ভারতের সঙ্গে ‘সই নীতি’ বা ‘জানি দুশমন’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

মনমোহনের সফর নিয়ে দেশে বেশ মিশ্র উত্তেজনা চলছে। এক পক্ষ তাকে স্বাগত জানাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে, অন্যপক্ষ মুখে তেমন প্রকাশ না করলেও যদি পারতো চিরতার শরবত দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা দিতো বলে মনে হয়।

মনমোহনের সফর নিয়ে দেশে বেশ মিশ্র উত্তেজনা চলছে। এক পক্ষ তাকে স্বাগত জানাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে, অন্যপক্ষ মুখে তেমন প্রকাশ না করলেও যদি পারতো চিরতার শরবত দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা দিতো বলে মনে হয়। ছোট বেলায় দেখেছি এক পাড়ার সংগে অন্য পাড়ার খেলা হলে হার জিতের চেয়ে বেশী উৎসাহ ছিলো কোন পাড়া আশেপাশের কতো নামকরা খেলোয়াড়কে নিয়ে আসতে পারে। অনেকটা কোরবানির জন্য বড় একটা গরু কেনার মতো। কোরবানির উদ্দেশ্য বড় নয়; বড় হোল লোক দেখিয়ে কৃতিত্ব নেওয়া।

আমাদের দেশেও দেখছি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে প্রধান দুই দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন কে কতো বিশ্বের প্রধান প্রধান ব্যক্তিকে বাংলার মাটিতে টেনে আনতে পারবে তার প্রতিযোগিতা। রাষ্ট্রের স্বার্থ যদিও আদায় হয় না তথাপি নামী খেলোয়াড় আনার মতো কিংবা কোরবানীর দামী গরু কেনার মতো একটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।

মনমোহনের সফর নিয়ে সে রকমই হয় কি না দেখার পালা। প্রতিবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাহ্যিকভাবে মনে হয় ভারতের সাথে আমাদের একটা ভাল সম্পর্ক যাচ্ছে। কিন্তু আসলে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে মিষ্টি বাক্য বিনিময় আর দু একটা বন্ধ্যা চুক্তি ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। আমাদের পানির হিস্যা, বৈষম্যের বাণিজ্য, সীমান্তে মানুষ হত্যা, ছিটমহল সমস্যা কোনটারই বাস্তব কোনও সমাধান হয়নি। যদিও চুক্তি হয়েছে কয়েকটি; কিন্তু সেগুলোর সত্যিকার কোনও প্রয়োগ নেই।

সেদিন একটি কাগজে খবরের হেডিং পড়ে বাণিজ্যচুক্তির একটা কৌতুককর দিক চোখে পড়লো। বলা হয়েছে, ভারতের সংগে আমাদের পণ্যের রপ্তানি প্রথমবারের মতো পঞ্চাশ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবরের পরিধি এ পর্যন্ত হলে খুশি হতাম। কিন্তু পরে লিখেছে, রপ্তানি বাড়ার সাথে সাথে ভারতের সাথে আমদানিও বেড়েছে বহুগুণে। ফলে বাণিজ্যঘাটতিও বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। আমাদের চুক্তির প্রায় সকল প্রাপ্তিই এ রকম। সব যেন ছেলেভোলানো মোয়া কিংবা কোনও কৌতুক।

ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক কখনোই আন্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে শুধু ভাল বাক্যবিনিময় এবং এক পক্ষের ত্যাগকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বলা যায় না। ভারতেরই একজন বিখ্যাত পণ্ডিত কৌটিল্য বা চানক্য বলে গেছেন,“There is some self-interest behind every friendship. There is no friendship without self-interests. This is a bitter truth.”

কথাটা একটু নয় পুরোপুরি সত্যি। ভারত বরাবরই এই নীতিতে অটল ছিল নিজের বেলায়। শুধু আমাদের বেলায় ভুলিয়ে ভালিয়ে, কিছু অনুর্বর চুক্তি উপহার দিয়ে বারবার আমাদের বোকা বানিয়েছে। ভারতের মতো ঝানু কূটনীতির পররাষ্ট্রনীতির সংগে পাল্লা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সব সময় স্বাধীনতাযুদ্বে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তাদের একটা বাড়তি সুযোগ করে দেয় দরকষাকষিতে। মনে রাখতে হবে, একাত্তর সালে ভারতের সাহায্যটাও ছিল উপরের ঐ চানক্যনীতির মধ্যে থেকেই। এই যুদ্ধে আমাদের বিজয় তাদেরও অনেক কল্যাণ বয়ে এনেছে অর্থনৈতিকভাবে, সামরিক কৌশলগতভাবে। এই সত্যটা আমরা এড়িয়ে গেলেও ভারত কিন্তু আমাদের অতি কৃতজ্ঞতায় মিটিমিটি হাসে।

ভারতের কূটনৈতিক নীতির বিপরীতে আওয়ামী লীগ সব সময় গ্রামাঞ্চলের সেই ‘সই পাতানো’ (সখী পাতানো)বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করে এসেছে ভারতের সংগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে। সই যেভাবে আরেকজন সইকে শZ© ছাড়া নিজের সব কিছু দিতে পারলে খুশি থাকে, বর্তমান সরকার বরাবর ভারতের সংগে এই ‘সই নীতি’ অনুসরন করেছে।

অন্যদিকে, এখনকার বিরোধী দলের নীতি হলো, ‘জানি দুশমন” হিসেবে ভারতকে উপস্থাপন করে ভোটের পরীক্ষায় উতরে যাওয়া। এই ‘সখী ভিত্তিক’ কিংবা ‘জানি দুশমন’ উভয়ের কোনটাই দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনেনি এবং ভবিষ্যতে আনবেও না।

আবেগ কিংবা ভোটের রাজনীতি দিয়ে দেশের কোন স্বা_© রক্ষা হয় না। পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। রপ্তানির মোট টাকা বাড়িয়ে আমদানিও সাথে সাথে বাড়ালে যে বাণিজ্য ঘাটতি কমে না সে কথা যেমন বুঝতে হবে এবং একইভাবে পানি চুক্তি করে বর্ষার ঠিক আগে কিংবা ঠিক পড়ে একটু পানি দিলে যে চুক্তির শZ©  পালিত হয় না এই বুদ্ধিটুকু আমাদের মাথায় থাকতে হবে।

মনমোহন ব্যক্তিগতভাবে একজন ভাল মানুষ। কিন্তু ভারতীয়দের একটা ভাল গুণ হচ্ছে তারা নিজের দেশের স্বার্থ কখনো বিকিয়ে দেবে না। আমরা ভারতের শাড়ী-চুড়ির মতো ন্যক্কারজনকভাবে তাদের ভাষা হিন্দিটাকেও গ্রহণ করছি। কিন্তু তাদের বৈদেশিক নীতির ভাল দিক যার দ্বারা আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে, সেটা অনুসরণ না করে ‌‌‌‌সই পাতানো এক পাক্ষিক উদারতায় গিয়ে শুধুই তাদের দিতে চাচ্ছি।

আমরা ট্রানজিট দেবো না কেন? অবশ্যই দেবো। কিন্তু সেটা থেকে তো একটা অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায় হতে হবে। তাছাড়া আমরা কেন ভারতকে শুধু উর্বর, কার্যকরী চুক্তি উপহার দিয়ে ওদের কাছ থেকে বন্ধ্যা চুক্তি নিয়ে খুশি থাকবো?

মনমোহনের সফরে আমাদের দেখার পালা ভারত কতটুকু সত্যিকারের বন্ধুত্বের বারতা নিয়ে এসেছে। যাদের নিজের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে না তারাই চায় শুধু নিজেকে ছোট করতে। আমরা শুধু ভারতের কাছ থেকে নেইনি; তাদেরও দিয়েছি অনেক কিছু। সে কথাও আমাদের বলতে হবে। মনমোহন আসছেন, দেখা যাক কি হয়!

চানক্যের আরেকটা বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করবো- "A debt should be paid off till the last penny; An enemy should be destroyed without a trace".  কাঁটাতারে ঝোলা মৃত ফালানীদের ছবি এবং নিহত বাঙালীর লাশ গাছে ঝুলিযে দেবার দৃশ্য যে উপরের উক্তির সংগে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, মনমোহনের কাছ থেকে আমরা সেই বিশ্বাসটা ফিরে পেতে চাই। দেখা যাক তিনি তার মোহনবাঁশি দিয়ে বন্ধ্যা চুক্তিগুলোতে প্রাণের সঞ্চার করে বন্ধুত্বের সত্যিকার পরিচয় দিতে পারেন কি না!

বাংলাদেশ সময় ১৬০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

করোনায় গরুর খামারিদের লোকসান ২০০০ কোটি টাকা
চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ইম্পেরিয়াল-ইউএসটিসি
নিরানন্দ ঈদের দিনগুলোতে ফাঁকা সাভারের বিনোদন কেন্দ্র
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই
হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের পর ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ লঙ্কান পেসার


নদীর পাড়ে ঈদ বিনোদন
হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪
জেনারেল হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু
শুধু সাধারণ জীবাণু নয়, করোনা রুখতেও মাউথওয়াশ!
আনোয়ারা রাব্বীর মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক