জাতীয় শোক দিবস আজ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এ দিনে। ১৯৭৫ সালের এ দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকদের হাতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।



ঢাকা: ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এ দিনে। ১৯৭৫ সালের এ দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকদের হাতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জেকে বসে। ষড়যন্ত্র, পাল্টা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একের পর এক সামরিক স্বৈরশাসনের বদল হতে থাকে। সেই সঙ্গে সামরিক স্বৈরশাসকদের ছত্র ছায়ায় দেশে স্বাধীনতার পরাজিত গোষ্ঠী, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।

কলুষিত হয়ে পড়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রেক্ষাপট পারিবর্তন করে অসুস্থ ধারার রাজনীতির ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। শুরু হয় উল্টো পথে যাত্রা।
 
সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল।

ঘাতকরা হত্যা করে জাতির জনকের নবপরিণীতা পুত্রবধূ দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে।

বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও সে দিন হত্যা করা হয়।

ক্ষণজন্মা যে পুরুষ জাতির হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার উজ্জ্বল পতাকা; তিনি ঘাতকের বুলেটে নির্মম প্রতিদান পেরেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র বাঙালি জাতির সর্ব শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। বাঙালির বীরত্বগাঁথা ইতিহাস মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চালায়।

পাকিস্তানি ভাবধারা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে পুনর্জন্ম ও পুনর্বাসন করা হয়। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপগুলো বন্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ চিরতরে নস্যাৎ করতে চালানো হয় সব ধরণের অপপ্রয়াস।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পরিণত করতে সংবিধানকে বার বার সংশোধন, কাটা-ছেঁড়া করে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। রাষ্ট্রীয় চার মুলনীতি-ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ সংবিধানে উপেক্ষিত হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার অপসারণ, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালু হয়। গণতন্ত্রকে পাঠানো হয় নির্বাসনে। শুরু হয় প্রগতি বিরোধী সাম্প্রদায়িক-প্রতিক্রিয়াশীল ধারার সামরিক স্বৈরশাসন। গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে চালু করা হয় সামরিক একনায়কতন্ত্র।

সেই সাথে জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনি মোশতাক, ফারুক, রশিদচক্রকে হত্যাকাণ্ডের দায়ভার থেকে মুক্তি দিয়ে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইন করে খুনিদের আইনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। রুদ্ধ করে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয় না। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির যে অর্জন তা একে একে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হয়।
 
এই প্রতিকুল পরিবেশে দেশে-বিদেশে বঙ্গববন্ধু হত্যার বিচারের জোর দাবি ওঠে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও  দেশের গণতন্ত্রকামী শান্তিপ্রিয় বিবেকবান মানুষ দীর্ঘ দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করতে থাকে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ উন্মুক্ত করে। বিচারে নিম্ন আদালত ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

নিম্ন আদালতের এ রায় হাইকোর্ট বহাল রাখেন। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ না দেওয়াসহ বিচারের পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এর ফলে রায় কার্যকরে বিলম্ব হতে থাকে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর উচ্চ আদালতের পর্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়। এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়।

এখনো দন্ডপ্রাপ্ত ৫ খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এই দিবসটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠন যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবসটি পালন করছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা 


জমে উঠেছে বইমেলা, চলছে আড্ডাও
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মা গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে সুমন রহমানের ‘নির্বাচিত কবিতা’
তিনটি উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
শাহরুখের সিনেমায় ৮ কোটি রুপি পারিশ্রমিক চান কারিনা!