রুট পারমিটের অর্ধেক বাস রাস্তায় নেই

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

মহানগরীতে যাত্রীবাহী বাসের ১২টি রুটে ৮৭৭টি বাসের রুট পারমিট দেয়া হলেও প্রায় অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় চলছেনা। গত দুইমাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) ট্রাফিক বিভাগ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাসের ১০টি রুটে যৌথভাবে জরিপ চালিয়ে এই চিত্র পায়।



চট্টগ্রাম: মহানগরীতে যাত্রীবাহী বাসের ১২টি রুটে ৮৭৭টি বাসের রুট পারমিট দেয়া হলেও প্রায় অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় চলছেনা। গত দুইমাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) ট্রাফিক বিভাগ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাসের ১০টি রুটে যৌথভাবে জরিপ চালিয়ে এই চিত্র পায়। এই জরিপের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এসব রুটে মোট ৭৮০টি গাড়ি চলার কথা থাকলেও চলছে মাত্র ৪৪৪টি।

এদিকে চাহিদা অনুযায়ী রাস্তায় গাড়ি না থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানবাহনের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এ প্রসঙ্গে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেকের মতো গাড়ি রাস্তায় নেই।

বিআরটিএ থেকে বাসের যে পরিমাণ রুট পারমিট দেয়া হয়েছে, তার সবগুলো রাস্তায় চললে চট্টগ্রামে গণপরিবহনে সঙ্কট থাকতো না। জরিপের সময় প্রত্যেকটি রুটে ২০ থেকে ৪০টির মতো গাড়ি কম পাওয়া গেছে।

তিনি আরো জানান, জরিপকালে যেসব বাস রাস্তায় পাওয়া যায়নি সেগুলোর মালিককে নোটিশ পাঠিয়ে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে গাড়ি হাজির করে রাস্তায় নামাতে নির্দেশ দেয়া হবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট মালিক এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যাখ্যা কিংবা বেঁধে দেয়া সময়ে গাড়ি হাজির করতে না পারলে ওই বাসের রুট পারমিট বাতিল করে নতুন করে রুট পারমিট দেয়া হবে।

এই জরিপের উদ্দেশ্য ছিল- রুট পারমিট অনুযায়ী কি পরিমাণ বাস রাস্তায় চলাচল করছে তা বের করা এবং যানবাহন সঙ্কট নিরসনে আরো নতুন বাসের প্রয়োজন আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা।

বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়,  এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে গত ২৮ মে থেকে যৌথ জরিপ কাজ  শুরু হয়। শেষ হয় ৬ আগস্ট।

১১টি রুটের মধ্যে ৯ নম্বর ছাড়া ১০টি রুটে জরিপ করা হয়। ৯ নম্বর রুটে  সিলিং পূর্ণ না হওয়ায় জরিপ চালানো হয়নি। এছাড়া ১০-এর (এ ) রুটে কাউন্টার সার্ভিস চালু  থাকায় ওই রুটে জরিপ করা হয়নি। এ রুটে বর্তমানে ৬০টি গাড়ি চলছে ।

বিআরটিএ’র রেকর্ড কিপার হারুনর রশিদ বালানিউজকে জানান, বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ ও মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রতি শনিবার এ জরিপ চালানো হয়।  

যেদিন যেরুটে জরিপ হয়েছে, তার আগে মালিক সমিতিকে অবহিত করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, সিলিং অনুযায়ী ১১টি রুটের মধ্যে ১০টি রুটে ৭৫টি করে বাস থাকার কথা।  এছাড়া ১০ নম্বর  রুটে সর্বাধিক ১০৫টি বাস চলার কথা।

কিন্তু জরিপের সময় ১ নম্বর রুটে মাত্র ৩৫টি, ২ নম্বরে ৪২টি, ৩ নম্বরে ৪২টি, ৪ নম্বরে ৩৩টি, ৫ নম্বরে ৩৯টি, ৬ নম্বরে ৫৮টি, ৭ নম্বরে ৫৬টি, ৮ নম্বরে ৩৫টি, ১০ নম্বরে ৭০টি  ও  ১১ নম্বরে মাত্র ৩৪টি গাড়ি পাওয়া গেছে।

যেসব বাস রাস্তায় পাওয়া যায়নি সেগুলোর মালিককে বুধবার নোটিশ পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

এছাড়া ঈদের পর হিউম্যান হলারেরও  ১১টি রুটে জরিপ করা হবে।  

অর্ধেক বাস রাস্তায় না পাওয়া প্রসঙ্গে ডিসি ট্রাফিক ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, এরমধ্যে কিছু বাস মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার কারণে বিকল হওয়া বা লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ির পারমিট দেয়ায় অধিকাংশই হয়তো চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৭ সালের শেষ দিকে  চট্টগ্রাম রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি  (আরটিসি)  নগরীতে  বাসের  ১২টি রুটে  সিলিং (কতটি গাড়ি চলবে) বেঁধে দেয়।

এরপর গত তিন বছরে নতুন কোন গাড়ির পারমিট দেয়া হয়নি। এসব বিবেচনায় যানবাহনের চাহিদা নিরুপনে জরিপ শুরু করে বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগ।

ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, বিআরটিএর নোটিশ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব গাড়ি রাস্তায় পাওয়া যাবেনা সেগুলোর রুট পারমিট বাতিল করার জন্য আরটিসির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া বাতিল হওয়া গাড়ির পরবির্তে চাহিদা নির্ধারণ করে নতুন বাসের  পারমিট দেয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা 


জমে উঠেছে বইমেলা, চলছে আড্ডাও
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মা গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে সুমন রহমানের ‘নির্বাচিত কবিতা’
তিনটি উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
শাহরুখের সিনেমায় ৮ কোটি রুপি পারিশ্রমিক চান কারিনা!