কয়রায় মিঠা পানির আইলা!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

‘এলাকার পানি নিষ্কাশনের খালে প্রভাবশালীরা মাছ ধরতে ঘনজাল ও পাটা দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্ধ করে দিয়েছে স্লুইস গেট। আইলার সময়ে প্রতিদিন জোয়ারে আসা নোনা পানি ভাটার সময়ে নেমে যেত। কিন্তু চলমান টানা বর্ষণে জমা পানি কবে বের হবে তা বলতে পারছি না।’



খুলনা: ‘এলাকার পানি নিষ্কাশনের খালে প্রভাবশালীরা মাছ ধরতে ঘনজাল ও পাটা দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্ধ করে দিয়েছে স্লুইস গেট। আইলার সময়ে প্রতিদিন জোয়ারে আসা নোনা পানি ভাটার সময়ে নেমে যেত। কিন্তু চলমান টানা বর্ষণে জমা পানি কবে বের হবে তা বলতে পারছি না।’

হতাশায় বুঁজে আসা কণ্ঠে কথাগুলো বলে একটু দম নিলেন খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামের সদানন্দ সরকার। নিস্পৃহভাবে ফের বলা শুরু করলেন, ‘বাড়ির উঠানে কোমড় পানি। বাতাসে পানির ঢেউ ঘরে এসে আছড়ে পড়ছে। যে কোনও সময় ঘর ধসে পড়তে পারে।’

সদানন্দ সরকার বাংলানিউজকে জানান, আইলার সময়ে নেমে আসা দুর্ভোগ শেষ হয়নি। সেই ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তারপর গত প্রায় দু’মাস ধরে মাঝে মাঝে ছোট বিরতি দিয়ে চলছে অতিবর্ষণ। এলাকার বিল খাল উপচিয়ে এখন মানুষের বাড়িতে উঠেছে বৃষ্টির পানি। সহজে নামবে বলেও মনে হয় না।
 
কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নিশীথ রঞ্জন মিস্ত্রী জানান, জলাবদ্ধতায়ও নয়ানি এলাকার ১৩/১৪ নম্বর পোল্ডারের ৫নম্বর স্লুইস গেট বন্ধ রাখায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এ গেট দিয়ে মহেশ্বরীপুর, আমতলা, সাতহালিয়া, চৌকুনী বাবুরাবাদ, কালিকাপুরসহ ১৮টি গ্রামের পানি নিষ্কাশিত হতো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়রা ডিভিশনের এসডিই (সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার) পার্থ প্রতীম সাহা বাংলানিউজকে জানান, এই এলাকায় অধিকাংশ স্লুইজ গেট জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২টি স্লুইজ গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়রার সেকশন অফিসার আনিসুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ‘উপজেলা সদরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই গেটটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গেটটির বাইরের অংশ বসে যাওয়ায় যে কোনও সময় ভেসে যাওয়ার আশংকায় পানি সরানো ও প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন ও টেকসই স্লুইজ গেট তৈরির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।’


সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার পার্থ প্রতীম সাহা আরও জানান, জলাবদ্ধ এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প পথে পানি সরানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে আইলার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত হয়নি। কাজ পাওয়া ঠিকাদার কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আবারও দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, নতুন করে বৃষ্টির পানিতে আটকে পড়েছে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের দু’শতাধিক গ্রাম। আইলার সময়ে জোয়ারে পানি আসলে নেমে যেত ভাটায়। কিন্তু সøুইস আটকে রাখায় এখন তা নেমে যেতে পারছে না। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকার বেড়িবাঁধেরও সংস্কার হয়নি।

এলাকার ১৭টি গ্রামের কাছের স্লুইস গেটের মুখের সব খাল প্রভাবশালীরা ইজারা নিয়েছে। তারা সেখানে নেট পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকাবাসী এসব নেট ও পাটা অপসারণে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার বাংলানিউজকে জানান, উপজেলা সদরে হাঁটুপানি রয়েছে। লবণ পানি জনবসতি এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে এলাকার স্লুইজগেট ও কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ায় সুষ্ঠুভাবে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না।

পানি নিষ্কাশনের জন্য এসব গেটের মুখে দেওয়া নেট-পাটা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

‘কর্ণফুলী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘ধূমপানের কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে পাঠাওচালকে হত্যা করা হয়’
মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 
পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন


উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা