নিজের দেওয়া নামগুলো নিয়ে বিপাকে মেয়র মনজুর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একসময় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ধনাঢ্য শিল্পপতি এম মনজুর আলম। সফল ব্যবসায়ী মনজুর আওয়ামী লীগ নেতাদের নজর কেড়ে রাজনীতিতেও সাফল্য পেতে গড়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিনীর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।



চট্টগ্রাম: স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একসময় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ধনাঢ্য শিল্পপতি এম মনজুর আলম। সফল ব্যবসায়ী মনজুর আওয়ামী লীগ নেতাদের নজর কেড়ে রাজনীতিতেও সাফল্য পেতে গড়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিনীর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সাফল্য ধরা দেয় হাতের মুঠোয়। আওয়ামী লীগের ব্যানারে টানা তিনবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। সেই মনজুর আলম রাজনীতির পথপরিক্রমায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। তিনি এখন চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটির ৫ নম্বর সম্মানীত সদস্য।

আওয়ামী লীগের বিপরীত আদর্শে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতা এম মনজুর আলমের কাছে বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিনীর নামে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী দল আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়ার ভয়ে মেয়র বন্ধ করতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানগুলো; আবার বিএনপির রোষানলে পড়ার ভয়ে পারছেন না সেগুলো আগের মতো চালাতে।

মেয়রের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা এবং আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।  

মেয়রের গড়ে তোলা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু বাংলা বিদ্যাপীঠ এবং অপরটি বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

এসব বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

তবে মেয়রের ছেলে ও তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাহের গ্র“পের পরিচালক (রপ্তানি, বিক্রয় ও সরবরাহ) এম সরওয়ার আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলা বিদ্যাপীঠটি আমরা মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চালাচ্ছি। আর মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কোনও কার্যক্রম এ মুহুর্তে নেই। এটির কার্যক্রম আগে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চালানো হত।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে সর্দার বাহাদুর নগর ঝাউতলা কলোনিতে (স্থানীয়ভাবে বিহারি কলোনি হিসেবে পরিচিত) বঙ্গবন্ধু বাংলা বিদ্যাপীঠ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো সব ধরনের অর্থায়ন করছে মেয়রের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতিও মেয়র নিজেই।

ওই স্কুলের সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে বুটিক ব্যবসায়ী অবাঙালী মোহাম্মদ জাহিদ পাপ্পু বাংলানিউজকে জানান, বিহারি কলোনিতে প্রায় এক যুগ আগে ‘কনসার্ন’ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান স্কুলটি চালু করে। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল কনসার্ন স্কুল।

২০০৬ সালে কনসার্ন স্কুলটিতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এরপর স্থানীয়রা তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে স্কুলটি চালু রাখার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। মহিউদ্দিনের উদ্যোগে স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন তারই ঘনিষ্ঠজন এম মনজুর আলম। ওই বছরের ১৮ ফেব্র“য়ারী তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ‘বঙ্গবন্ধু বাংলা বিদ্যাপীঠ’ হিসেবে নতুন নামকরণ করা স্কুলটি উদ্বোধন করেন।

সম্প্রতি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড নিয়ে কথা হয় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমানের সাথে।

গোলাম রহমান বাংলানিউজকে জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রী আছে। এতদিন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত থাকা বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম এবছর অস্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এজন্য গত মে মাস থেকে ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সুরক্ষা দেয়াল। এছাড়া বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিমাসে খরচ হয় ৬০ হাজার টাকা।

গোলাম রহমান বলেন, ‘মাস শেষে শুধু বিল দিলেই হয়, সব টাকা মেয়র সাহেব দিয়ে দেন। নতুন ভবন ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সব টাকাও তিনিই দিয়েছেন।’

তবে ২০০৯ সাল থেকে স্কুলটিকে সরকারী খাতে হস্তান্তরের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা, তদ্বির করছেন এম মনজুর আলম।

মেয়রের ঘনিষ্ঠ সিটি কর্পোরেশনের এক অস্থায়ী কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিনের কাছে স্কুলটি সরকারী খাতে নেয়ার ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে। মেয়র সাহেব নিজেও মন্ত্রীকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন। আশা করছি অচিরেই স্কুলটি সরকারী খাতে যাবে।’

এদিকে বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কার্যক্রমও অনেকটা গোপনে বন্ধ করে দিয়েছেন মেয়র। ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া এ সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বর্তমান মেয়র এম মনজুর আলম এখনো বহাল আছেন। শুধু তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোন কার্যক্রম নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এম মনজুর আলমের উদ্যোগে এবং এবিএম মহউদ্দিন চৌধুরীর উৎসাহে ২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরে কোন ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই সংস্থাটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর আগস্টে শোকের মাসে গরীব মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ, এতিম মেয়েদের বিয়ে দেয়া সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড চালাত প্রতিষ্ঠানটি।

মেয়রের ছেলে এম সরওয়ার আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর আগস্ট মাসে গরীব ও এতিম মেয়েদের বিয়ে দেয়া হত। প্রত্যেক মেয়ের বিয়ের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় খরচ দেয়া হত। এখন ওই ট্রাস্ট থেকে না দিয়ে আমরা মোস্তফা হাকিম ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন থেকে দিচ্ছি।’

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া প্রসঙ্গে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘ট্রাস্টের কোন নিবন্ধন ছিল না। মনজু সাহেবের শখ হয়েছিল তাই তিনি ট্রাস্ট খুলেছিলেন। তারপর কিছুদিন ট্রাস্টের নাম দিয়ে ও আমার নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। এখন আবার ইচ্ছে হয়েছে, বন্ধ করে দিয়েছেন।’

একই বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু বাংলানিউজকে বলেন, ‘মনজু সাহেব রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য যত ধরনের ভন্ডামি আছে সব করেছেন। বঙ্গবন্ধু ও ফজিলতুন্নেছা মুজিবকে দিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়া এটাও ছিল তার একধরনের ভন্ডামি। এ কর্মকান্ডে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকেও যুক্ত করেছিলেন। পরে মহিউদ্দিন সাহেবকে ল্যাং মেরে নিজেই মেয়র হয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধু ও ফজিলতুন্নেছা মুজিবের নামে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে মেয়র ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে লুকোচুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট যঃঃঢ়://িি.িঃধযবৎমৎড়ঁঢ়.হবঃ এ।

ওয়েবসাইটের ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ নামের একটি পাতায় আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ২৫টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া হলেও সেখানে স্থান পায়নি বঙ্গবন্ধু বাংলা বিদ্যাপীঠ এবং বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

বিএনপিতে যোগ দেয়ার পরও বঙ্গবন্ধু ও তার সহধর্মিণীর নামে প্রতিষ্ঠান চালানো এবং এ- নিয়ে লুকোচুরি সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে।

শাহাদাৎ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘মনজু সাহেব বিএনপির সমর্থনে মেয়র হয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনও আওয়ামী লীগের আদর্শ ভুলতে পারেননি। নির্বাচিত হবার পর তিনি যেসব কর্মকান্ড করছেন সেটা দলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নেতাকর্মীরা তার এসব কর্মকান্ড নেতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি তাকে দলের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে।’

বাংলাদেশ সময়: ২০১৪ঘণ্টা, আগস্ট, ২০১১

৬ বছর পর কোন্দলপূর্ণ শিবগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন
'লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম' দেখলেন প্রধানমন্ত্রী-রেহানা
ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু
ফেনী ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪ 


জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান দুর্ঘটনায় নিহত
গ্রন্থমেলায় মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘ভালোবাসার গল্প’
কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসে অন্যরকম একুশ
চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় মুদ্রাসহ আটক ৫
শহীদদের ‘স্মৃতিচিহ্ন’ এঁকে পুরস্কার পেলো শিশুরা