বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, হরতাল পালন, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ। এসব কর্মসূচি চলাকালে একাধিক স্থানে হামলা ও সংঘষের্র ঘটনাও ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, হরতাল পালন, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ। এসব কর্মসূচি চলাকালে একাধিক স্থানে হামলা ও সংঘষের্র ঘটনাও ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন। বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। অসহনীয় লোডশেডিং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।’ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডির প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

নারায়ণগঞ্জ: বিদ্যুতের দাবিতে শহরের মণ্ডলপাড়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ছয় পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন। মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২টি টিয়ার সেল ও ৬২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

প্রত্যদর্শীরা জানান, শহরের বাবুরাইল, দেওভোগ, বৌবাজার, ভূঁইয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েকশ’ লোক বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করে মণ্ডলপাড়ায় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে গিয়ে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এ সময় উত্তেজিত জনতা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিযোগ গ্রহণকারী বোরহান মিয়াকে মারধর করে। জনতাকে থামাতে গিয়ে সংঘর্ষ বেধে  গেলে শহরের টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুবেদার নজরুল ইসলামসহ ছয় পুলিশ সদস্য ও কমপক্ষে ১৬ জন বিক্ষোভকারী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার শরাফত আলী বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে কেউ মামলা করতে আসেননি।’

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)’র নারায়ণগঞ্জের (পূর্ব অঞ্চল) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জানান, ‘মণ্ডলপাড়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র গ্রিড কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ব্যাপারে তারাই থানায় মামলা করবে।’ পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাটোর: নাটোরের বনপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস (পিবিএস) ঘেরাও এবং নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এলাকার বিক্ষুব্ধ কৃষক ও এলাকাবাসী পিবিএস-২-এর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে।

একই দাবিতে বেলা ২টার দিকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং দুপুর ১২টায় বড়াইগ্রাম উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নাছিমা খানমের কাছে স্মারকলিপি দেন স্থানীয় চালকল মালিকরা।

এছাড়া সকাল ১০টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুরে নাটোর-পাবনা মহাসড়ক প্রায় ১ ঘণ্টা অবোরধ করে রাখেন এলাকাবাসী। পরে ওই সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে পিবিএস ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতের দাবিতে বুধবার সকাল ১০টায় স্থানীয় বাস টার্মিনালের সামনে  চুয়াডাঙ্গা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ এবং বিদ্যুত অফিস ঘেরাও করে শিল্প ও বণিক সমিতি।

পরে পুলিশ এসে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দেয়। শেষে বিদ্যুতের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন সমিতির নেতারা।

খুলনা: জেলার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া এলাকায় বুধবার বেলা ১১টার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্র ঘেরাও করেন স্থানীয় জনসাধারণ। রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সুভাষ বিশ্বাস বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’কে জানান, ‘বিক্ষুব্ধ কিছু এলাকাবাসী  কাজদিয়া বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

এদিকে কাজদিয়া বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানান, ‘এলাকার কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল লোক হাঙ্গামা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।’

কিশোরগঞ্জ: সর্বদলীয় হরতাল পালিত হয়েছে জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়। হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও করিমগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নেতাকর্মীসহ ভুক্তভোগী কয়েকশ’ মানুষ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ হরতালে অংশ নেন।

করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন চৌধুরী, বিএনপির উপজেলা সভাপতি রফিকুর রহমান, জামায়াতে আজিজুর রহমান ও বণিক সমিতির সাধারণ বুলবুল চৌধুরী হরতালে যোগ দেন।
হরতাল শেষে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।

লক্ষ্মীপুর: অব্যাহত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন লক্ষ্মীপুরের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও। জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। ফলে সকাল ১০টা থেকে  বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ সারাদেশের সঙ্গে জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

অবরোধের ফলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ কয়েকবার চেষ্টা করেও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১০

মেহেরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
আশুলিয়ায় জুয়া খেলার সময় আটক ৫
অসহায় তিন পরিবারের পাশে ঈশ্বরদীর ইউএনও   
ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাবিতে সান্ধ্য কোর্স চালু
রূপগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন


অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মেশিন ধ্বংস-জরিমানা
পুলিশের ভুলে একদিন জেল খাটলেন নিরপরাধ মিজান
মধুপুরে থাই রাষ্ট্রদূতের কৃষি খামার পরিদর্শন
কুষ্টিয়ায় যুবককে কুপিয়ে-পায়ের রগ কেটে হত্যা
ভৈরবে মাদকদ্রব্য অফিসে আগুনের ঘটনায় মামলা