ইফতারের মজা রকমারি স্বাদের রোস্ট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

মাংসের পদ না থাকলে যেন শাহী ইফতারি অপূর্ণই থেকে যায়। ঢাকার অভিজাত ইফতারসামগ্রীর বেশিরভাগই মাংস দিয়ে তৈরি। এর মধ্যে নানা ধরনের রোস্ট বেশ জনপ্রিয়। ইফতারে রোস্ট যে রকমারি স্বাদের হতে পারে না খেয়ে দেখলে বিশ্বাস হয় না।



ঢাকা: মাংসের পদ না থাকলে যেন শাহী ইফতারি অপূর্ণই থেকে যায়। ঢাকার অভিজাত ইফতারসামগ্রীর বেশিরভাগই মাংস দিয়ে তৈরি। এর মধ্যে নানা ধরনের রোস্ট বেশ জনপ্রিয়। ইফতারে রোস্ট যে রকমারি স্বাদের হতে পারে না খেয়ে দেখলে বিশ্বাস হয় না। এসব খাবার দেখলেই জিভে পানি আসে। রোজা বলেই মানুষ ধৈর্য ধরে ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

দুপুর থেকেই চকবাজার ছাপিয়ে পুরান ঢাকার অলিগলির বাতাসে ভাসে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস। এর মধ্যে রোস্টের সুবাস সবার আগে নাকে লাগে।

ঢাকায় ইফতার বাজারে গেলেই দেখা যায় নানান ধরনের রোস্ট সাজানো। এসব রোস্ট থেকে আসা নানাপদের মসলার ঘ্রাণে ম-ম করে পুরো এলাকা। চকবাজারের ছোট-বড় দোকানগুলোতে অ্যালুমিনিয়ামের থালায় থরে থরে সাজানো থাকে এসব রোস্ট। ক্রেতারা কিনে নেন চাহিদা অনুসারে। চকে দেখা যায় আস্ত খাসির রোস্ট, মুরগির রোস্ট, হাঁসের রোস্ট, কোয়েল বা ঘুঘু পাখির রোস্ট, বকপাখির রোস্ট।

নানা ধরনের রোস্ট দিয়ে কত যে রকমারি খাবারের আয়োজন হয়, তা নগরের অন্য অভিজাত এলাকার মতো গুলশানে ঘুরলেই তা চোখে পড়ে। দেশি-বিদেশি নানা পদের মসলার ব্যবহার খাবারগুলোতে যোগ করে অন্য রকম স্বাদ।

ঢাকায় ইফতারসামগ্রীতে রোস্টের দেখা মেলে। আস্ত খাসির রোস্ট থেকে শুরু করে আস্ত মুরগির রোস্ট, মুরগির হাফ ও কোয়ার্টার রোস্ট, কোয়েল পাখির রোস্ট, খাসির আস্ত রানের রোস্ট, খাসির রোস্ট, হাঁসের রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, বকপাখির রোস্ট, খাসির চাপ, গরুর চাপ, চিংড়ির রোস্ট।  
চকের রোস্ট বিক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম জানান, রোস্টের চাহিদা প্রচুর। রমজানে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি মুরগি, ৩০টি কবুতর, ২০টি কোয়েল পাখি, প্রায় এক ডজন বকপাখির রোস্ট তিনি তৈরি করেন।

দাম সম্পর্কে চকের বিক্রেতারা জানান, খাসির রানের রোস্ট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, মুরগির ৩০০- ৪৫০ টাকা, চিংড়ি রোস্ট প্রতি পিস ৭০ থেকে ১৬০ টাকা, কোয়েল পাখি ভাজা রোস্ট ৯০-১২০ টাকা, কবুতর ১৫০- ২০০ টাকা, হাঁস ২০০-২৫০ টাকা বা তারও কম-বেশিতে বিক্রি হয়।

ঢাকার অভিজাত ফখরুদ্দীন ইফতার বাজারে ৪ ধরনের রোস্ট তৈরি হয়।

আস্ত মুরগির রোস্ট প্রতিটি ৩৪০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ৫২০ টাকা, প্রতিকেজি গরর চাপ ৪০০ টাকা, খাসির চাপ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

পুরান ঢাকার নর্থ-সাউথ রোডের আল রাজ্জাক রেস্টুরেন্টে বেশ কয়েক প্রকার রোস্ট পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে খাসির লেগ রোস্ট ৫০০ টাকা, মুরগির ফুল রোস্ট বড় ৩০০ টাকা, ছোট ২২০ টাকা।

ঢাকার বিখ্যাত স্টার কাবাবে নানা ধরনের রোস্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে আস্ত মুরগির রোস্ট ৩৫০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ৪০০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৩০০ টাকা। স্টার কাবাবের ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার—সবগুলো কেন্দ্রেই এসব রোস্ট পাওয়া যায়।

উত্তরার সি-সেল, সিকারা রেস্টুরেন্ট, ফিঙার লিকিংয়ে নানা স্বাদেও রোস্ট পাওয়া যায়।

গুলশানের অ্যারিস্টোক্রেট, খাজানা, ইমানুয়েলস, টপকেপি, অ্যারোমা ,লেকভিউ, অ্যাবাকাস, ঠুমরি, বারবিকিউ, জেমস চিকেনসহ আরও বেশক’টি খানদানি হোটেল- রেস্টুরেন্টে বেশ জনপ্রিয়।

ধানমন্ডির আনন্দ, স্টার, ঠুমরি, পন্টু মিয়া বাবুর্চির শাহি ইফতার, লায়লাতি রেস্টুরেন্টের ইয়াম ইয়াম, জেমস কিচেন অ্যান্ড ফাস্ট ফুড, স্পেনিশ রেস্টুরেন্ট, বিসস্ট্রো, পাপাডোরা, লাবাম্বা এন্টারপ্রাইজ, ডিসেন্ট রেস্টুরেন্ট, প্রাইম, অলিম্পিয়া প্যালেস, ক্যাফে ফোর-এ, বার-বি-কিউ, সর, সুইটস, মিনাবাজার, জেমস চিকেন, আম্বালা সুইটস, ডমিনাস পিজা ও ভূতসহ আরও বেশ কয়েকটি খানদানি হোটেল- রেস্টুরেন্টে আট-দশ রকমের রোস্ট পাওয়া যায়।

মতিঝিল এলাকার ঘরোয়া, হীরাঝিল, তোপখানা রোডের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও রোস্ট বিক্রি হয়। বেইলি রোডের ক্যাপিটাল ইফতার বাজারে মুরগি, কবুতর ও খাসির লেগ রোস্ট পাওয়া যায়।

ঢাকার অভিজাত এলাকার ইফতার সামগ্রীর বেশিরভাগই মাংস দিয়ে তৈরি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল ঘটিয়ে তৈরি এসব খাবার ।

এসব রোস্ট থেকে আসা নানাপদের মসলার ঘ্রাণে দুপুরের পর থেকে ম-ম করে হোটেল-রেস্টুরেন্টের আশপাশ এলাকা।

এসব রেস্টুরেন্টে ভীড়ের কমতি নেই। কেউ আসেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে, কেউ আসেন রিকশা-অটোরিকশায় চড়ে।  


পুরান ঢাকার বংশালের ২৯/১ নর্থ সাউথ রোডের আল রাজ্জাকের লেগ রোস্টের নাম এখন ভোজন রসিকদের মুখে মুখে। ১৯৯৩ থেকে আলহাজ হোসেন মোল্লার হাতে এর প্রচলন হয়। এ দোকানে ছাড়া মাটন গ্লাসি, মাটন চাপ, চিকেন কাবাব, লাবাং আর ফালুদা তো আছেই।

দোকানের সুপারভাইজার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে খাবারের অনন্য স্বাদ, পরিবেশনে বৈচিত্র্য। মাংসের পদগুলোয় শুধু দেশি মুরগি ও খাসির মাংসই ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা `মাটন লেগ রোস্টের`।

তিনি বলেন, মাটন লেগ রোস্টটি মূলত ভারতীয় খাবার। ৩০০ গ্রাম ওজনের খাসির রানের মাংসের সঙ্গে দই, দুধ, মাওয়া, চিনি, আলু বোখারা, তেল, ঘি, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কিশমিশ, গরম মসলা প্রভৃতি মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দেওয়া হয়। ৭০ থেকে ৮০টি রান দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ভাঁপে রান্না হয়।

আল-রাজ্জাকের সুনাম শুধু পুরান ঢাকায়ই নয়, গুলশান ও বনানী থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে নিয়মিত আসেন। প্রায় প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ হোটেলটি সমঝদার দেশের প্রধান দুই নেত্রী। এ ছাড়া সুবীর নন্দী, হানিফ সংকেত, মমতাজসহ দেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি তাদের খাবারের স্বাদ নিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে বলিউড কিং শাহরুখ খান ঢাকায় এলে তাঁর জন্য এ হোটেল থেকে খাবার নেওয়া হয়েছিল।

হোটেল আল-রাজ্জাকের খাবারের দামটাও নাগালের মধ্যেই। স্পেশাল আইটেম লেগ রোস্ট ১৭০ টাকা।

অন্যান্য রোস্ট ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কাবাব ১৭০ থেকে ৫০০ টাকা। খাসি চপ ১০০ টাকা চিকেন ফ্রাই ৬০ টাকা। এখান থেকে ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহের ফরমায়েশও নেওয়া হয়।


ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে ইফতার করার পাশাপাশি পার্সেল ব্যবস্থাও রয়েছে। রমজানজুড়ে থাকবে এসব হোটেলে ইফতারির জমজমাট আয়োজন। মুখরোচক খাবারের মধ্যে রয়েছে গরু-খাসি-মুরগির বিভিন্ন পদের মুখরোচক খাবার।

রমজান শেষ হবে কিন্ত ঢাকার নানা স্বাদেও ইফতারের রোস্টের স্বাদ মুখে লেগেই থাকবে। ভোজনরসিকরা অপেক্ষায় থাকবে আগামী রমজানের জন্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১১

মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 
পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন
উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু


বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা 
জমে উঠেছে বইমেলা, চলছে আড্ডাও
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মা গ্রেফতার