মসিউর, গওহর ও শাজাহান খানের অদম্য আগ্রহে ট্রানজিট পাচ্ছে ভারত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে পশ্চিম অংশের সরাসরি স্থল ও নৌপথে যোগাযোগের অনুমোদন পাচ্ছে ভারত। ভারতকে ট্রানজিট বা করিডোর পাইয়ে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর দুই জন উপদেষ্টা এবং একজন মন্ত্রী। এমন দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ঢাকা: বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে পশ্চিম অংশের সরাসরি স্থল ও নৌপথে যোগাযোগের অনুমোদন পাচ্ছে ভারত। ভারতকে ট্রানজিট বা করিডোর পাইয়ে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর দুই জন উপদেষ্টা এবং একজন মন্ত্রী। এমন দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরে ট্রানজিট ইস্যুটি চূড়ান্ত না করতে গত সপ্তাহেও আগ্রহী ছিল না বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ‘অদম্য আগ্রহে’ শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে ট্রানজিটের ব্যাপারে রাজি হন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। এবারের সফরে ট্রানজিটের বিষয়টি চুক্তি হিসেবে বিষয়টি স্বাক্ষরিত না হলেও বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।   

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ট্রানজিট নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের নিমরাজির খবর দিল্লিতে পৌঁছালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন গত শনিবার হঠাৎ করেই ঢাকা সফর করেন। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের জন্য মেননকে ভারতীয় পক্ষের ‘সমন্বয়কারী’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পক্ষে ওই সফরের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর ওই দুই উপদেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা ট্রানজিটের পুরো প্রক্রিয়ার পক্ষে ইতিবাচক যুক্তিগুলো তুলে ধরেন এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান অবশ্য শুধু নৌপথের ট্রানজিটের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরেন।

দেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমেই ভারত এ ট্রানজিট পাচ্ছে বলেই সূত্র জানায়। ট্রানজিটের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাইকরা ১৭টি রুটের মধ্যে ১২ থেকে ১৫টি রুটকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে। তবে সেটি করতে আরও কিছুদিন সময় প্রয়োজন হবে।

ট্রানজিট দিতে বাংলাদেশের গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে। তাদের সুপারিশের আগে ট্রানজিট বিষয়ে প্রটোকল বা কোনও ধরনের চুক্তির বিরোধিতা ছিল কমিটির ভেতর থেকেই।

বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট রাস্তা-সেতু, নৌপথের নাব্যতা বা রেলপথের সক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনায় এনে পরবর্তীতে ট্রানজিটের ব্যাপারে চূড়ান্ত রাজি হতেই সরকারকে ওই কমিটি মৌখিক নির্দেশনা দেয় বলে সূত্রের খবর।

‘তবে শিবশংকর মেননের দ্বিতীয় দফা ঝটিকা সফরের পর সবকিছুর খুব দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে’, দাবি ওই সূত্রের।

রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে ট্রানজিটের ব্যাপারে অবশেষে সরকারের শীর্ষস্থানীয় Ÿ্যক্তিত্বরা রাজি হন।

ট্রানজিটের ব্যাপারে ওই বৈঠকেই সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টির সতত্য পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের কণ্ঠে।

মসিউর রহমান রোববার বিকেলে বাংলানিউজকে টেলিফোনে জানান, ‘বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি একই তথ্য জানিয়ে রোববার বিকেলে নিজ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভারতের জন্য দেওয়া এ সুযোগ পরবর্তী সময়ে নেপাল ও ভূটানও পেতে পারে।’  

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ভারতের সর্বশেষ পাঠানো ট্রানজিট বিষয়ক প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘বর্তমান নৌ-প্রটোকল সুবিধা ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দুটি ব্যবহার করতে চায় ভারত। এর আওতায় পরিবহন হওয়া সব ধরনের পণ্য শুল্ক ও অন্যান্য সারচার্জ থেকে মুক্ত থাকবে। তবে পণ্য পরিবহনের ও অন্যান্য সেবার জন্য মাশুল নেওয়া যাবে।’

মনমোহনের সফরের পরও এর শর্তে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে চাইলে তা অবশ্য আগামী বছরেরর ৩১ মার্চের মধ্যে আনা যাবে এমন প্রস্তাবও ভারতের খসড়ায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলের আওতায় নৌপথে পণ্য পরিবহনের জন্য কোনো মাশুল আদায়ের সুযোগ নেই। শুধু নৌপথের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেয় ভারত।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মনে করে, দেশের এই দুটি বন্দরের পুরো সক্ষমতা স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখন বন্দরের সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে বন্দর ব্যবহারে ভারতকে সুযোগ দিতে সুপারিশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১১

৩১ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে জার্মানি সরকার
ঈদে প্রকাশ হলো ইকরিমিকরির গান
লকডাউন: মৃত্যুপথযাত্রী মাকেও দেখতে যাননি ডাচ প্রধানমন্ত্রী
নারগিস ফাখরির সঙ্গে তাপসের গান ‘নিত দিন জিয়া মারা’
কোটচাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত


ধরা পড়ে আবারও বিয়ের পিঁড়িতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান
নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের দিন শহর ফাঁকা!
বোলারদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ মিসবাহ’র
শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির ১৮ সদস্য কোয়ারেন্টিনে
লালা ব্যবহার নিষিদ্ধ হলে মানুষ আর ক্রিকেট দেখবে না: স্টার্ক