উদ্বোধনী দিনে পদ্মাসেতুতে ট্রেন চলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই রেলপথ চালু  হবে কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুতে রেলপথ বসানো নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা: পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই রেলপথ চালু  হবে কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুতে রেলপথ বসানো নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, রেললাইন বসানোর জায়গা রেখে সেতু তৈরিতে আগ্রহী থাকলেও লাইন বসানোর ব্যাপারে অনীহা রয়েছে  উন্নয়ন সহযোগীদের।

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতু নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে রেললাইন বসানো না হলে ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুতে রেলপথ বসাতে চাইলেও সমস্যা হতে পারে।’

তারা বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় রেলপথ স্থাপনে কোনো পরিবর্তন-পরিমার্জন করা যতটা সহজ হবে, সেতু চালু হওয়ার পর তা ততটা সহজ হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, প্রথম থেকেই উন্নয়ন সহযোগীরা পদ্মা সেতুতে রেলপথ স্থাপনে অনীহা দেখাচ্ছে। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত থাকায় তারা এখন রেলপথ বসানোর ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তারা  বলছে, পদ্মা সেতুর নকশা অনুযায়ী রেলপথের সংস্থান থাকবে। তবে তারা রেলপথ নির্মাণ করা হবে না। এটি বাংলাদেশ সরকারকেই করতে হবে।

পদ্মা সেতুতে রেলপথ স্থাপনে ১শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে সূত্র জানায়।

ওই রেলওয়ে কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং রেলপথ স্থাপনের কাজ একসঙ্গে শুরু করতে না পারলে উদ্বোধনের দিন ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা খুবই কম।’

তবে রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাগরকৃষ্ণ চক্রবর্ত্তী বাংলানিজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে রেলপথ চালুর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ঢাকা-যশোর, ঢাকা-মাগুরায় রেলপথের কাজ হবে। কোনো কারণে প্রথম দিন থেকে রেলপথ চালু না হলে পরবর্তীতে তা করা হবে।’

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (কারিগরি) ও প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, রেলপথ রেখেই পদ্মা সেতুর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই যাতে ট্রেন চলাচল শুরু করা যায় সে লক্ষ্যেই চেষ্টা চলছে।

সেতুর নকশায় দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন চলাচল করতে পারবে উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলের সুযোগ থাকবে এ সেতুতে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী পদ্মাসেতুটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

এ সেতু নির্মাণ করা হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলা রাজধানী ঢাকা ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক এ এম এম শফিউল্লাহ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকে রেলপথ চালু হলেই ভালো হয়।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ’ডে ওয়ান বা প্রথম দিন থেকে রেলপথ চালু করার ইচ্ছে আছে আমাদের। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর।’

তিনি আরো জানান, পদ্মা সেতুতে রেলপথ স্থাপনের জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগীদের অনুরোধ করা হয়েছে। এবিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।  

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এক প্রকল্পে এত বড় ঋণসহায়তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর পাওয়া যায়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫৫ কোটি ডলার, জাইকা ৩৫ কোটি ডলারসহ মোট ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালে শেষ করার কথা। তবে বিশ্বব্যাংক বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ করতে না পারলে আরও ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ পরিকল্পনা কর্মকর্তা-৪ এস. এম. সলিমুল্লাহ বাহার বাংলানিজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘সেতু নির্মাণের পর রেলপথ স্থাপন করতে হলে সরকারকে আরো ১শ’ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। রেলওয়ের পক্ষে এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া খুবই কঠিন।’

নাম প্রকাশ না করা শর্তে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলানিজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘দাতাসংস্থা চাচ্ছে না ওই সেতুতে রেলপথ থাকুক। সড়কপথের ব্যাপারেই তাদের বেশি উৎসাহ। তাই  সড়কপথ নির্মাণ প্রকল্পে তারা দ্রুত সহযোগিতা করে। কিন্তু রেলওয়ের ক্ষেত্রে তারা খুব একটা আগ্রহ দেখায় না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি প্রফেসর ড. এ এম এম শফিউল্লাহ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘সড়ক পথের ব্যাপরে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সড়ক পথের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের আগ্রহ বেশি। অপরদিকে এডিপি ও কানাডিয়ান রেলপথের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

উন্নয়ন সহযোগীরা যদি রেলপথ না করে দেয় তাহলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা ব্যবস্থা করবে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন।

২০০৫ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রকল্পের সম্ভাব্য যাচাই করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে মাওয়া-জজিরা পয়েন্টে বাংলাদেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়, যার দৈর্ঘ্য হবে ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার।

বর্তমান মহাজোট সরকার মতায় এসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবারও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ প্রকল্প হাতে নেয়। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নকশা প্রণয়নের জন্য এডিবিকে দায়িত্ব দেয় সরকার। ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভায় পদ্মা সেতুর বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১০

যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত
বানরের খামচি খেয়ে যুব বিশ্বকাপ শেষ অজি ব্যাটসম্যানের
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজশাহীবাসী
‘পাহারার নামে সন্ত্রাসীরা ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে’
কারাগারে শূন্যপদে ১১৭ চিকিৎসক নিয়োগে নির্দেশ


বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে থাকবে বিজিবি
করোনা ভাইরাস: চীনফেরত বাংলাদেশিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে
বিএনপি অতীতে কেন এজেন্ট দিতে পারেনি প্রশ্ন কাদেরের
ডিএনসিসিতে ৮৭৬ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ
খালেদার ১১ মামলায় অ‌ভি‌যোগ গঠন শুনা‌নি ১৫ এপ্রিল