ট্রানজিটের জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ভারতকে ট্রানজিট দিলে বছরে কি পরিমাণ অতিরিক্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে এমন কোনো জরিপ, সমীক্ষা অথবা নিশ্চিত ধারণা নেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। তবে বর্তমানের চেয়ে দু’লাখ টিইউস পর্যন্ত অতিরিক্ত কনটেইনার উঠানামা করার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে বন্দরের।

চট্টগ্রাম: ভারতকে ট্রানজিট দিলে বছরে কি পরিমাণ অতিরিক্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে এমন কোনো জরিপ, সমীক্ষা অথবা নিশ্চিত ধারণা নেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। তবে বর্তমানের চেয়ে দু’লাখ টিইউস পর্যন্ত অতিরিক্ত কনটেইনার উঠানামা করার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে বন্দরের।

ট্রানজিট দিলেও দু’লাখেরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবেনা- শুধুমাত্র এমন ধারণার উপর ভিত্তি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তারা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের জন্য ‘আপাতত’ প্রস্তুত।

ট্রানজিট বিষয়ক সরকারি একটি সাব-কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘ট্রানজিটের পর কি পরিমাণ অতিরিক্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে এ বিষয়ে বলতে পারবে ভারত সরকার ও সেদেশের ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু তারা এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি। তবে আমরা মনে করছি দু’লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং পণ্য রাখার ধারণ ক্ষমতা মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদ্যমান ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সুবিধা বর্তমানে অব্যবহৃত থাকছে। বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধার গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতার গড়ে মাত্র ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। অব্যবহৃত সুবিধা ট্রানজিটের কাজে ব্যবহার করা যাবে বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ট্রানজিট বিষয়ক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বিষয়টি চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘বন্দরে যে পরিমাণ লোকবল, যন্ত্রপাতি আছে তাতে ট্রানজিটের অতিরিক্ত কার্যক্রম সম্পাদনের চ্যালেঞ্জ নিতে বন্দর আপাতত প্রস্তুত। তবে ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। না হলে ট্রানজিটের সিদ্ধান্ত চলমান রাখা দূরুহ হয়ে পড়বে।’

এদিকে ট্রানজিট না দিলেও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের হার দ্রুত বাড়ছে। গত দু’ দশকের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর এবারই সবচেয়ে বেশি কনটেইনার উঠানামা (হ্যান্ডলিং) করেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

কনটেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন বেড়ে যাবার সত্যতা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ মো.ফরহাদউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘পোশাক শিল্প সহ বিভিন্ন খাতে সামগ্রিক রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংও বেড়েছে। আর সমুদ্রপথে কনটেইনারের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সুবিধাজনক হওয়ায় দিন দিন কনটেইনারের চাহিদাও বাড়ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার এনামুল করিম বাংলানিউজকে জানান, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৬৯ হাজার টিইউস। আগের অর্থবছর হয়েছিল ১২ লাখ ১২ হাজার টিইউস। আগের অর্থবছরের চেয়ে এবার প্রায় আড়াই লাখ টিইউস কনটেইনার বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে।   
 
উল্লেখ্য, এনসিটির পরীক্ষামূলক তিনটি জেটিসহ বন্দরের ১৯টি জেটির মধ্যে দশটিতে এখন কনটেইনারবাহী জাহাজ হ্যান্ডলিং হচ্ছে। বাকি নয়টি জেটিতে খাদ্যশস্যসহ সাধারণ পণ্যবোঝাই জাহাজ হ্যান্ডলিং হচ্ছে।
 
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের ১০টি কনটেইনার জেটিতে কনটেইনার ওঠানামার ক্ষমতা ১৩ লাখ ইউনিট। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার উঠানামার পরিমাণ ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

তবে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) নজরুল ইসলাম জানান, নিউমুরিং কনটেইনার টর্মিনাল (এনসিটি) চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত আরও দশ লাখ টিইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে।

এক্ষেত্রে ট্রানজিটে কনটেইনার পরিবহনের যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সেটা সামাল দেওয়া যাবে বলেও মনে করছেন নজরুল ইসলাম।

তবে ট্রানজিট চালুর পর বন্দরের বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে আশংকা করেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে বর্তমানে ৯ দশমিক ১ ড্রাফটের বেশি আয়তনের জাহাজ ঢুকতে পারেনা।  শীতকালে এ আয়তন আরও কমে আসে। নাব্যতা সংকটে বড় জাহাজ ঢুকতে না পারলে ট্রানজিটের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বৈঠকে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে-বন্দরের নিয়মিত জাহাজ ‘খনক’ এর মাধ্যমে নিয়মিত নদীতে ড্রেজিং করা হবে। আর ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে নাব্যতা সংকটও অনেকাংশে কমে আসবে।

বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতিতে বিভিন্ন কারিগরি  ত্রুটিসহ নানা সমস্যায় কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অপারেটরদের বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হয়। এ নিয়ে ক্ষোভও আছে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

তবে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘এনসিটি বেসরকারি অপারেটরের হাতে দেওয়ার পর সেখানে ১০টি গ্যান্টিক্র্যান স্থাপন করা হবে। এতে যন্ত্রপাতির সংকট কেটে যাবে।’

সরকারী বিভিন্ন পর্যায় থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে কিছুটা ধীরগতি আছে বলে আশংকা করা হলেও বন্দর কর্মকর্তারা মনে করছেন-অটোমেশনের আওতায় স্বয়ংক্রিয় সিটিএমএস পদ্ধতিতে হ্যান্ডলিং শুরু হলে ধীরগতি থাকবেনা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের জায়াগা হারাচ্ছে ইস্তানবুল
৭০০ কোটি মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে লাগবে ৩-৪ বছর
আন্দোলন করে বহিষ্কার, ইউএসটিসি কর্মচারীদের বিক্ষোভ
মুসল্লিদের জন্য খুলছে মসজিদে নববীর দুয়ার
প্লাজমা দিয়েও বাঁচানো গেল না করোনা রোগী


শর্ত মেনে করতে হবে নাটকের শুটিং
শাহ আমানত বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রস্তুতি
টানা দ্বিতীয়বার সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ
রাজাপু‌রে পু‌লিশ‌কে কু‌পি‌য়ে জখম
করোনায় শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ইমামুল কবীরের মৃত্যু