চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ২ জন নিহত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার বিশ্ব কলোনি কাঁচাবাজারের পাশে পাহাড় ধসে দু’জন নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।



চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার বিশ্ব কলোনি কাঁচাবাজারের পাশে পাহাড় ধসে দু’জন নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এছাড়া মাটির নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার ভোর সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনের মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাহাড় ধসে নিহতরা হলেন, মোশাররফ হোসেন বাপ্পী (২০) ও তার ফুফাত ভাই মো. জামাল (৪০)।

এছাড়া আহত হয়েছেন নিহত বাপ্পীর বড় ভাই ফখরুল আলম (২২)। তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২০) মাটির নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের দু’জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হতাহতদের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাদীননগর গ্রামে। হতাহতদের মধ্যে জামাল ও সুমি গার্মেণ্টস কর্মী। ফখরুল ট্রাকের হেল্পার। আর মোশাররফ ঈদের পোশাক কিনতে বাড়ি থেকে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন।

নগরীর আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা ফজলুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, উত্তর কাট্টলী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত কৈবল্যধাম সংলগ্ন পাহাড়টি স্থানীয়ভাবে ‘বালুপাহাড়’ হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু পাহাড়টির চূড়া থেকে ছোট এবং বড় দুটি খ- ভেঙে পড়ে ঘরটির উপর।

পাহাড়ের পাদদেশে জামাল ও ফখরুলের অবৈধভাবে গড়ে তোলা দু’কক্ষ বিশিষ্ট এ ঘরটির দরজা ছিল পাহাড়ের সাথে লাগানো।

পাহাড় ধসের সময় মোশাররফ ও জামাল এক কক্ষে এবং ফখরুল ও তার স্ত্রী সুমি অপর কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন।

প্রথমে পাহাড়ের ছোট একটি খ- তাদের ঘরের দরজার সামনে পড়ে। একটি বড় খ- পড়ে মোশাররফ ও জামালের কক্ষের উপর।

খবর পেয়ে আগ্রাবাদ থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে সুমিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর তার স্বামী ফখরুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শেষে মাটি কেটে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে আটটায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন নিহত বাপ্পীর বড় দু’বোন। এ সময় তাদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

নিহত বাপ্পীর বড় বোন, গার্মেন্টস কর্মী সালমা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ভাইকে শার্ট, প্যান্ট কিনে দেব বলে বাড়ি থেকে এনেছিলাম। ভাইয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি যেতে হবে ভাবিনি।’

পাহাড় ধসের খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন মেয়র এম মনজুর আলম।

নিজ বাসভবনের মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি নিয়ে মেয়র বলেন, ‘পাহাড় থেকে ৩০ ফুটের মধ্যে কোনও বসতি স্থাপন না করার জন্য বারবার বলা হয়েছিল। এরপরও কিছু লোক সেটা অমান্য করেছেন। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। এরপর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এছাড়া দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সাংসদ এবিএম আবুল কাশেম মাস্টার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ।

জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘কিছু ভূমিদস্যু এখানে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে। তদন্তের পর ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে।’

টানা বৃষ্টিতে বালু পাহাড়টির শীর্ষে মাটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে ধসে পড়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন।

বাংলাদেশ সময়: ১০১১ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১১

ফেনী ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪ 
জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান দুর্ঘটনায় নিহত
গ্রন্থমেলায় মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘ভালোবাসার গল্প’
কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসে অন্যরকম একুশ


চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় মুদ্রাসহ আটক ৫
শহীদদের ‘স্মৃতিচিহ্ন’ এঁকে পুরস্কার পেলো শিশুরা
অধিনায়কত্বটা এখন উপভোগ করি: মুমিনুল
বাবার প্রতিকৃতির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি
এবার আমিরাতে ১ বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত