রংপুরে আবাসন সঙ্কটে ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: কারমাইকেল কলেজ

walton

রংপুরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মফস্বল থেকে উচ্চ শিক্ষা নিতে শহরে আসা শিক্ষার্থীরা।



রংপুর: রংপুরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মফস্বল থেকে উচ্চ শিক্ষা নিতে শহরে আসা শিক্ষার্থীরা।

সরকারি শক্ষিা প্রতষ্ঠিানগুলোতে নামে মাত্র আবাসকি সুবধিা থাকলওে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো আবাসিক সুবিধা নেই। নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ আবাসিক সুবিধা থাকার কথা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সে পরিমাণ নেই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আবাসিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মেস বা ছাত্রাবাসে থাকতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ভাড়াসহ অন্যান্য খরচবাবদ গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

রংপুরের সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোলে মধ্যে রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর সরকারি কলেজ, সরকারি বেগম রোকেয়া মহিলা কলেজ, সরকারি বাণিজ্যিক কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সরকারি রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তাজহাট সরকারি কৃষি ইনস্টিটিউট।

এছাড়াও বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, প্রাইম মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, নর্দার্ন মেডিকেল কলেজ, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আরসিসিআই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখের ওপরে। এদের বেশির ভাগই মফস্বল থেকে আসা।

সম্প্রতি রংপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদ পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা যায়, রংপুরের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ২ হাজার শিক্ষার্থীর। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।

মফস্বল থেকে উচ্চ শিক্ষা নিতে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে থাকতে হচ্ছে বেসরকারি ভাবে গড়ে ওঠা মেস ও ভাড়া বাসায়।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দুই শিফট মিলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে ৩শ’ ছাত্র-ছাত্রীর।

রোকেয়া কলেজে ছাত্রীদের জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে ৪৫৬ জনের, এ কলেজে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, কারমাইকেল কলেজে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ৯শ’ শিক্ষার্থীর।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেই।

এদিকে, রংপুর বিভাগ ঘোঘণা হওয়ার পর মেস ও বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে এর মালিকরা। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মফস্বল থেকে আসা স্বল্পবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে মেস ও বাড়ি মালিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে হয়েছে মানববন্ধনও।

বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের ছাত্র তপু সরকার জানান, কলেজের নিজস্ব কোনো আবাসন সুবিধা না থাকায় তাকে মেসে থাকতে হচ্ছে। এ জন্য শুধু ভাড়াই গুনতে হচ্ছে মাসে ৩ হাজার টাকা।

রংপুর রোকেয়া কলেজের অনার্সের ছাত্রী আইনুন নাহার জানান, কলেজে যে পরিমাণ ছাত্রীর আবাসন সুবিধা রয়েছে তার ৩ থেকে ৪ গুণ ছাত্রী মেসে থেকে পড়াশুনা চালাচ্ছেন। প্রতিমাসে মেস ভাড়াসহ অন্যান্য খরচের অর্থ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। সচ্ছল পরিবারের মেয়েরা এর যোগান দিতে পারলেও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহরের লালবাগ এলাকায় মেসে থাকা কারমাইকেল কলেজের বেশ ক’জন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমাগত শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় আবাসন ব্যবস্থা বাড়াচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি মেস ভাড়া দিয়ে থাকতে গিয়ে অন্তহীন সমস্যার মুখে পড়ছে তাদের পরিবার। ফলে মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

তারা জানায়, তাদের কলেজে আরও অতন্ত ৪/৫টি হোস্টেল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে দিকে নজর দিচ্ছে না। কবে নাগাদ তাদের এ সমস্যার সমাধান হবে তারা কেউই বলতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট প্রসঙ্গে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, এখানকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়  আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাদের এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সাড়ে ৭শ’ আসনের ৩টি আবাসিক হল নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২টি ছেলেদের একটি মেয়েদের হল রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে রংপুর কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্রনাথ দাস বলেন, কারমাইকেলে ছেলেদের জন্য ও একটি মেয়েদের জন্য আলাদা ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ৩ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আবাসন সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি বলেন, মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তত ৫ হাজার এবং কলেজ পর্যায়ে ২ হাজার ছাত্রছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা দরকার। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে ছাত্রাবাসগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০১ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১১

‘কর্ণফুলী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘ধূমপানের কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে পাঠাওচালকে হত্যা করা হয়’
মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 
পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন


উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা