শিশুদের ঈদ কেনাকাটা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

ঈদ বেশি আনন্দ দেয় ছোটদের। তাই ঈদের কেনাকাটায় তাদের আবদারেরও শেষ নেই। বাবা-মারা সন্তানদের পছন্দ নিজেদের করে নেন বলে ঈদবাজারে শিশুদের কেনাকাটা জমে ওঠে বরাবরই।



ঢাকা: ঈদ বেশি আনন্দ দেয় ছোটদের। তাই ঈদের কেনাকাটায় তাদের আবদারেরও শেষ নেই। বাবা-মারা সন্তানদের পছন্দ নিজেদের করে নেন বলে ঈদবাজারে শিশুদের কেনাকাটা জমে ওঠে বরাবরই।

শিশুদের ঈদের আনন্দ ভরিয়ে তুলতে নগরের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও বিপণি বিতানগুলোতে গিয়ে ঈদের কেনাকাটায় শিশুদের জমজমাট অবস্থা দেখা গেছে।

ঈদবাজারে শিশুদের বায়নার সঙ্গে মিলতে হচ্ছে বাবা-মার সাধ্য। অন্যদিকে শিশুদের মন ভোলানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন দোকানিরা। বেশির ভাগ সময়েই পরাস্ত হতে হয় বাবা-মাকে।

একমাত্র সন্তানের বায়না পূরণ করতে ডা. লায়লা আরজুমান্দ কেনাকাটা করতে এসেছেন ধানম-ির কিডস কালেকশন নামে একটি দোকানে।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন অনুযায়ী বাজারে জিনিসের দাম অনেক বেশি। শিশুদের জিনিসের দাম আরও বেশি। সন্তানের পছন্দই আমাদের পছন্দ। কেনাকাটায় শিশুর পছন্দকেই গুরুত্ব দেব আমরা।’

বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, মিরপুর রোডের রাপা প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা ঘুরে দেখা গেছে শিশুদের নানা রঙের নানা ডিজাইনের পোশাক।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন ওঠানো পোশাকের মধ্যে ছেলে শিশুদের শর্ট পাঞ্জাবি, শর্ট সেট, গেঞ্চি সেট, থ্রি কোয়ার্টার, শর্ট প্যান্ট, ফুল প্যান্ট, ফতুয়া সেটের বিক্রি বেশি। মেয়ে শিশুদের জন্য স্ট্রাইপ লং ফ্রগ, কটন ফ্রগ, ডিভাইডার শর্ট স্কার্ট বেশি চলছে।

মেট্রোশপিং মলের ওয়েস্টার্নে বিক্রি হচ্ছে মেয়েদের লেহেঙ্গা ও কারচুপি স্কার্ট। দাম আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বত্বাধিকারী হেলাল উদ্দিন আহমেদ খান জানান, মধ্যবিত্তদের বাজারে আসা শুরু হয়নি। মাঝারি মূল্যের জিনিসের চাহিদা এখন বেশি।

মিরপুর রোডের রাপা প্লাজায় ফুলকলি দোকানের বিক্রয়কর্মী মহিউদ্দীন জানান, তাদের দোকানে এসেছে বাচ্চাদের জন্য তোষম পাঞ্জাবি ও তাতি পাঞ্জাবি। এগুলোর দাম ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মেয়েদের নতুন পোশাকের মধ্যে এসেছে ট্রি ফ্রগ, মাসাককালি, লেহেঙ্গা ও স্কার্ট।
 
বুটিককরা শিশুদের পোশাকের দাম ৪৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিক্রয়কর্মী তামান্না জানান, বৃষ্টির কারণে ঈদের বাজার এখনও জমে উঠেনি।  

প্রিন্স প্লাজায় শিশুদের জুতার দোকান। ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে জুতা । প্রিন্স প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম মধ্যবিত্তদের নাগালে নেই। তাই ক্রেতার সংখ্যা ঈদ বাজার অনুযায়ী নেই।’

রাপা প্লাজায় মৌমিতা কালেকশনে মেয়ে শিশুদের জামাকাপড় ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে জানালেন দোকানের বিক্রয়কর্মীরা। এখানে মেয়ে শিশুদের পোশাকের মধ্যে চাহিদা রয়েছে দাবাং, শাকুরা, সোহানা ও আশক্বারা ডিজাইনের। ৪ হাজার ৮০০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত এগুলোর দাম।

তাছাড়া রাপা প্লাজায় ছোট্ট সোনামণিদের শাড়িও পাওয়া যাচ্ছে। সুতির এসব শাড়ির দাম  ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

বিপণিবিতানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মালিবাগের বাসিন্দা দিলরুবা খানম তার পরিকল্পনার কথা জানালেন এভাবে, আজই প্রথম কেনাকাটা করতে বের হলাম। শুরুতে আমার বাবুর জন্য পোশাক কিনব, তারপর অন্য কেনাকাটা।’

কেনাকাটায় কোন বিষয় প্রাধান্য দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার বাচ্চাদের কাপড়ে সুতির প্রাধান্য বেশি। মূলত ঈদটা এবার গরমকালে হওয়ায় সুতি কাপড়ের ব্যবহার বেড়েছে।’

দেশি-বিদেশি কাপড়ে নানা রকমের পুতি, পাথর আর প্রিন্টের কাজের আধিক্য বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

বসুন্ধরা সিটিতে মা-বাবার সঙ্গে কাপড় কিনতে আসা মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত সোহান (১৪) জানাল, ‘আমি ঈদের জন্য পাঞ্জাবি, টি-শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট কিনেছি। এখন জুতা কিনতে বাটার শো-রুমে যাচ্ছি।’

বসুন্ধরা সিটিতে বাচ্চাদের পোশাকের দোকান কিডস ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী আহসান বলেন, ‘এবার ছেলেদের ওয়ান্টেড, ওম শান্তি ওম গেঞ্জি ও মেয়েদের সোহানা, সাকিরা, অক্টোপাস বেশি চলছে। গতবারের ডিজাইনগুলোর মধ্যে মাসাকালি এবারও বাজারমাত করেছে।’

নিউমার্কেটে ঈদের পোষাক কিনতে আসা আইডিয়াল স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলল, ‘বৃষ্টির কারণে এতদিন মার্কেটে আসতে পারিনি। আজ আসতে পেরে ভাল লাগছে। আমি এবার ঈদে মাসাকালি পরব।’
 
জান্নাতুল ফেরদৌসীর অভিভাবক শাহজাহান খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবার তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি হওয়ায় মেয়ে অনেকদিন আগে থেকেই মার্কেটে আসার জন্য অপেক্ষা করছিল। নিজের ব্যস্ততা আর বৃষ্টির কারণে এতদিন আসতে পারিনি। মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে তার পছন্দের জামাটিই কিনব।’

তবে ফ্যাশন কর্ণার এর  বিক্রয়কর্মী রবিন বলেন, ‘পোশাকের দাম দুই থেকে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের জন্য ৯০০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা ও পাঁচ থেকে আট বছরের বাচ্চাদের জন্য এক হাজর ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।’

সুযোগ বুঝে দাম বেশি চাওয়া সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়ে এক ক্রেতা মাসুদ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাচ্চার পছন্দ হয়ে গেলে বিক্রেতারা আর দাম কমাতে চান না। ফলে বাধ্য হয়েই চড়া দামে কিনতে হয়। নয়তো বাচ্চা কান্নাকাটি শুরু করে।’

ভিকারুন্নিসা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মুনতাহিনা বলল, ‘এমনিতে চাচা, খালারা ঈদের জন্য পোশাক পাঠিয়েছেন। আজ আব্বুর সঙ্গে বের হলাম। এখনো খুঁজছি, পছন্দ করতে পারিনি। মার্কেটে প্রচ- ভিড়। মজা লাগছে।’

বসুন্ধরা সিটির ফ্যাশন বাজারের বিক্রয়কর্মী তাসকিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে মূলত বিদেশি পোশাকই বেশি, তাই দামও একটু বেশি।’

বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের পোশাক পাঞ্জাবিকে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি এনেছেন বাঙালি বাবু, শৈল্পিক, ক্রাফট ক্যাসল ইত্যাদি ফ্যাশন হাউস।

বাঙালি বাবুর বিক্রয়কর্মী নাসির বলেন, ‘আমরা সাধারণত শিশুদের কোনো পোশাক বিক্রি করি না। তবে ঈদ উপলক্ষে শিশুদের জন্য আমাদের নিজস্ব ডিজাইনের পাঞ্জাবি বাজারে এনেছি।’ পাঞ্জাবিগুলোর দাম রাখা হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা।

এভাবে আপনজনদের কাছ থেকে উপহার পেলেও পরিবারের শিশুদের জন্য ঈদের কেনাকাটায় কার্পণ্য করছেন না বড়রা। সাধ্যের মধ্যে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছেন বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটাতে। আর ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই নতুন পোশাক পেতে উত্তেজনা বাড়ছে ছোটদের।

বাংলাদেশ সময়:১৬৫৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

শরীয়তপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ২ কলেজছাত্রের
আড়াইহাজারে যুবলীগ নেতাসহ ৫ জনের জেল
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জ্বলে উঠলো ৫২শ' মোমবাতি
সারাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
গর্বের সঙ্গে বাংলার ব্যবহার চায় ভারতের নদীয়ার প্রতিনিধিদল


ভেঙে পড়লো রাসিক মেয়র লিটনের সংবর্ধনা মঞ্চ
রামুতে বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর কন্ঠে একুশের গান
ভাষাশহীদদের প্রতি বিরোধী দলীয়নেতা রওশনের শ্রদ্ধা
মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা
একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন