরত চাই।

দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের অধীনতামূলক চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা হরণ হবে। ট্রানজিটের জন্য ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো ২০ বছর ধরে ওকালতি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলের পরিষ্কার কোন বক্তব্য না থাকার সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, আপনারা কি চুক্তির পরে আন্দোলন করবেন?

ট্রানজিট চুক্তি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও মশিউর রহমানকে দায়ী করে তাদের গণশত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন মাহমুদুর রহমান। তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিরোধের আহবান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দীন আহমদ বলেন, ট্রানজিট নিয়ে যে সমস্যার সৃস্টি হয়েছে গত ৪০ বছরে বাংলাদেশ এমন সংকটের মুখোমুখি হয়নি। এই ট্রানজিটকে করিডোর ছাড়া আর কিছু বলা যেতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ট্রানজিট চুক্তি হলে রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। যা আমাদের জাতীয় বাজেটের এক তৃতীয়াংশ। এই অর্থ সংগ্রহে আমাদের জনগণের ওপর কর বসানো হবে। জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়ন বাদ রেখে রাস্তাঘাটের ওপর বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া পরিবেশ দুষণসহ অদৃশ্য বেশকিছু ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ।

ট্রানজিট নিয়ে তিনি কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার বলেন, কোন অবস্থাতে ভারতের সাথে অসম চুক্তি করা যাবে না।

সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন বলেন, জনগণের রায় ছাড়া বাংলাদেশে কোন চুক্তি করা যাবে না।

শত নাগরিক এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সদরুল আমীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তাহিদুর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নিতাই রায়, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, যুক্তরাজ্য নাগরিক কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, অভিন্ন নদী সংযোগ বাতিল, সীমান্তে হত্যা বন্ধ ও হত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়া, ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সৃষ্টি, সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া তুলে ফেলার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এর আগে শত নাগরিকের উদ্যোগে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। আলোচনা এবং মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

আনোয়ারা রাব্বীর মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক
পালানোর চেষ্টা করোনা রোগীর, ধরে হাসপাতালে পাঠালো পুলিশ
মঠবাড়িয়ায় তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার
ঈদের দিনেও বিষোদগারের রাজনীতি থেকে বের হয়নি বিএনপি
ঈদেও থেমে নেই সিএমপির সদস্যরা


প্রকৌশলী দেলোয়ারের হত্যাকারীদের বিচার চায় টিআইবি
ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩
বরগুনায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে কিশোর হত্যা
'শহরতলী চুপ' ও 'মেঘ বালিকা' নিয়ে ঈদে সমরজিৎ
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু