৫ বছরে বিএসএফ ও খাসিয়াদের গুলিতে সিলেটে ১০ বাংলাদেশি নিহত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে গত পাঁচ বছরে বিএসএফ ও খাসিয়াদের গুলিতে ১০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। চিকিৎসার অভাবে এদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে গত পাঁচ বছরে বিএসএফ ও খাসিয়াদের গুলিতে ১০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। চিকিৎসার অভাবে এদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 সেইসঙ্গে বিএসএফ ও খাসিয়া আতঙ্কে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশিরা পার করছেন দিন। কারণ প্রায়ই ভারতীয় খাসিয়ারা সেদেশের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ’র সহায়তায় বাংলাদেশের ভূখ- থেকে ক্ষেতের পাকা ধান ও বিলের মাছ এবং গবাদী পশু প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছে তারা। এ অভিযোগ সীমান্তবাসী সব বাংলাদেশির।

এসব ঘটনায় গত পাঁচ বছরে শুধু বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন এখনও চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মরছেন।

কোনও বাংলাদেশি আহত এবং নিহত হওয়ার পর প্রতিবারই বিজিবি ও বিএসএফ‘র মধ্যে যৌথ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ কেবল দুঃখ প্রকাশ করেই দায় সারে। পরে গুলি চালিয়ে এভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হবে নাÑ এমন অঙ্গীকার করার পরও তারা আবার গুলি চালিয়ে নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা করে বলে জানান সীমান্তবাসীরা।

গত ২৯ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বাংলাদেশ সফরকালে বিএসএফ ও খাসিয়ারা সীমান্তে গুলি চালাবে না এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু এর দুই সপ্তাহের মধ্যে ১২ আগস্ট বিছনাকান্দি সীমান্তে খাসিয়ার গুলিতে নিহত হন বিছনাকান্দি গ্রামের দুই পাথর শ্রমিক কামাল উদ্দিন ও কামাল আহমদ।

নিহতদের পরিবারে এখনও চলছে শোকের মাতম। তাদের পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

এছাড়া বিছনাকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে আমীর উদ্দিন (২২), একই গ্রামের আব্দুল করিম, বগাইয়া গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে কামাল ও জামাল, আহমেদ আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ, বগাইয়া লিপার বস্তির মৃত লুন্দুর মিয়ার ছেলে শরফ উদ্দিন, ভিতরগুল গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে রায়হান ও একই গ্রামের শাহিদ আলী নিহতের তালিকায় নাম ওঠান।

আহতরা হলেন বহাইয়া গ্রামের কুদরত আলী, সামাদ, কামাল, দুলাল, শাহ-আলম, নুর ইসলাম, লিল মিয়া, ফজর আলী, খালিক, মনু মিয়া, লালু মিয়া, জয়নাল, বাবুল, সিরাজ।

সীমান্ত এলাকা রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ভারতীয়দের হাতে এ ইউনিয়নের লোকজন অহরহ মারা যাচ্ছেন ও আহত হচ্ছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় কোনও বিচার বা ক্ষতিপূরণ কেউ পায়নি।’

আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায় বিচারের জন্য স্থায়ী একটি নীতিমালা তৈরির তিনি দাবি জানান।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য এম এ সামাদ ও আবদুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের অধিকাংশ লোক পাথর শ্রমিক। কিন্তু বিএসএফ ও খাসিয়ারা সব সময় অন্যায়ভাবে গুলি করে সীমান্তবাসীকে নিহত ও আহত করে। এ ঘটনায় কেউ  প্রতিকার পায় না।’

বাংলাদেশ সময়: ১১১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১১

ছবির ক্যাপশনঃ ১। ১২আগষ্টে সীমান্তে ভারতীয়দের গুলিতে বিছনাকান্দি গ্রামের নিহত পাথর শ্রমিক কামাল উদ্দিন (ঝরান) এর অসহায় স্ত্রী ও অবুঝ তিন শিশু সস্তান।

 ২। ১২আগষ্টে সীমান্তে ভারতীয়দের গুলিতে বিছনাকান্দি গ্রামের নিহত পাথর শ্রমিক কামাল উদ্দিন (কামাল) এর মায়ের আহাজারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে।

 ৩। বিছনাকান্দি সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গু অবস্থায় বাবার সঙ্গে বগাইয়া গ্রামের বাবুল মিয়া।

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো করোনা রোগীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি
অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যুতে বসুন্ধরা পরিবারের শোক
ইবনে খালদুনের জন্ম, নেহরুর প্রয়াণ
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মান্না
রংপুরে মদপানে পাঁচজনের মৃত্যু


করোনায় ঢাকায় আইনজীবীর মৃত্যু
রাজধানীতে বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ
ডা. জাফরুল্লাহর জন্য ফল পাঠালেন খালেদা জিয়া
করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাউন্সিলর মাজহারের মৃত্যু
শিবগঞ্জে বজ্রপাতে গৃহিণীর মৃত্যু