ঘোর বরষায় শরীয়তপুরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে পানি বৃদ্ধির কারণে নৌকা বিক্রির ধুম পড়েছে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন নৌকার হাটে। বর্ষা মৌসুমে বাড়ির চারদিকে পানি থৈথৈ করছে।



শরীয়তপুর: গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে পানি বৃদ্ধির কারণে নৌকা বিক্রির ধুম পড়েছে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন নৌকার হাটে। বর্ষা মৌসুমে বাড়ির চারদিকে পানি থৈথৈ করছে।

তখনই গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই যাতায়াতের অন্যতম বাহন হিসেবে যুগ যুগ ধরে কোষা নৌকা ব্যবহার করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্ষা এলেই কোষা নৌকা তৈরির ধুম পড়ে যায়।

প্রায় ২০০ বছর ধরে নৌকার হাট বসছে সদর উপজেলার বুড়িরহাটে। এই হাটটিই জেলার সবচেয়ে বড় নৌকার হাট হিসেবেই পরিচিত। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে তেমন বিক্রি না হলেও গত কয়েকদিনে পানি বাড়ার কারণে জমে উঠেছে কোষা ও নৌকা বিক্রির হাট।

এছাড়াও সুবচনি বাজার, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর ও গোসাইরহাটের ইদিলপুর বাজারে বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার কোষা নৌকা বিক্রি হয়।

এক সময় জেলার বাইরে থেকে অনেকে বড় বড় ঘাসি নৌকা (পাল তোলা মালবাহী নৌকা) ভাড়া করে বুড়িরহাটে আসত কোষা কিনতে। তারা একেকটি ঘাসি নৌকার ভেতরে, ছাদে ও এর সঙ্গে বেঁধে বরিশালসহ দেশের অনেক এলাকায় কোষা কিনে নিয়ে যেত। বুড়িরহাটের সেই ঐতিহ্য এখনও টিকে রয়েছে। কালের বিবর্তনে পাল তোলা মালবাহী নৌকা না আসলেও নছিমন-করিমন, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে এখনো দূর দূরান্তে কিনে নেয়া হচ্ছে কোষা নৌকা।

বর্ষা মৌসুম শরু হওয়ার আগে থেকেই জেলার পাটানিগাঁও, আটেরপাড়া, মাকসাহার, ঘোড়ারঘাট, পাপরাইল, চন্দনকর, ছয়গাঁও, বিঝারী, ডুবিসায়বরও ডুবুলদিয়া গ্রামে কাঠমিস্ত্রিরা কোষা বানানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

ছয়গাঁও গ্রামের কাঠমিস্ত্রি নারায়ন চন্দ্র জানান, চৈত্র মাসের শুরু থেকেই কোষা তৈরি শুরু হয়। জারুল, হেগায়ারা, পউয়া বাউড়িয়া ও আম কাঠের একেকটি কোষা তৈরি করতে সময় লাগে ২-৩ দিন। প্রতি মঙ্গলবার বুড়িরহাটে এ কোষাগুলো বিক্রি করা যায় ৬-৮ হাজার টাকায়।

ডুবিসায়বর গ্রামের কাদের ও রমজান মিয়া জানান, ভালো কাঠ না থাকায় তারা কড়ই ও চাম্বুল দিয়ে কোষা তৈরি করেছেন। দিনরাত কাজ করে সপ্তাহে ৩-৪টি কেষা বানাতে পারেন। কড়ই কাঠের প্রতিটি কোষা তৈরিতে খরচ হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এ মৌসুমে তারা ৯৪টি কোষা তৈরি করে অনেক টাকা আয় করেছেন।
 
স্থানীয় সমাজ সেবক আব্দুল মজিদ মাদবর বলেন, ‘এক সময় চাঁদপুর বরিশাল ও ফরিদপুরের নামা অঞ্চল থেকে পাইকাররা কোষা কিনতে বুড়িরহাট আসত। এখন ভালো কাঠ পাওয়া যায় না বলে অনেকে কোষা বানানো ছেড়ে দিয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১১

‘কর্ণফুলী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘ধূমপানের কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে পাঠাওচালকে হত্যা করা হয়’
মঙ্গলবার শুরু সিইউডিএসর ১৬তম বিতর্ক কর্মশালা
মেলায় ‘রাজার কঙ্কাল’ নিয়ে সাখাওয়াত টিপু 
পথশিশুদের পাশে মেহজাবীনের হাসি ফাউন্ডেশন


উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়
রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু
বঙ্গবন্ধু বিষয়ক দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ওপার বাংলার ‘ওরা ৭ জন’ এখন পাবনায়
দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ডু প্লেসিস-রাবাদা