‘উই কান্ট ইগনর এনি কোর্ট ইন বাংলাদেশ’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৪টা ২৩ মিনিট। আদালতের নির্দেশ মেনে ১১ আইনজীবী এজলাসে হাজির করে পুলিশ। এর পরপরই শুরু হয় এজলাসের কার্যক্রম। এতে আদালত অবমাননার ও আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞার বিষয় দুটি নিষ্পত্তি হয়। আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলে আদালত আইনজীবীদের ক্ষমা করে দেন। তুলে নেন নিষেধাজ্ঞা।



ঢাকা: ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৪টা ২৩ মিনিট। আদালতের নির্দেশ মেনে ১১ আইনজীবী এজলাসে হাজির করে পুলিশ। এর পরপরই শুরু হয় এজলাসের কার্যক্রম। এতে আদালত অবমাননার ও আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞার বিষয় দুটি নিষ্পত্তি হয়। আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলে আদালত আইনজীবীদের ক্ষমা করে দেন। তুলে নেন নিষেধাজ্ঞা। তবে তাদের জামিন মঞ্জুর হয়নি।

প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যে ঘটনা সেদিন ঘটেছে সেটা ছিল দুর্ভাগ্যবসত বা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তার জন্য অন্তরিকভাবে দুঃখিত। সেজন্য আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। তিনি দুই বিচারপতিকে বলেন, ‘উই আর ভেরি মাচ গ্রেটফুল যে আপনারা তাদেরকে হাইকোর্টে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাজির করা হয়েছে। আমরা তাদের জামিন আবেদন প্রার্থনা করছি।

এসময় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এসলাসে উপস্থিত অপর আইনজীবী সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মি. স্পিকার আপনি কিছু বলবেন নাকি? তখন জমির উদ্দিন সরকার দাড়িয়ে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী এদের জামিন দেওয়া যায়।

এ সময় কোর্ট ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে কিছু বলতে বললে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা আদালতের মর্যাদা ও আমাদের আইনজীবীদের মর্যাদা একই। আদালতের মর্যাদা না থাকলে আমাদেরও মর্যাদা থাকবে না। আমরা আদালতেরই অংশ। তবে এই আইনজীবীরা বয়সে তরুণ তাদের ইমোশনটাও বেশি। তিনি বলেন, দে আর পার্ট অব আস অল। তাদের বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে আদালতের কাছে আমি তাদের জামিন আবেদন করছি।

এরপর কোর্ট আবার ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে কিছু বলতে বললে তিনিও জামিন আবেদন প্রার্থনা করেন। কোর্ট এ সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরুকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘দে আর আওয়ার ইয়ংগার ব্রাদার। আমরা এক সাথে কাজ করি। আমরা যদি কোর্টকে অমর্যাদা করি তা হলে সেটা পুরো জাতিকে অমর্যাদা করা হয়।’

খসরুর বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হুসাইন হুমায়ুন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এবং বারের ডিগনিটি এবং প্রেসটিজ একই সূত্রে গাঁথা। সুতরাং আমাদের সেটি রক্ষা করতে হবে।

এরপর বিচরপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, সবাই নয়, কতিপয় আইনজীবীর আচরণ ভিন্ন ধরনের হয়ে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি বিচারপতি ইমান আলীর একটি রায়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন এ বেঞ্চে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নাই। তিনি আরও বলেন, আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রধান বিচারপতির প্রতি। কারণ আমরা যখন আপিল বিভাগে গিয়েছি তখন তিনি আমাদের এ বেঞ্চে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আপনারা ওই আদালতের কাছে যান। যে আদালত আপনাদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাকে বলেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনকর্মকর্তা হিসেবে আপনি দেখবেন আইনজীবীদের যেন হেনস্ত করা না হয়। তিনি এ সময় সক্রেটিসের আইনের কথা তুলে ধরেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বার সভাপতি এবং সম্পাদকের উদ্দেশ্যে বলেন এই আইনজীবীদের জন্য কিছু পোস্টার লাগানো হয়েছে। সেগুলো নামিরেয় ফেলতে হবে। এই আইনজীবীরা যখন বের হয়ে যাবেন তখন যেন মিছিল এবং হইচই না হয়। আমরা একটি প্রতিষ্ঠানের অংশ, আলাদা কিছু নই। ভবিষ্যতে যাতে আমরা সবাই এই আদালতের মান সম্মান সমুন্নত রাখতে পারি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের পর বার সভাপতি দাঁড়িয়ে বিচারপতিদের বলেন, মাই লর্ড আমরা তো আত্মসমর্পন করেছি। আপনার নির্দেশ মতো এখানে হাজির হয়েছি। আর কি চান? তখন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, উই কান্ট ইগনর দ্যা মেজিস্ট্রেট কোর্ট, উই কান্ট ইগনর এনি কোর্ট ইন বাংলাদেশ।

এ সময় বার সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা দাঁড়িয়ে বলেন, কথা বলতে গেলে অনেক কথা আসবে এজন্যই আমি কথা বলতে চাচ্ছিলাম না। অতীতে কাউকে এভাবে আসতে হয়নি। ছেলেগুলো বয়সে তরুণ এবং রোজার দিন তারা আমাদের বারের সদস্য এজন্যই আমরা জামিন আবেদন চাচ্ছি।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল কিছু বলতে গেলে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা তাকে বলেন, আপনি অপোজ করবেন না, তা হলেই বেল হবে। আমি চাই না আমার বারের ছেলেরা জেলে থাকুক।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে বলেন, আপনি সব সমস্যার মূলে। ব্যারিস্টার মওদুদ হলে এ সমস্যার সমাধান আগেই হয়ে যেত।

ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বলেন আপনিই সব সমস্যার মূল। এ সময় বার সভাপতি বলেন, আগামীকাল সরকারি ছুটি এরপর তাদের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে যেতে হবে অনেক সময়ের দরকার। জামিন আবেদন নির্ভর করছে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির উপর।

এ সময় বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাত্রতো দুটো দিন। আমার মনে হয় না আন এক্সপেকটেড কিছু হবে। আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারি না।

এ সময় ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা তাকে বলেন, ‘আপনি বলে দেন আন ল ফুল অর্ডার দিয়ে দিলাম তা হলে তো হয়ে যায়।’

তার এ দাবিতে এজলাসে হাসির উদ্রেক হয়। 

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ উঠে দাঁড়ালে বিচারপতি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মওদুদ সাব আপনি অনেকদিন জেলে কাটিয়েছেন আর এদের তো একটা দিন। এই একটা দিন ওয়েট করেন। আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারবো না।

এরপর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী তার আদেশ দেওয়া শুরু করেন।

আদেশে ১১ জনের বিরুদ্ধে যে আদালত অবমাননার মামলা ছিল সেটি থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়। এছাড়া আইন পেশার প্রতি তাদের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি আর সময় বৃদ্ধি করেনি। সুতরাং তাদের আইন পেশা চালিয়ে যেতে আর কোনো বাধা থাকলো না।

হাইকোর্ট যেহেতু তাদের ক্ষমা করেছে তাই বার কাউন্সিল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তাদের সনদ বাতিলের বিষটি বার কাউন্সিল বিবেচনা করবে।

আদেশ ঘোষণা পর বার সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, আদেশে খুশি হয়েছি। জামিন পেলে আরও ভাল হতো। তবে সরকারের অসহযোগিতার কারণে জামিন পাওয়া সম্ভব হলো না।

বাংলাদেশ সময়: ২১১০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

টিএসসিতে ছাত্রলীগের টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে মাশরাফি
‘কর্ণফুলী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘ধূমপানের কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে পাঠাওচালকে হত্যা করা হয়’
মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 


পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন
উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়