চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

এম সাইফুর রহমান। সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে কালজয়ী নাম। বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের অন্যতম এ রাজনীতিক তার জীবদ্দশায় সিলেটের ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

সিলেট: এম সাইফুর রহমান। সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে কালজয়ী নাম। বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের অন্যতম এ রাজনীতিক তার জীবদ্দশায় সিলেটের ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। সিলেটবাসীর হৃদয়ে তিনি বেঁচে আছেন তার অগণিত অসামান্য অবদানের জন্য।

সিলেটে তার উন্নয়ন কর্মকা-ের ব্যাপ্তি এতো বিশাল যে এ কৃতিত্ব অতিক্রম করা অন্য অনেক রাজনীতিবিদের পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনীতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার অনন্য সব অবদান দেখে বলা চলে, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’।

যে ক’জন মানুষের একাগ্রতায় গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের মধ্যে সাইফুর রহমান অন্যতম। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলটি সফল পরিণতি পাওয়ার পেছনেও রয়েছে তার ঐকান্তিক শ্রম আর নিষ্ঠা রয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর জননেতা এম সাইফুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। কৃতী মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

বৃহত্তর সিলেটবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সিলেট প্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত এম সাইফুর রহমানকে। কীর্তিমান এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুর দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তার অভাব অনুভব করছেন সিলেটের মানুষ।

২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় এই প্রবাদ-পুরুষের প্রাণ। দীর্ঘ বিরতির পর সিলেট সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ওইদিন বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের খাড়িয়াল এলাকায় দুর্ঘটনায় পতিত হয় সাইফুর রহমানকে বহনকারী গাড়ি।

রাস্তা থেকে গাড়িটি ছিটকে পাশের খাদে পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ সময় দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয় সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাইফুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে সেদিন বৃহত্তর সিলেটসহ সারাদেশে তার অগণিত ভক্ত অনুরাগীর মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মৌলভীবাজারের বাহার মর্দান গ্রামে ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণকারী এম সাইফুর রহমানের পুরো জীবন ছিল উজ্জ্বল কর্মময়। বিলেত ফেরত এ চার্টার্ড একাউনট্যান্ট আপন যোগ্যতাবলেই দেশের অর্থমন্ত্রী হন একাধিকবার। দেশের জাতীয় সংসদে সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট উপস্থাপন করে হয়ে যান বিশ্ব রেকর্ডধারী।

ছাত্রজীবনে রাজনীতির লোক না হলেও ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অংশ  নেন মহান ভাষা আন্দোলনে। এজন্য তাকে জেলও খাটতে হয়।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতে অভিষেক হয় সাইফুর রহমানের।

এরপর তিনি বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারের গঠনের পর বিএনপি আবারো তাকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়।

১৯৯৬ সালে তিনি সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি মৌলভীবাজারের আসন ছেড়ে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনভুক্ত সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জবাসীর প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় সংসদে।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় আবারো অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।

কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে সংস্কার পন্থি আন্দোলনে নেতৃত্ব দান ও কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করায় দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তাই কর্মময় জীবনের অধিকারী সাইফুর রহমানের শেষ বিদায়পর্বটা অনেকটা ম্লানই হয়ে ওঠে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

পেশা পরিচালনা করতে পারবেন গাইবান্ধার সেই ১৭ আইনজীবী
করোনায় মারা গেলেন সাংবাদিক মোনায়েম খান
পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ওষুধের বাজার হাজারী গলিতে ৪ ম্যাজিস্ট্রেটের সাঁড়াশি অভিযান
না’গঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার, মৃত্যু ৮৫


করোনা আক্রান্ত সাবেক মেয়র কামরান ভেন্টিলেশনে
টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির দাবিতে নৌবন্ধন
একইসঙ্গে ২৫ স্কুলের শিক্ষিকা, বেতন বাবদ আয় কোটি টাকা!
বীরগঞ্জে রাস্তার দাবিতে অবরুদ্ধ ৫০ পরিবারের মানববন্ধন
বগুড়ায় করোনায় আরও একজনের মৃত্যু