php glass

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তিসহ ৫১টি সুপারিশ বিশেষ কমিটির

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানের বিলুপ্তি এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বহাল রাখার সুপারিশসহ ৫১ দফা সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। আগামী ৮ জুনের মধ্যে এসব সুপারিশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধানের বিলুপ্তি এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বহাল রাখার সুপারিশসহ ৫১ দফা সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি।

আগামী ৮ জুনের মধ্যে এসব সুপারিশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। এরপরের কার্যক্রম নির্ধারণ করবে জাতীয় সংসদ।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ২৭তম বৈঠকে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্যরা এসব সুপারিশ  চূড়ান্ত করেন।

এই প্রতিবেদনের কপি বাংলানিউজের কাছে আছে।

এসব সুপারিশের ৩টি বিষয়ে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন কমিটির সদস্য রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু।

বামপন্থী এই দুই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিধান বহাল রাখায় এই নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
 
সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ কমিটি অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী এবং এদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এবং এ অভিযোগে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত করা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে এখন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের সুপারিশের বিধান সংযোজনেরও সুপারিশ করেছে।

কমিটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত বিধানাবলী সংশোধন-অযোগ্য করে এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এমনকি ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রেও অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

বিশেষ কমিটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে সংযোজনের সুপারিশ করেছে।

৫১ টি সুপারিশে বিশেষ কমিটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সম্বলিত সংবিধানের ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ) এবং ৫৮(ঙ) অনুচ্ছেদের বিলুপ্তির  সুপারিশ করেছে।

এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পদ সম্পর্কিত ১৪৭ অনুচ্ছেদও বিলুপ্তির সুপারিশ  করেছে কমিটি।

সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০ এ উন্নীত করে সম্পর্কিত সংবিধানের ৬৫(ক)(৩) অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে ‘পয়তাল্লিশটি আসন’ শব্দের পরিবর্তে ‘পঞ্চাশটি আসন’ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কিত ৬৬ অনুচ্ছেদে নতুন উপ-দফা (ঙ) প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দ-িত হইয়া থাকেন’। এর ফলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিতরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর প্রার্থী  হতে পারবেন না।

ভোটার তালিকায়ও যুদ্ধাপরাধীদের নাম অর্ন্তভুক্তি অযোগ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নামভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশে যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন’। এর ফলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিতরা আর ভোটার হতে পারবেন না।

বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। এতে বলা হয়েছে, ৭০(১)  ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত  হইলে  তিনি যদি- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দান করেন, তাহা হইলে তাহার আসন  শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না’।

বিচারকদের অপসারনের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছেই রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত ১১৮ অনুচ্ছেদে সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কিত ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করে বলা হয়েছে, ‘৩(ক)মেয়াদ অবসানের কারনে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববতী নব্বই দিনের মধ্যে এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনও কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে’ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থার মেয়াদ নির্ধারণ সম্পর্কিত সংবিধানের ১৪১ (ক) অনুচ্ছেদে সংশোধনের সুপারিশ করে ‘অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য’ শব্দগুলো যোগ করার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।

সংবিধানের শুরুতেই এবং প্রস্তাবনার উপরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শব্দটি বহালের সুপারিশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ শব্দটি যোগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত করার কথা বলেছে তারা। প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের পুরোটাই পরিবর্তন এনেছে কমিটি।

এখানে ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে যেসকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিলো- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূল নীতি হইবে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম অধিকার নিশ্চিত করিবেন’ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

জাতির পিতা সম্পর্কিত সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ‘প্রতীক ও জাতির পিতা প্রতিকৃতি’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপন এবং এতে নতুন দফা ৫ সংযোজন করা হয়েছে। নতুন দফা ৫-এ বলা হয়েছে, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশন  সমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে’।

এই অনুচ্ছেদ সংযোজনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি স্থাপন সম্পর্কিত সংবিধানের ৪ (ক) অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে এখন থেকে শুধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিই সর্বত্র স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হলো।

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তির বিধান রেখে ৭(ক) নামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সংযোজনের সুপারিশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ৭(ক) ১ (ক) ‘এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে কিংবা (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে’।

এতে আরো বলা হয়, (ক) দফা (১) এ বণির্ত কোন কার্য করিতে সহায়তা কিংবা সহযোগিতা করিলে কিংবা (খ) দফা (১) এ বর্ণিত কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে তাহার এই কার্য একই অপরাধ হইবে।

৭(ক) এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি সংসদের আইন দ্বারা অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে’।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য করে ৭ (খ) নামে আরো একটি নতুন অনুচ্ছেদ যোগ করার প্রস্তাব করেছে বিশেষ কমিটি। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের ১৪২ অন”চ্ছদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদ সমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয়ভাবের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের অনুচ্ছেদ ১৫০ সহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সমূহের বিধাবালী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অ-যোগ্য হইবে’।

রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮ এর দফা ১ ও দফা (১ক) এর পরিবর্তে ‘(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উ™ভুত এই ভাগে বর্ণিত অন্যসকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে পরিগণিত হইবে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত নবম অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে এতে বলা হয়েছে, ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্ত্বা বিশিষ্ট যে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যকদ্ধ ও  সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙ্গালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি’।

সমাজতন্ত্র ও শোষন মুক্তি সম্পর্কিত ১০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ‘মানুষের ওপর মানুষের  শোষন হইতে মুক্ত ও ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে’।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত ১২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি  বাস্তবায়নের জন্য ৪টি উপধারা সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, (ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারি ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।

পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষন সম্পর্কিত ১৮(ক) অনুচ্ছেদ নামে  নতুন অনুচ্ছেদ সংযোজন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় জীবনে মহিলাদের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত ১৯ অনুচ্ছেদে নতুন উপধারা সংযোজন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

 ১৯(৩) নতুন এ উপধারায় বলা হয়, ‘জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’।

উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠী ও  সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশ সম্পর্কিত  ২৩(ক) নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র বিভিন্ন উপ-জাতি, ক্ষুদ্র জাতি স্বত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের  অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও  বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন’।

মুসলিম দেশ সমুহের সাথে সংহতি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ২৫ এর  দফা (২) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে কমিটি। বহুল আলোচিত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির  অধিকার সম্পকির্ত ৩৮ অনুচ্ছেদেও বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।  

এতে বলা হয়েছে, ‘৩৮(১) জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে; তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির  উক্ত রূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি- (ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। (খ)  উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ,  নারী-পুরুষ,  জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য  সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে  গঠিত হয় (গ)  উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় বা (ঘ) উহার  গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।

প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে কমিটি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল, সংবিধান্ বিশেষজ্ঞ, সাবেক প্রধান বিচারপতি, পত্রিকা সম্পাদক, সুশীল সমাজের মতামত নিয়েছে। এছাড়া সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম কমিটির কাছে মতামত দিয়েছে।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সকলের মত গ্রহণ করা সম্ভব না হলেও এগুলো সংরক্ষণ করবে কমিটি।’

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, জুন ৫, ২০১১

অবশেষে তালিকা হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের
‘সংগ্রামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
রায়েরবাজার সৌধে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী সৌধে জনতার ঢল
হানাদারদের রুখতে বোমা ফেলা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজে


চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনকে হারানোর এক বছর
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অনশন স্থগিত
১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ মুক্ত দিবস
সাভারে বিদেশি পিস্তলসহ ইউপি সদস্য আটক