আদালতে হাতাহাতি: আগাম জামিন পাননি ১১ আইনজীবী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আদালতে হাতাহাতির ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপিপন্থী ১১ আইনজীবীর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।



ঢাকা: আদালতে হাতাহাতির ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপিপন্থী ১১ আইনজীবীর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে বিচারপতি আনোয়ার উল হক ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে বিচারপতি আনোয়ার উল হক বলেন, ‘চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। বাধ্য হয়েই এ জামিন আবেদন খারিজ করলাম। এ রায়ে আদালতের মান-সম্মান, ভাবমূর্তি বিবেচনা করা হয়েছে।’

আদেশের পর অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল আবেদন সরাসরি খারিজ না করে উত্থাপিত হয়নি এই মর্মে খারিজের অনুরোধ জানান। তবে তাদের সে অনুরোধ রাখেননি আদালত।

আদালতের আদেশ ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আজ সকালে একদিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত আমাদের সময় দেননি। বাধ্য হয়ে অনেক কষ্ট করে আমরা দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় নিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরাও গিয়েছিলেন। আমরা আদালতকে বলেছি, আপনারা যদি মনস্থির করে থাকেন যে বেল দেবেন না, তাহলে আমরা ‘নট ট্রেস’ করব। একথা বলার পর কোর্ট আমাদের আশ্বস্ত করেন। কোর্ট প্রথমে সরাসরি খারিজ করলেও পরে আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করে ‘নট ট্রেস রিজেক্টেড’ করেন।

অপর দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত তার আদেশে বলেছেন, যেহেতু তারা আজ উপস্থিত নেই, তাই তাদের পলাতক আসামি হিসেবে ধরে নিতে হবে। যেহেতু তারা পলাতক আসামি, তাই আগাম জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে তাদের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হলো। কারণ আগাম জামিনের প্রধান শর্তই হলো আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাওয়া। আদালত তার আদেশে বলেছেন, কোনো আসামি উপস্থিত না থাকলে, তার আইনজীবীর ক্ষমতা নেই তার পক্ষে আবেদন করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যেহেতু হাইকোর্ট পিটিশনটি খারিজ করে দিয়েছে, তাই তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এবং তাদের গ্রেপ্তারেও আর কোনো বাধা রইল না।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত কদিন ধরে বার প্রেসিডেন্ট শুধু বলেই আসছেন, জামিন না দেওয়া হলে আদালত উত্তপ্ত হবে। এ কথাটি আপত্তিজনক। এটি পরোক্ষভাবে বিচারপতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। একজন সিনিয়র আইজীবীর কাছে এ কথা কোনোভাবেই আশা করা যায় না। বরং তার উচিত ছিল আসামিদের নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সোপর্দ করা।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আদালত তার আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের তিনটি রায়ের আলোকে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, আদালতে হাজির না থেকে কোনো জামিন আবেদন করা য়ায় না।’

ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তার নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা। এর পেছনে আইনের কোনো ভিত্তি নেই।’

আদালতে হাতাহাতি ও হট্টগোলের এই দুটি মামলায় অভিযুক্ত হন মোট ১৩ জন আইনজীবী। তাদের মধ্যে বিএনপির এমপি ও আইনজীবী আফিয়া আশরাফি পাপিয়াসহ দুইজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া অলিউর রহমান নামে একজন আইনজীবী তার আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ অবস্থায় মামলাটিতে মোট ১০ জন আসামি তাদের জামিন আবেদন করে তা পেতে ব্যর্থ হলেন।

অপর একটি মামলায় মোট ৯ আসামির মধ্যে ১ জনের নামের ভুলের কারণে জামিন আবেদন করা হয়নি। ফলে এ মামলায় জামিন চেয়েছিলেন ৮ জন।

উভয় মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ৭ জন আইনজীবী অপর একটি মামলায় ৩ জন ও একটি মামলায় ১ জন হিসেবে মোট ১১ জন আসামি বুধবারের আদেশে আগাম জামিন প্রত্যাখাত হলেন।     

আর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ডিভিশন বেঞ্চে জামিন আদেশের কার্যক্রম শুরু হলে অভিযুক্ত আইনজীবীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সময় আবেদন করলে আদালত আদেশের জন্য দুপুর ২ টায় সময় নির্ধারণ করেন।

রোববার একই ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দু’টিতে ১৩ আইনজীবীর জামিনের বিষয়ে শুনানি হয়।

শুনানিতে আসামি পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল ও রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সরকার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অংশ নেন।

জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি করা হয়।  

ওইদিনেই শুনানির আদেশ দেওয়া হবে বলে আদালত জানান। তবে আদালত সোমবারও আদেশ না দিয়ে আরও একদিন পিছিয়ে মঙ্গলবার ধার্য করেন।

এর আগে ১৩ আইনজীবীর পক্ষে গত ৩ আগস্ট জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, সরকারি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় ২ আগস্ট রাতে শাহবাগ থানায় গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা এসএম সোলাইমান ১৪ আইনজীবীর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

আদালত এলাকায় হাতাহাতির ঘটনা ৪ আগস্ট তদন্ত করতে আসলে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিলকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মারধোর করে। এ ঘটনায় আব্দুল জলিল বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় আরও একটি মামলা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১১

চুয়াডাঙ্গায় গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
৬ বছর পর কোন্দলপূর্ণ শিবগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন
'লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম' দেখলেন প্রধানমন্ত্রী-রেহানা
ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু
ফেনী ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী


মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪ 
জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান দুর্ঘটনায় নিহত
গ্রন্থমেলায় মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘ভালোবাসার গল্প’
কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসে অন্যরকম একুশ
চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় মুদ্রাসহ আটক ৫