বালুচরে আটকে গেল তিস্তা চুক্তি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না।

ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রবল আপত্তিতেই এ চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

নয়াদিল্লি থেকে সোমবার দুপুরেই ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনমোহনের সফরসূচি অপরিবর্তিত থাকছে।
 
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব রঞ্জন মাথাই নয়াদিল্লিতে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভালভাবে আলোচনার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব সোমবার সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা তো এখনও অফিসিয়ালি জানি না, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে।’  

গত রোববার তিস্তার পানি চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা অভিযোগ করেন চুক্তি অনুসারে পশ্চিমবঙ্গ কম পানি পাবে, তাতে তার রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে তিনি ঢাকায় মনমোহনের সঙ্গে সফরসঙ্গী হতেও অস্বীকার করেন।

মমতা নয়াদিল্লিকে লিখিতভাবে জানান, ‘সরকার আমাকে যে কথা দিয়েছিল সেই কথা রাখেনি। শিবশঙ্কর মেনন কলকাতায় এসে মহাকরণে আমার সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন যে এমন কোনও চুক্তি তিস্তার পানি বন্টনে হবে না, যা পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটাবে।

‘বাংলাদেশে মাত্র ১৩৪ কিলোমিটার নদী থাকলেও সেখানে বর্ষার সময় বেশি পানি দিয়ে দিলে উত্তরবঙ্গে চাষের জন্য পানি পাবেন না। একারনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে গেলাম না ও চুক্তির বিরোধিতা করলাম’, বলেন মমতা।  


এ ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ অনেকেই মমতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারা মমতাকে বুঝিয়ে বলেন, এ চুক্তির ফলে রাজ্যের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুন্ন হবে না। কিন্তু কোনও যুক্তিই মমতা মানেননি।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননও মমতা বোঝানেরা ব্যর্থ চেষ্টা করে বলেন, ‘আগে চুক্তিটা হয়ে যাক। তারপর আপনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আপনার আপত্তির কথা জানাবেন।’

কিন্তু মমতা এতে রাজি হননি। জবাবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন এই মুখ্যমন্ত্রী মেননকে বলেন, ‘আপনারা অসৎভাবে এ চুক্তি করতে চাইছেন।’

ঢাকার পক্ষ থেকেও মমতাকে বাংলাদেশে আসার জন্য ও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হলে মমতা জবাবে জানান, ‘এ বিরোধ বাংলাদেশের সঙ্গে নয়। চুক্তিতে তার রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার কিছু করার নেই।’

তিস্তার খসড়া চুক্তিতে ১০ শতাংশ পানি নদীর প্রবাহের জন্য রেখে বাকি পানির ৫২ শতাংশ ভারত ও ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশকে দেয়ার কথা আলোচনা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের এক সাংসদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অসন্তোষ হয়। ওই সংসদ সদস্য বলেছিলেন, বাংলাদেশকে মাত্র ২৫ শতাংশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিবশংকর মেনন। এরপর ঢাকা অসন্তোষ কাটাতে মেনন ঝটিকা সফরে ঢাকা আসেন এবং তিস্তার বিষয়ে আস্বস্ত করেন। এরপরই মমতার আপত্তিতে ভেস্তে গেল তিস্তার পানি চুক্তি।

মমতার প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পাবে ১২ শতাংশ পানি।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

পেশা পরিচালনা করতে পারবেন গাইবান্ধার সেই ১৭ আইনজীবী
করোনায় মারা গেলেন সাংবাদিক মোনায়েম খান
পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ওষুধের বাজার হাজারী গলিতে ৪ ম্যাজিস্ট্রেটের সাঁড়াশি অভিযান
না’গঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার, মৃত্যু ৮৫


করোনা আক্রান্ত সাবেক মেয়র কামরান ভেন্টিলেশনে
টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির দাবিতে নৌবন্ধন
একইসঙ্গে ২৫ স্কুলের শিক্ষিকা, বেতন বাবদ আয় কোটি টাকা!
বীরগঞ্জে রাস্তার দাবিতে অবরুদ্ধ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন
বগুড়ায় করোনায় আরও একজনের মৃত্যু