আমরণ অনশনে যাচ্ছে বড়পুকুরিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ গ্রামবাসী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে ভূমি অবনমনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ১০ গ্রামবাসী মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করবে।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর): বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারণে ভূমি অবনমনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ১০ গ্রামবাসী মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করবে।

সরকার ঘোষিত ১৯০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সন্তানদের চাকরির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করবে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংগঠন ‘জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটি’র আহবায়ক ইব্রাহিম খলিল বাংলানিউজকে জানান, এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য সরকার এক বছর আগে ১৯০ কোটির টাকার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। সরকার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের তহবিলে ওই পরিমাণ অর্থও সরবারহ করেছে।

কিন্তু জেলা প্রশাসক বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপন করছে। এছাড়া এসব পরিবারের ছেলেমেয়েদের কয়লা খনিতে চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও খনি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্যাকেজে উল্লেখিত অবকাঠামোর জন্য ৩৩ কোটি, গাছপালার জন্য আট কোটি, অনির্ধারিত খাতে এক কোটি এবং গত দু’বছরের ফসলের ক্ষতিপূরণসহ সর্বমোট ৪৪ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে না পায় তার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।’

এসব দাবি ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে মর্মে গত ২৮ আগস্ট জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি দেওয়া হয়। যতদিন পর্যন্ত এককালীন ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি দেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত অনশন চলবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ভূমি জরিপসহ অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের আওতায় রয়েছে এবং অধিগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মজিব-উল-ফেরদৌস বাংলানিজউকে জানান, গত জুলাই মাসে জরিপ শেষ করে ভূমি মালিকদের ৬ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের আপত্তির শুনানিও গত আগস্ট মাসে শেষ হয়। এখন শুধু ৭ ধারায় নোটিশ (অধিগ্রহণকৃত ভূমির মূল্য বাবদ চেক গ্রহনের নোটিশ) প্রদান বাকি রয়েছে।

তিনি আরো জানান, চলতি মাসের ১৫-১৬ তারিখের মধ্যেই ৭ ধারায় নোটিশ দেওয়া হতে পারে বলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক অফিস সূত্রে জানা গেছে।

তিনি জানান, সোমবার বেলা আড়াইটায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যোগদানের জন্য জেলা প্রশাসক জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ঢাকা গেছেন। বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের চেক দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হতে পারে।

তবে গাছপালাসহ অনির্ধারিত কিছু বিষয়ে এখন পর্যন্ত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সাংসদ ভূমি প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিজউকে বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আজকের বৈঠকে ক্ষতিগস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত এক বছর ধরে জেলা প্রশাসকের তহবিলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ঘোষিত প্যাকেজের ১৯০ কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ২০০৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে উত্তর ও পূর্ব দিকের ১০ গ্রামের বসতভিটা, বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির ও ঈদগা মাঠসহ প্রায় ৪৪৬ একর ফসলি জমি ১ ফুট থেকে ৪ ফুট দেবে গেছে।

গত ৪ বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত মৌপুকুর, বাঁশপুকুর, জিগাগাড়ি, কালুপাড়া, বলরামপুর, বৈদ্যনাথপুর, বড়পুকুরিয়া, পাতড়াপাড়াসহ ১০টি গ্রামের লোকজন জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১১

‘চির উন্নত শির...’
আজ ১২১তম নজরুলজয়ন্তী

‘চির উন্নত শির...’

সাবেক এমপি মকবুলের মৃত্যুতে তাপসের শোক
হাসপাতাল কর্মচারীদের জন্য আতিকের ঈদ উপহার
সিলেট আওয়ামী পরিবারে করোনার হানা
হাজি মকবুলের মৃত্যুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর শোক


কল্যাণপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
সিলেটে নতুন ১৮সহ ২৮ জনের করোনা পজিটিভ
সাবেক এমপি হাজি মকবুল-এর মৃত্যুতে স্পিকারের শোক
চট্টগ্রামে আরও ৬৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত
রাজশাহীতে নতুন ৮ জনের করোনা শনাক্ত, ৩ জন নগরের