নাঈমুল ইসলাম খান : স্বপ্ননির্মাতা একজন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

পঁচাত্তরের শোকাবহ ট্র্যাজেডির পর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ যেন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন দেশের মানুষ, তারা হারিয়েছিলেন মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার। স্বৈরশাসকরা সচরাচর যা করে থাকে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, বাংলাদেশ ছিল এর ভয়াবহ শিকার।



পঁচাত্তরের শোকাবহ ট্র্যাজেডির পর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ যেন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন দেশের মানুষ, তারা হারিয়েছিলেন মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার। স্বৈরশাসকরা সচরাচর যা করে থাকে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, বাংলাদেশ ছিল এর ভয়াবহ শিকার।

নব্বইয়ে যখন সেনা স্বৈরশাসকের পতন ঘটল, বাংলাদেশ যেন আবার প্রাণ ফিরে পেল। গণমাধ্যম ফিরে পেল তার হারানো স্বাধীনতা। কিন্তু কেবল স্বাধীনতা ফিরে পাওয়াই নয়, সাংবাদিকতায় নতুন প্রাণের জোয়ার যেন এল একগুচ্ছ স্বপ্ননির্মাতা তরুণের হাত ধরে। ‘আজকের কাগজে’র মধ্য দিয়ে দেশের দৈনিক সংবাদপত্রের সেই নতুন স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান।

আমাদের অনেকেরই মনে আছে, যখন ‘আজকের কাগজ’ বাজারে এল সে যেন এক অভিনব-অপ্রত্যাশিত ঘটনা। যেন এমন একটি দৈনিকের জন্যই দীর্ঘকাল অপেক্ষা করে ছিলেন দেশের মানুষ। বিশেষ করে আমরা তরুণ প্রজন্ম কাগজটিকে আমাদের বাইবেলে পরিণত করে ফেলেছিলাম। এর সবকিছুতেই (সংবাদের বাইরেও ফিচার, সাহিত্য সাময়িকী, উপসম্পাদকীয় এবং ছোট-বড় নানা আইটেম) আমাদের ভালো লাগা তৈরি হলো, এমনকি আমরা যারা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের স্বপ্ন দেখতাম, তাদের কাছে ‘আজকের কাগজ’ হয়ে উঠেছিল আদর্শ। অবশ্য, তারপর দিন অনেক বদল হয়েছে। আমাদের স্বপ্নের হাতও অনেক দীর্ঘ হয়েছে। কিন্তু এর নেপথ্যে যে আজকের কাগজ এবং এই সম্পাদক মানুষটিই ছিলেন বড় প্রেরণা, সেটিকে বিশেষ দ্রষ্টব্য করে না রাখলে ইতিহাসকেই অস্বীকার করা হবে।

ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়, এই অসাধ্য সাধন যারা করেছিলেন, তাদের অধিকাংশেরই বয়স ছিল ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আর যিনি ছিলেন এই স্বপ্নের নায়ক, সেই নাঈমুল ইসলাম খানের বয়স ছিল মাত্র ৩১ বছর!

স্বপ্ন দেখা খুব সহজ, কিন্তু তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। আরো কঠিন সেই স্বপ্নকে অব্যাহত রাখা। আর যদি বারবার স্বপ্নভঙ্গ হয় তাহলে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস ও সক্ষমতা থাকে খুব অল্পসংখ্যক মানুষেরই। কিন্তু সেই ৩১-এর নাঈমুল ইসলাম খান ৫২-তে এসেও ক্লান্তিহীন, আজও স্বপ্ন বুনে চলেছেন তিনি সেই তারুণ্যের সাহস নিয়েই।

যে কারণে এত দীর্ঘ ভূমিকা, এর কারণটা নিশ্চয়ই মনস্বী পাঠক এই লেখার সঙ্গে একটি বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি দেখেই আঁচ করে নিয়েছেন।   

কেন এই ‘প্রামাণ্য নাঈমুল ইসলাম খান’? এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখেননি সুপরিসর বইটির সম্পাদক, নাঈমুল ইসলাম খানের বাল্যবন্ধু ও তাঁর দীর্ঘকালের স্বপ্নসঙ্গী কবি আবু হাসান শাহরিয়ার। আগ্রহী পাঠককে কবির এই সরস ও তথ্যসমৃদ্ধ ভূমিকারূপী ‘আঁতুড়কথন’টি পাঠ করতে অনুরোধ করছি।

তবে এ ধরনের কাজের তো একটি উপলক্ষ থাকে। আর সেটি ছিল মানুষটির জীবনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি। তবে বইটি ৫০ বছর পূর্তিতে প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও বের হলো ৫২ বছরে। এ ধরনের উপলক্ষে যা হয়, অনেক অতিকথন আর প্রশংসার ফুলঝুরি থাকে। মজার ব্যাপার, এই বইয়ের আশি জনেরও বেশি লেখক, যারা নানা মাধ্যমের প্রতিষ্ঠিত মানুষ, এখানে কেবল তাঁর প্রশংসাই করেননি, বরং কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন, তাঁর বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।  

ফলে বইটি কেবল বহু মতকে ধারণ করেছে তা-ই নয়, বইটির মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সাংবাদিক-সম্পাদক নাঈমুলকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অনেক অলিখিত ইতিহাস এবং দেশ-সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতি-গণতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্রসহ বিচিত্র বিষয়।

কারা লিখেছেন বইটিতে? দেশের গণমাধ্যমের রথী-মহারথীরা তো বটেই, আছেন তাঁর বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহকর্মী ও শিক্ষকরা, সংস্কৃতি জগতের মানুষ, লেখক-কবি-সাহিত্যিক, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীরা আর তাঁর জননী, জায়া ও বন্ধুরা।

আমরা কয়েকটিমাত্র বিশিষ্ট নাম এখানে উল্লেখ করি : সাংবাদিক-সম্পাদক এবিএম মূসা, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এনায়েতউল্লাহ খান, জগলুল আহমেদ চৌধুরী, মনজুরুল আহসান বুলবুল, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ,  কাজী শাহেদ আহমেদ, আলমগীর হোসেন, শ্যামল দত্ত, সৈয়দ বোরহান কবীর, নঈম নিজাম, ফজলুল বারী, পীর হাবিবুর রহমান, খালেদ মুহিউদ্দিন; মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ; সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব রাজ্জাক, আসাদুজ্জামান নূর, আফজাল হোসেন, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ম. হামিদ, তারেক মাসুদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লিয়াকত আলী লাকী; কবি ও লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, অসীম সাহা, বেলাল মোহাম্মদ, ফখরুজ্জামান চৌধুরী, ফরিদ কবির, ইমদাদুল হক মিলন, লুৎফর রহমান রিটন; শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্য ও ধ্রুব এষ; সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সাখাওয়াত আলী খান, ড. গোলাম রহমান, রোবায়েত ফেরদৌস; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, রাজনীতিক হাসানুল হক ইনু, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ক্রীড়াবিদ হাবিবুল বাশারসহ নানা ক্ষেত্রের মানুষেরা।

এই উল্লেখের কারণ, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিচরণক্ষেত্র থেকে এমন একজন ব্যক্তির মূল্যায়ন করেছেন, যারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে ছিলেন পরস্পর-সংশ্লিষ্ট। পাশাপাশি মিডিয়ায় তাঁদের প্রত্যেকেরই রয়েছে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা। ফলে বইটির মধ্য দিয়ে গত দু দশকের বেশি সময়ের বিশেষ মূল্যায়নও আমরা পেয়ে যাই।

শাদা চোখেই একটি বিষয় স্পষ্ট, আমাদের নতুন যুগের মিডিয়া-ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিহিত রয়েছে বইটিতে, যা আগামী দিনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জোগাবে।

বইটি প্রকাশও করেছেন এক তরুণ প্রকাশক জাবেদ ইমন, তার মুক্তদেশ প্রকাশনা থেকে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী সব্যসাচী হাজরা। বইটির নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন আরেক তরুণ লেখক আলমগীর নিষাদ। প্রায় তিনশ পৃষ্ঠার বইটির দাম ৩০০ টাকা।  

১১ আগস্ট পাঠ-উন্মোচন    

সদ্যপ্রকাশিত ‘প্রামাণ্য নাঈমুল ইসলাম খান’ বইটির পাঠ-উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন প্রকাশক। আগামী ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার শাহবাগ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিআইপি সেমিনার কক্ষে বিকেল ৪টায় এটি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশের বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি-ব্যক্তিত্বরা।         

বাংলাদেশ সময় ২০১০ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০১১

সৈকতে ছিনতাইকালে রোহিঙ্গাসহ আটক ২
৬ দিনে মাস্ক কারখানা তৈরি করছে বেইজিং
সুরমা নদী এখন মরা গাঙ!
বোচাগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাদকব্যবসায়ী নিহত
জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল আর নেই


মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাউফুন নাহারের ‘মনের যত্ন’
ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি রক্ষার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
করোনা ভাইরাসে উহানেই আরও ৯৩ জনের মৃত্যু
আ’লীগের নেতাদের সঙ্গে বনভোজন, বিএনপির সম্পাদককে শোকজ
পটুয়াখালীতে মহিলা সংস্থার নতুন চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা