ঈদে গৃহসজ্জা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

উৎসবে কি শুধু নিজেকে সাজালেই চলে? সাজাতে হয় নিজের ঘরটিকেও। তাই ঘরকে মনের মতো রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত এখন অনেকেই।



ঢাকা: উৎসবে কি শুধু নিজেকে সাজালেই চলে? সাজাতে হয় নিজের ঘরটিকেও। তাই ঘরকে মনের মতো রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত এখন অনেকেই।

আসছে ঈদ উৎসবের দিন বাড়িতে অতিথি আসবেই। তাই নিজেকে সাজানোর পাশাপাশি উৎসবের বর্ণিল ছোঁয়া থাকা চাই ঘর-বাড়ির আঙিনাজুড়েও।

শৌখিন মানুষ মাত্রই নিজের ঘরটাকে সাজিয়ে রাখতে চান পরিপাটি করে। সেই সাথে যদি সৌন্দর্যের একটা মেলবন্ধন করা যায়, তা হলে তা গৃহকর্তার রুচির পরিচয় বহন করে।
ঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে প্রয়োজন পড়ে নানা রকম সামগ্রীর, আর এসব কেনার জন্য খোঁজ করতে হয় বিভিন্ন গৃহসজ্জার দোকানে। এমনকি, একটু অভিজাত জিনিস কিনতে অনেক সময়ই যেতে হয় বিদেশেও। ঢাকার বাজার ঘুরে কিছু খোঁজখবর নিচে দেয়া হলো :

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পহেলা রমজান থেকে ফার্নিচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ফার্নিচার ‘ঈদ উৎসব’ শিরোনামে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। ব্রাদার্স ফার্নিচারের বারিধারার শো-রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

হেড অব মার্কেটিং এ কে এম মনির হোসেন জানান, ঈদ উৎসবে ব্রাদার্স ফার্নিচারের যে কোনো মূল্যের ফার্নিচার কেনাকাটায় ওয়েলকাম কার্ড বিজয়ীকে দেয়া হবে সোফা সেট, বেড, ডিভান, ড্রেসিং টেবিল, রকিং চেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কার। এ ছাড়া রয়েছে ফার্নিচারের ওপর সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত মূল্যছাড়।

শৌখিন মানুষের এই চাহিদার কথা চিন্তা করেই গৃহসজ্জা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে অরোরা। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বনানীর ব্লক- এইচের ১১ নম্বর রোডে যাত্রা শুরু করে দোকানটি। গৃহসজ্জার সব সামগ্রীই আছে এখানে। অরোরায় রয়েছে সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল, বেডরুম সেট যার মধ্যে রয়েছে খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল ও দুটি সাইড টেবিল।

এছাড়াও রয়েছে বেডসাইড টেবিল, সেন্টার টেবিল, ফায়ারপ্লেস, বার কাউন্টার, ঝাড়বাতি, বিভিন্ন আকৃতির ঝরনা, কর্নার টেবিল, আয়না, ওয়াল ম্যাট, ওয়াল পিকচার, স্ট্যান্ড ও টেবিল ল্যাম্প, দেয়ালঘড়ি, ফ্লাওয়ার ভাস, ফ্লাওয়ার স্টিক, ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড, স্ট্যাচু ও রকমারি ডেকোরেশন পিস।

এসব জিনিস আসে চীন, ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। এখানকার সকল পণ্যই সরাসরি আমদানি করা হয়, কোনোকিছুই এখানে এনে ফিটিং করা হয় না।

অরোরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার খন্দকার আনোয়ার হোসেন বলেন, অরোরা একটি টোটাল প্যাকেজ। এই একটি দোকানে এসে ক্রেতা তার পছন্দের সবকিছুই পেয়ে যাবেন। এ ছাড়া ক্যাটালগ দেখেও ক্রেতারা অর্ডার করতে পারেন। এখানে কোন্ও আসবাব বাড়িতে নেবার পরও চেঞ্জ করার সুযোগ থাকে, যে সুযোগটা বাইরে থেকে জিনিসপত্র কিনে আনলে থাকে না। বিভিন্ন ডিজাইনের ডেকোরেশন পিস পাওয়া যাবে দুই হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। এখানকার সোফাগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলো ধোওয়া যায়।

এখানে বেডরুম সেট তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার, ডাইনিং সেট ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার, সোফা ৯৫ হাজার থেকে দুই লাখ ২০ হাজার, ঝরনা ৪০ হাজার থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার, কর্নার র‌্যাক ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ১০ হাজার, ঝাড়বাতি ৫০ হাজার থেকে চার লাখ, বিভিন্ন আকারের আয়না ৩০ হাজার থেকে ৯০ হাজার, টেবিল ৯ হাজার থেকে ৪০ হাজার, দেয়ালঘড়ি ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার, ওয়াল সিনারি ১০ হাজার থেকে ৯০ হাজার, ফুলসহ ফুলদানি ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার, কার্পেট ছয় হাজার থেকে ৩৫ হাজার, কুশন কাভার ৩৫০ থেকে ৩০ হাজার, ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড ২০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা।

কাজীপাড়ার নাভানার শোরুমে গিয়ে দেখা গেল নাভানা ফার্নিচার হোম ও অফিসের জন্য নানা ধরনের আসবাব এনেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে খাট। নাভানা ফার্নিচারে সিঙ্গেল ও ডাবল দুই ধরনের খাটই পাবেন। যার জন্য আপনাকে ৮ হাজার ৮৯০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাজেট করতে হবে। সব ধরনের আসবাব পত্র পাওয়া যায় ১১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন ফার্নিচার পাওয়া যায়।

পারটেক্স ফার্নিচারে মেলামাইন বোর্ড ও কাঠের তৈরি নানা কালেকশন রয়েছে। খাটগুলোর মূল্য ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফার্মগেট, পান্থপথ, বারিধারা ও মিরপুরে তাদেও শোরুম রয়েছে।

অটবি, আকতার, আরএফএল, হাতিল সহ অন্যান্য ফার্নিচারের শোরুমেও পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সব ফার্নিচার।

ঘর সাজাতে বসুন্ধরার লেবেল-৪, ব্লক-এ শপ-৩০-এ পাবেন হস্তশিল্পের ব্যতিক্রমী উপহার।

গাউছিয়া, পীর ইয়ামেনী, গুলশান অ্যাভিনিউ, রাইফেল স্কয়ার, মৌচাক মার্কেটেও নানা গৃহস্থালি পণ্য পাবেন পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদপুরে কুমিল্লা কেইন ফার্নিচার সেন্টার, ২৪/২ রিং মোহাম্মদপুর, ঢাকা, এই ঠিকানায় সারাসরি গিয়ে বিচিত্র ও ব্যতিক্রমী শো-পিস পাবেন।

ঘর সাজানোর দোকানগুলোও এলিফ্যান্ট রোডে বেশি। উৎসবের দিনগুলোতে ঘর সাজানোর জন্য নববিবাহিত কিংবা ফ্যাশনেবল অনেকে কিনছেন জমকালো বিছানার চাদর, কুশন, পিলো কভার, পর্দা, ওয়ালম্যাট, শোপিস

এলিফ্যান্ট রোডের সিরামিক ও টেক্সটাইলের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের সমাগম বেশ অনেক।

এলিফ্যান্ট রোডে সিরাজ সিরামিকসের মালিক সিরাজুদ্দিন বলেন, সিরামিকের রঙিন ডিনার সেটের চাহিদা এখন বেশি।

গৃহস্থালি পণ্য সামগ্রীর পাইকারি ও খুচরা বিক্রির দোকান নিউমার্কেটের বি.বাড়িয়া এন্টারপ্রাইজের মোনায়েম খান জানান, ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন সাইজের সসপ্যান রয়েছে এগুলো কিনতে পারবেন ৭০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। ননস্টিক ফ্রাইপ্যান পাবেন ৪০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে।

এখানে ঈদেও সময় জরুরি অন্যান্য উপকরণের মধ্যে কাটিং বোর্ড ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। ছুরি পাবেন ৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। চপার দাম ৫০০ টাকা।

ননস্টিক চামচের দাম পড়বে ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া কাঠের চামচের দাম পড়বে মাত্র ২০ টাকা। হ্যান্ড বিটারের দাম পড়বে ৮০ টাকা। ইলেকট্রিক বিটারের দাম পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

সালাদ কাটার কাজটা অনেক সহজ করে দেবে গ্রেটার। দাম পড়বে ২০০ টাকা। চাইলে কিনতে পারেন নাইসার। দাম পড়বে ৪৫০ টাকার মতো। মাংসের পাশাপাশি যদি থাকে মাছের আয়োজন, তবে মাছ কাটার ঝামেলাটা নির্ঝঞ্ঝাট করার জন্য নিতে পারেন ফিশ কাটার। এটি কিনতে পারবেন ১০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে।

মাংস বা শাকসবজি ধোয়ার জন্য স্টেনার পাবেন ৩০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। আর চাল ধোয়ার স্টেনার পাবেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির বিপরীতে পুরনো ফার্নিচার মার্কেটে।  প্রায় ২০টি দোকানে সাজানো আছে নতুন-পুরনো ফার্নিচার। চাহিদামতো ফার্নিচার সরবরাহ করতে তারা সদা প্রস্তুত। পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি ফার্নিচারও।

সবকিছুর দামের ঊর্ধ্বমখি বাজারে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনাকাটা করেন এ মার্কেট থেকে। পুরনো আসবাবপত্রের এই মার্কেটে সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকায় খাট, এক হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় পড়ার টেবিল, চেয়ার ৫শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ’, ড্রয়ার এক হাজার থেকে ২ হাজার টাকা, শোকেস ৫ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা, ওয়্যারড্রোব ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা ও সোফাসেট ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মালামাল চাহিদা মতো স্বল্প দামে পাওয়া যায়।

বন্ধু ফরেন ফার্নিচারের বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, ঈদে ফার্নিচার বিক্রির ধুম পড়ে যায় তবে সবসময় মার্কেটে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। এখানে নতুন-পুরনো ফার্নিচার বিক্রি করা হয় আবার যারা নতুন বা পুরনো ফার্নিচার বিক্রি করতে চান তারা বিক্রিও করতে পারবেন। বিক্রির চেয়ে কিনতে ডবল দাম নেয়া হয়।

বাংলাদেশ সময় ১৩৪০ ঘন্টা, আগস্ট ২৫, ২০১১

শরীয়তপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ২ কলেজছাত্রের
আড়াইহাজারে যুবলীগ নেতাসহ ৫ জনের জেল
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জ্বলে উঠলো ৫২শ' মোমবাতি
সারাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
গর্বের সঙ্গে বাংলার ব্যবহার চায় ভারতের নদীয়ার প্রতিনিধিদল


ভেঙে পড়লো রাসিক মেয়র লিটনের সংবর্ধনা মঞ্চ
রামুতে বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর কন্ঠে একুশের গান
ভাষাশহীদদের প্রতি বিরোধী দলীয়নেতা রওশনের শ্রদ্ধা
মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা
একুশে ফেব্রুয়ারি: বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন