php glass

শোকাবহ রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট আজ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম, আর সবচেয়ে নারকীয় উন্মত্ততায় সংঘটিত এক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের দিন।

ঢাকা : ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম, আর সবচেয়ে নারকীয় উন্মত্ততায় সংঘটিত এক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও উচ্চাভিলাষী একটি চক্রের লেলিয়ে দেওয়া বিপথগামী কিছু ঘাতকের হাতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শিশু, নারী এমনকি অন্তঃস্বত্ত্বা কাউকেই ছাড় দেয়নি বর্বর ঘাতকের দল। আর এ সুযোগে প্রতিক্রিয়াশীলদের দোসররা দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে বসে রুদ্ধ করে রাখে গণতন্ত্রের পথ।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতি হারিয়েছে তার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু ও ত্রাতাকে। সেই সঙ্গে তার গৌরবময় ইতিহাস নিমেষে ঢেকে গেছে অনপনেয় কালিমায়। জাতি সরে গেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের পথ থেকে স্বৈরশাসনের আবিল আবর্তে, প্রগতিশীলতা থেকে ক্রমাগত প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে আর বিজ্ঞানমনস্কতা থেকে ধর্মান্ধতার দিকে। তবে দেরিতে হলেও জাতির জনকের ঘাতকরা শাস্তি পেয়েছে। এবার তাই ফিরে আসতে শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধের লালিত স্বপ্ন অর্জনে নতুন করে পথচলা। জাতি আজ গভীর শোকার্ত হৃদয়ে আর শ্রদ্ধাবনত চিত্তে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছে।

এবার নতুন পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ ও জাতীয় শোকদিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছর ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়। দণ্ডিত অপর কয়েকজন খুনি এখনও বিদেশে পালিয়ে আছে। সরকার তাদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস হওয়ায় এটি এখন সরকারি সরকারি ছুটির দিন। ২০০৯ সালে তত্ত্বাŸধায়ক সরকারের সময় থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় দিবসটি সরকারিভাবে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হচ্ছে। দিবসটিতে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। আওয়ামী লীগ, এর বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনও মাসব্যাপী শোকের নানা কর্মসূচি পালন করছে।  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা শুরু হয়। পাশাপাশি চালু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখল এবং সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার এক অশুভ ধারা সূচিত হয়। কিন্তু সত্যেরই জয় হয়েছে। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। তাই এবার জাতীয় শোকদিবস পালিত হচ্ছে শোককে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয়ে।

১৫ আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু শুধু একা হননি; ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পাননি রাজনীতির বাইরে থাকা নারী ও শিশুরাও। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজি জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ, বোনের ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, শহীদ সেরনিয়াবাদ, শিশু বাবু, আরিফ, রেন্টু। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যান। কিন্তু তাকেও ঘাতকচক্রের হাতে প্রাণ দিতে হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া গেছেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টুঙ্গিপাড়া যাবেন। এই দিন ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এছাড়া ঢাকায় সকাল ৭টায় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ্দলের সর্ব স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। দেশের সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় মিলাদ মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

১৬ আগস্ট আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সফল করতে এবং যথাযথ মর্যাদা ও ভাব গম্ভীর পরিবেশে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের
নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল
ইসলাম।

বাংলাদেশ সময়: ১২০০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১০

বিচারপতি টি এইচ খানের শততম জন্মদিন সোমবার
নেত্রকোনায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫ নং ওয়ার্ডে নিখিল নির্বাচিত
বরিশালে ৩৬৩ কেজি ইলিশসহ আটক ২৮ জনের জেল-জরিমানা
দারুস সালামে ফেনসিডিলসহ ২ মাদকবিক্রেতা আটক


টাঙ্গাইলে শাড়ির ভাজে ভাজে ইয়াবা, মূলহোতা নাগালের বাইরে
লিডিং ইউনিভার্সিটিতে সিএসই কার্নিভ্যাল-২০১৯ সম্পন্ন
ভেজাল গুড় তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে কারখানা মালিকের জরিমানা
নীলফামারী সদর আ’লীগের সভাপতি আবুজার, সম্পাদক ওয়াদুদ
সোয়ারীঘাটে হিযবুত তাহরীরের সদস্য আটক