তিন জেলার ডিসি-এসপি আন্তরিক হলে ঈদ হবে যানজটমুক্ত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

টিকিটের পাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি যানজটের আতঙ্কে রয়েছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। আর পরিবহর শ্রমিকরা দাবি করেছে, চার জেলার ডিসি এসপি ঠিক হলেই ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটে ভুগতে হবে না। আর যানজট না হলে গাড়ির সংকটও হবে না।



ঢাকা : টিকিটের পাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি যানজটের আতঙ্কে রয়েছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। আর পরিবহর শ্রমিকরা দাবি করেছে, চার জেলার ডিসি এসপি ঠিক হলেই ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটে ভুগতে হবে না। আর যানজট না হলে গাড়ির সংকটও হবে না।

গত ঈদে ৭ ঘন্টার পথের জন্য ৩১ ঘন্টা আগে রওয়ানা দিয়েও বড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারিনি। এ বছরেও সেই একই ঘটনা আবার ঘটবে বলে আশংকা করছি। গত বছর সাধারণত ঢাকা থেকে পীরগাছা পৌছাতে ৬-৭ ঘন্টা সময় লাগত। এ বছর সেই পথ যেতে সময় লাগছে ১২ হতে ১৪ ঘন্টা।
 
না জানি এবার আরো কোন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমার না হয় ঈদের আনন্দ না-ই হলো তাতে খুব একটা দু:খ নেই। কিন্তু আমি বাড়ি না পৌঁছা পর্যন্ত মা কোন খাবার খায় না। একথা ভেবেই কষ্টটা কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

রংপুরের পীরগাছা থানার ইটাকুমারী গ্রামের বাসিন্দা ব্র্যাক ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা মাসুদ রানা তার গত ঈদে বাড়ি যাওয়ার কথা এবং এ বছরে আশংকার কথা জানিয়েছেন।

তার এই আশংকার সাথে একমত পোষণ করে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনের এমপি এইচএন আশিকুর রহমান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর আমরা ঢাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ ঘন্টায় বাড়ি যেতে পারতাম।

এখন সেখানে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা সময় লাগছে। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বাজেট অধিবেশনে সংসদে প্রস্তাব পেশ করেছি।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা ছাড়া এই দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিবহন জগতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হানিফ এন্টারপ্রাইজের বহরে বাসের সংখ্যা ৫ শতাধিক। ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ফরিদপুর জেলা সদর ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সামাদ ম-ল বাংলানিউজকে জানিয়েছে, টিকিটের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা যানজট।

তিনি জানান রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে দেশের রুটগুলোর দূরত্ব সর্বোচ্চ ৫শ কিলোমিটারের বেশি নয়।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে রংপুরের দূরত্ব ২৯৫ কিলোমিটার। একটি বাস স্বাভাবিক গতিতে চলে মাঝপথে ৩০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টায় রংপুরে পৌঁছায়।

সে কারণে বেশিরভাগ পরিবহন কোম্পানির প্রতিটি বাস দিনে কমপক্ষে ১ বার যাতায়াত করে রংপুরে (সকালে রংপুর গিয়ে সন্ধায় ফিরছে ঢাকায়)।

 কোনও কোনও কোম্পানির বাস সন্ধ্যায় ফেরার পর আবার রংপুর যাচ্ছে।  তার পরেও ৭ ঘন্টার বেশি সময় ধরে গ্যারেজে রেস্টে থাকছে একটি বাস। একই অবস্থা দেশের অন্য রুটগুলোর ।

 বেশিরভাগ রুটের দূরত্ব ২৫০ থেকে ৩শ কিলোমিটার। তার মতে স্বাভাবিক গতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে একটি বাস রংপুর যাতায়াত করতে সময় লাগার কথা সাড়ে ৭ ঘন্টা সেখানে যানজটের কারণে গত ঈদে রংপুর থেকে যাতায়াত করতে একটি বাসের সময় লেগেছে ৪০ হতে ৪৫ ঘন্টা।

আর এ কারণে অনেক যাত্রীকে ফিরতি বাসের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।

ওই পরিস্থিতিতে আমাদের করার কিছু ছিল না। কারণ ওই বাস ফিরে কয়েক ঘন্টা পরে আবার যাত্রী নিয়ে যাবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা বিরতি দেওয়ার সুযোগ আর হয় না। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের ৩৫ ঘন্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছেছে যাত্রীবাহী বাসগুলো-- এমনটি দেখা গেছে গত ঈদে।

আর যাত্রীরা তাদের দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে উত্তেজিত হয়ে বাস শ্রমিকদের সাথে বচসা দ্বন্দ্ব ও মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন স্বাভাবিক কারণেই। আগাম ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এবারও এমন ঘটনা ঘটবে বলে আশংকা করছেন তারা।

২৫ বছর ধরে পরিবহন জগতে কাজ করা আব্দুস সামাদের মতে সরকার যদি বড় ধরণের যানজট থেকে মহাসড়ককে মুক্ত রাখতে পারে তাহলে অনেক বাস বাড়তি ট্রিপ দিতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

এতে করে কোনও যাত্রীকে কষ্টে ভুগতে হবে না। আর যদি গত বছরের মত যানজট সৃষ্টি হয় তাহলে কোন পরিকল্পনাই কাজে আসবে না।

তার মতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের শেষ মুহুর্তে ছুটি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা চলাচল অযোগ্য কিছু বাস রিজার্ভ করে রওনা দেয় আর এই বাস গুলো রাস্তার উপর বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে।

এসব বাস সঠিক সময়ে রাস্তা থেকে সরানোর জন্য যথা সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক না আসায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

কি করলে যানজট এড়ানো সম্ভব ? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছরে ঈদের ৩ দিন আগে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর লোকদের ছুটি দিয়ে রাস্তা আল্লাহ ভরসায় ছেড়ে দেয়া হয়।

রাস্তায় কোন গাড়ি বিকল হলে যথা সময়ে সরিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রেকার প্রস্তুত রাখতে হবে। তার মতে ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার ডিসি-এসপিরা ঠিক হলেই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ঈদের যাত্রা হবে যানজটমুক্ত।

এসআর ট্রাভেলস্ এর ম্যানেজার মাসুদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, গাবতলী,  নবীনগর, আশুলিয়া, বাইপাইল, চ›ন্দ্রা, টাঙ্গাইল এই ৬ টি স্থানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই যাত্রীরা যথা সময়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়কে বলেন রাস্তা ঠিক করে দিতে।’

গাজীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদের সময়টায় রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত করার জন্য বিশেষ কোনও পদক্ষেপ রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমাদের বিশেষ কিছু করার নেই।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘন্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ডাকাত নিহত
শরীয়তপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ২ কলেজছাত্রের
আড়াইহাজারে যুবলীগ নেতাসহ ৫ জনের জেল
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জ্বলে উঠলো ৫২শ' মোমবাতি
সারাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা


গর্বের সঙ্গে বাংলার ব্যবহার চায় ভারতের নদীয়ার প্রতিনিধিদল
ভেঙে পড়লো রাসিক মেয়র লিটনের সংবর্ধনা মঞ্চ
রামুতে বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর কন্ঠে একুশের গান
ভাষাশহীদদের প্রতি বিরোধী দলীয়নেতা রওশনের শ্রদ্ধা
মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা