বৃষ্টির পানি ধরতে রাজউকের ‘রেইন হার্ভেস্টিং’ ফর্মুলা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আপনি কি নতুন বাড়ি বা ভবন বানাবেন? তাহলে আপনাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ির ছাদে একটি মজবুত ওয়াটার রির্জাভার তৈরি করতে হবে। আর এ রিজার্ভারের মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে বৃষ্টির পানি।



ঢাকা: আপনি কি নতুন বাড়ি বা ভবন বানাবেন? তাহলে আপনাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ির ছাদে একটি মজবুত ওয়াটার রির্জাভার তৈরি করতে হবে। আর এ রিজার্ভারের মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে বৃষ্টির পানি।

বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পানি সমস্যা সমধানের জন্য রাজউক উদ্ভাবিত নতুন এ ফর্মুলার নাম ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ সিস্টেম।

ঢাকায় নতুন ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এ পদ্ধতিটি। আর এজন্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে ইমারত নির্মাণ বিধিমালাতেও। এতে নতুন ধারা হিসেবে সংযোজন করা হচ্ছে রাজউক উদ্ভাবিত নতুন  ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ নামে একটি ধারা।

এর ফলে নতুন ভবন নির্মাণ নকশায়ও সংযোজন করা হবে ছাদের ওপর বৃষ্টির পানি ধরে রাখার টেকসই রিজার্ভারের নকশা। মাটিতে পানির স্তর ধরে রাখার জন্যই সরকার নতুন এ উদ্যোগ নিচ্ছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক নিচে নেমে গেছে। কিন্তু চাহিদা মেটাতে ব্যাপক হারে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। আর এ নির্ভরশীলতা কমাতেই ভূ-পরিস্থ  পানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

খুব সহজেই বৃষ্টির পানি ভবনের ছাদে ধরে তা ব্যবহার করে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর জন্যই এ রেইন হার্ভেস্টিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করেছে রাজউক।

এজন্য ভবনের ছাদে টেকইস রিজার্ভার স্থাপন করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশই বৃষ্টির পানি মাটিতে পাঠানোর মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রেখেছে বলে দাবি রাজউকের। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও পদ্ধতিটি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ কারণেই চলতি বছরে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ ধারা রেখে সংশোধিত ইমারত বিধিমালা চূড়ান্ত করতে চায় সংস্থাটি।

তবে এ ধারাটি বাধ্যতামূলক করা হবে নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি সংশোধিত নতুন আইনের মাধ্যমে পুরনো ভবন মালিকদেরও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

এতে ভবনের ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে দু’ভাবে তা ব্যবহার করা যাবে। এ পানি প্রথমত গোসল,  ধোয়া-মোছা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে ধরে রাখা পানির একটি অংশ পাইপের মাধ্যমে মাটির গভীর স্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের মাধ্যমে মাটিতে পানির স্তর ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে বলে রাজউক জানায়।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, ‘কাজটি কঠিন নয়। একটি পাইপ মাটির নিচে এমনভাবে বসাতে হবে যাতে পাইপের প্রান্ত বালুর স্তরে গিয়ে শেষ হয়। কারণ বালু দ্রুত পানি শোষণ করে নিতে পারে। এজন্য বিশ্বের উন্নত দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’

যেসব পুরনো ভবন-মালিক ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা সম্পর্কিত বিধি মেনে চলবে তারা রাজউক থেকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

এদিকে ইমারত বিধিমালায় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ধারা সংযোজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে রাজউক। ইতিমধ্যে রাজউক বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব ও ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে বলে জানিয়েছে। দুটি সংগঠনই বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউকের পক্ষ থেকে কর্মশালাও করা হয়েছে। তাছাড়া ইমারত বিধিমালায় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ধারাটি কীভাবে সংযোজন করা হবে ও মাটির নিচে কিভাবে পানি পাঠানো হবে তা দেখার জন্য ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত ও সুইডেন সফর করেছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

‘কর্ণফুলী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘ধূমপানের কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে পাঠাওচালকে হত্যা করা হয়’
মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 
পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন


উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা