‘কর্মকর্তাদের অনেকেই তথ্য আইন পড়ে দেখেননি’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

তথ্য প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনেকেই তথ্য আইন পড়ে দেখেননি, আবার পড়লেও সেটা  পরিপূর্ণভাবে পড়েননি বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করল তথ্য আদালত।



ঢাকা: তথ্য প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনেকেই তথ্য আইন পড়ে দেখেননি, আবার পড়লেও সেটা  পরিপূর্ণভাবে পড়েননি বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করল তথ্য আদালত।

আগারগাঁওয়ে মঙ্গলবার জাতীয় তথ্য কমিশন কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রদানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণের অনেককেই এমন অপরাধে সতর্ক করে দেন আদালত। এসময় তথ্য চেয়ে আবেদনকারী দি ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদককে আদালত আরো সচেতনতার সঙ্গে তথ্য চেয়ে আবেদন করতে বলেন।

আদালত বলেন, আপনি সাংবাদিক হয়ে যদি সঠিকভাবে তথ্য চেয়ে আবেদন করতে না শেখেন তাহলে অন্যরা কি করবে।

দি ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার পরিমল পালমা বাংলাদেশ ম্যানপাওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এর কাছে ওয়েজ আর্নার্র্স ওয়েলফেয়ার ফান্ডের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিরিন আফরোজ তার ঠিকানায় সেটি প্রেরণ করেন। কিন্তু তার অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন হবার ফলে তিনি সেটা পাননি বলে দাবি করেন।

আদালত এসময় তাকে বলেন একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে আরো সচেতন হতে হবে। আইনে বলা হয়েছে, ঠিকানার পরিবর্তন হলে সেটা কর্তপক্ষকে জানাতে হবে, আপনি সেটা না জানিয়ে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান তথ্য কমিশনার মোহম্মদ জমিরের নেতৃত্বে আজকের আদালত শুরু হয়। আদালতে তাকে সহযোগিতা করেন তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম ও তথ্য কমিশনার মোহম্মদ আবু তাহের।

অধিকার আইনের তথ্য চেয়ে না পেয়ে কমিশনে অভিযোগকারীদের ৫টি মামলার শুনানি হয় আদালতে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তথ্য কর্মকর্তাগণ তথ্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে দেয়া হয় ও  বাকি দুইটি মামলার শুনানির জন্য পরবর্তর্তীতে সময় দেয়া হয়।

প্রথম অভিযোগকারী কিশোরগঞ্জের মো. আব্দুর রহিম তার জেলার বহুমুখী সমবায় সমিতির নিকট লোন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন।  পরিপূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় তার দেয়া অভিযোগে বহুমুখী সমবায় সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামকে আদালত সাত দিনের মধ্যে ২০০৬-০৭, ০৭-০৮ ও ০৯-১১ সালের লোন প্রদানের অডিট রিপোর্ট আবেদনকারীকে প্রদানের জন নির্দেশ দেয়া হয়।

এছাড়া আদালত তদন্ত রিপোর্ট, লোন পরিশোধের স্টেটমেন্ট তথ্য কমিশনে প্রদানের নির্দেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শেখ আলী আহম্মদ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব রত কর্মকর্তার নিকট একজন রোগীর ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। তথ্য দিতে গড়িমসি করায় সেই সাথে পরিপূর্ণ তথ্য না দেয়ায় ড. গোলাম মোস্তফাকে সতর্ক করেন আদালত। সেই সাথে তাকে তথ্য অধিকার আইন না জানায় ভর্ৎসনা করা হয়।

আদালত পরবর্তী ১৮ আগস্ট মামলার শুনানীর দিন ধার্য করেন ও সেই দিন তার সঙ্গে জেলা সিভিল সার্জনকে আদালতে উপস্থিত হবার সমন দেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডু থানার মো .মছিউদদৌলা চট্রগ্রামের জেলা রেজিস্টার অফিসে একটি দলিল রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে না পেয়ে অভিযোগ করেন। তার মামলার শুনানিতে জেলা রেজিস্ট্রার উপস্থিত না হয়ে তার পক্ষে একজন অ্যাডভোকেটকে আদালতে পাঠান।

কিন্তু আদালত বলেন, আইনে তাকে নিজে আসতে হবে সাথে অ্যাডভোকেট তাকে সহযোগিতা করতে পারবেন ও প্রয়োজনে তার পক্ষে কথা বলতে পারবেন। আদালত ১৮ আগস্ট আদালতের পরবর্তী কার্যদিবসে জেলা রেজিস্টারকে উপস্থিত হবার নির্দেশ প্রদান করেন।

কুষ্টিয়ার নিরঞ্জন কুমার বিশ্বাস নামে একজন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকটে তার ওয়ার্ডে কতজন স্বাস্থ্যকর্মী কবে কখন এলাকায় পরিদর্শনে যান তাদের নাম চেয়ে আবেদন করে তথ্য না পেয়ে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। আদালতে বাদি জানান, অভিযোগ দায়েরের কিছুদিন পরে তিনি তথ্য পেয়ে গেছেন। তাই আদালত তাকে অব্যাহতি দেন অভিযোগ থেকে। সেই সাথে তার পৌরসভার তথ্য প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম জমা দিতে বলেন কমিশনে।

বাংলাদেশ সময়: ২২০০, আগস্ট ৯, ২০১১

'লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম' দেখলেন প্রধানমন্ত্রী-রেহানা
ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু
ফেনী ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকালে আটক ৪ 
জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহান দুর্ঘটনায় নিহত


গ্রন্থমেলায় মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘ভালোবাসার গল্প’
কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসে অন্যরকম একুশ
চুনারুঘাট সীমান্তে ভারতীয় মুদ্রাসহ আটক ৫
শহীদদের ‘স্মৃতিচিহ্ন’ এঁকে পুরস্কার পেলো শিশুরা
অধিনায়কত্বটা এখন উপভোগ করি: মুমিনুল