php glass

সাধারণের প্রতিক্রিয়া

হরতালে ক্ষতির পাল্লাই ভারি হবে বিএনপি’র

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বিএনপির আহুত চতুর্থ এই হরতাল সম্পর্কে জনগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ। যাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই হরতালের বিকল্প কর্মসূচি পালনের তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা: বিএনপির আহুত চতুর্থ এই হরতাল সম্পর্কে জনগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ। যাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই হরতালের বিকল্প কর্মসূচি পালনের তাগিদ দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, হরতালে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই ভারি হবে বিএনপির।

তারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যসহ জনগণের নানা দুর্ভোগের কারণে আওয়ামী লীগের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছে জনগণ। বিএনপির জন্য এটা সহায়ক হতে পারে। কিন্তু হরতালের আগের দিন বাস পুড়িয়ে, রাস্তায় ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপি উল্টো সাধারণ মানুষকে নিজেদের বিপক্ষে ঠেলে দিচ্ছে।

এর আগে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খালেদা জিয়া, তারেক জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের নামে হামলা মামলার প্রতিবাদে ১৪ জুন ২০১০ সালে প্রথম হরতাল পালন করা হয়।

ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে ঈদের ৩ দিন পুর্বে ১১ নভেম্বর ২০১০ এবং সর্বশেষ আড়িয়ল বিলের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে আসামি করার প্রতিবাদে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে হরতাল আহ্বান করা হয়।

এর মধ্যে দ্বিতীয় দফা হরতালে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি থাকলেও সেটি অনেকটা থেকেছে অনুচ্চারিত। এ কারণে জনগণ মনে করছে বিএনপি এখনও শুধু তাদের শীর্ষ নেতাদের বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তার পুত্রদের মামলা এবং বাড়ি রক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। জনগণের সমস্যার কথা তাদের মুখে সার্বিক গুরুত্বসহ সেভাবে উচ্চারিত হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেছেন, জনগণ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে তুষের আগুনে জ্বলছে। বিএনপির সে বিষয়ে তেমন মনোযোগ নেই। দেশের জনগণ চায় তারা সংসদে এবং সংসদের বাইরে দ্রব্যমূল্য নিয়ে জোর প্রতিবাদ করুক। হরতাল কোনও সুস্থলোক সমর্থন করতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর রিকশাচালক (কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাসিন্দা) আমীর বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিএনপি কী কারণে হরতাল ডেকেছে জানি না। সব গজব গরিবের উপর এসে পড়ে। বড়লোকদের ১ দিন কেন ১ মাস হলেও তো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের একদিন রিকশা না চালালে উপোস থাকতে হয়। ’

তিনি বলেন অন্যদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার প্রায় ২ শ হতে ২৫০ টাকা আয় হয়। কিন্তু আজকে হরতাল থাকায় তার দুপুর পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ১ শ টাকা। সারাদিনে রিকশার ভাড়াই দিতে হয় ১২০ টাকা এ ছাড়া থাকা এবং খাওয়ার খরচতো রয়েছেই।

হরতালের দিনে রাস্তায় বাস কম থাকে তাহলে রিকশার ভাড়া বেশি হওয়ার কথা এবং হরতালের দিনে কমবেশি সব রাস্তায় রিকশা যেতে পারে সে হিসেবে হরতালের দিনে বেশি আয় হওয়ার কথা-- এ যুক্তি তুলে ধরার হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘হরতালের দিনে মানুষ খুব সমস্যায় না পড়লে বাসা থেকে বের হতে চায় না । সে কারণে হরতালের দিনে আমাদের ক্ষতি হয়।’

সিএনজি অটোচালক ভোলার বড়নদী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, ‘কী কারণে হরতাল ডাকা হয়েছে জানি না। আমি কখনই হরতাল চাই না।’

তিনি বলেন প্রতিদিন সকাল ৮ টায় রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ টাকা ভাড়া খাটতে পারি। কিন্তু আজকে হরতাল থাকায় এখন ( দুপুর ১ টা) পর্যন্ত মাত্র ২ শ টাকা ভাড়া খেটেছি। দিন শেষে ৬ শ টাকা ভাড়া দিতে হবে সে চিন্তায় আছি।

মহাখালী এলাকায় ভ্রাম্যমান পত্রিকা বিক্রেতা ইয়াছিন আলী বলেছেন, ‘হরতালে আমাদের ব্যবসা বেশি হয়। সেই সাথে যদি গরম খবর থাকে তাহলে তো কথাই নেই। আজকে ৮০ কপি বাংলাদেশ প্রতিদিন নিয়েছিলাম দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। অন্যান্য পত্রিকার বিক্রিও অন্যদিনের তুলনায় বেশি।‘

মহাখালী ওয়ারলেস মোড়ের পান-সিগারেট বিক্রেতা হাসান বলেন, ‘আমার এই দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয়। যে ভাব দেখছি গোলমাল মনে হয় হইবই। সে কারণে দোকান বন্ধ করতাছি।’
তিনি বলেন এই দুই দল গুঁতাগুঁতি করতাছে আর মরতাছি আমরা। হ্যা গো তো কোনও সমস্যা নাই। তাগো তো চাউল কিন্যা খাওন লাগে না। তারা মানুষের কষ্ট বুঝব কেমনে!’

তার মতে, ‘হরতাল করা উচিত চালের দাম এবং বাস ভাড়া কমানোর লাইগা।’

মৌসুমী ফলবিক্রেতা দেলোয়ার বলেন, ‘কোন বিকিকিনি নাই। অথচ আজকে বিক্রি করতে না পারলে আমার ৫ হাজার টাকার লিচু, ২ হাজার টাকার আম এবং ৮ শ টাকার জাম পচে নষ্ট হয়ে যাবে।’

কাকলী বাসস্ট্যান্ড মোড়ের ফল বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘এখানে গোলমাল হইতে পারে সে কারণে আমি দোকান বন্ধ কইরা রাখছি। কিন্তু আমার দোকান ভাড়া, সংসার খরচসহ অন্যান্য খরচ তো থাইমা থাকবা না। হরতাল না অইলেই ভালো।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলেই তাদের ঢাল হিসেব হরতালকে ব্যবহার করে। এরা আসলে কেউ জনগণের মঙ্গল করতে চায় না। মানুষের কষ্টও বুঝতে চায় না।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা গার্ড লিপি বেগম বাংলানিউজকে বলেন, আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পরে আর খোঁজ নেয়নি আমাদের। সংসার চালাতে না পেরে ৩ মেয়ে ৩ বোনের বাড়িতে রেখেছি। যা আয় করি একার সংসারই চলে না। অনেক আশা নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলাম আর কোন দিন ভোট দিতেই যাবো না।’

গার্মেন্টকর্মী শিউলী রানী বলেন, ‘আমাদের লাভ ক্ষতি কিছুই নেই। হরতাল হলে আগের তারিখের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গার্মেন্টস খোলা রেখে কাজ করায়া নেয় মালিকরা।‘

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘন্টা, জুন ০৫, ২০১১

ঘটছে দুর্ঘটনা, তবুও উল্টো পথে চলছে গাড়ি
কাতারকে হারিয়ে গালফ কাপের ফাইনালে সৌদি আরব
লন্ডনের বাতাসে নিশ্বাস ১৬০টি সিগারেট গ্রহণের সমান!
আড়াইহাজারে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক
কাউখালীতে খামারে আগুন, ২ হাজার মুরগি পুড়ে ছাই


হাই হিল জুতায় হতে পারে যেসব ক্ষতি
বিকল্প শক্তি গড়তে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে
‘সরকার দেখে না, আর গিরস্থি করতাম না’
ফাওয়াদ আমলা না কী ফাওয়াদ আলম?
কাতারে বাংলাদেশি হাফেজদের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য